প্রায় সাড়ে দেড় দশক পর বাংলাদেশ পেল পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক শপথের পর তারেক রহমান হলেন সেই পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। যদিও গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই সেই ইতিহাস অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। তবে একই সময়ে বিরোধী দলেও ছিলেন মহিলা নেতৃত্ব। যদিও সরকারে থেকেও জাতীয় পার্টি নিজেদের বিরোধী দল হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল।
সূত্র মতে, গত প্রায় সাড়ে তিন দশক দেশের ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন মহিলা নেতৃত্ব। ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাদ দিলে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে দুই নারী নেত্রী ঘিরে। তারা হলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।
১৯৯১ সালে এরশাদের পতনের পর খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এরপর শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করেই রাজনীতির মূল স্রোত প্রবাহিত হয়। দীর্ঘ এ সময়কে অনেকেই বলেন ‘দুই নেত্রীর যুগ’। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। এরপর একাধিক পুরুষ নেতা দায়িত্ব পালন করলেও ১৯৯১ থেকে শুরু হয় নারী নেতৃত্বের দীর্ঘ অধ্যায়। কিন্তু ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান, শেখ হাসিনার পালিয়ে দেশত্যাগ এবং গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়ার মৃত্যু- এ ঘটনাপ্রবাহে সেই অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে নেতৃত্বের দৃশ্যে ছিলেন না কোনো নারী। নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান হলেন দেশের নবম পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। এর আগে ১৯৮৯-১৯৯০ সালে কাজী জাফর আহমদ ছিলেন সর্বশেষ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে পুরুষ নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তন ঘটছে। ১৯৭১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দেশের শাসন ছিল পুরুষ নেতৃত্বের হাতে। ১৯৯১ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত ছিল নারী নেতৃত্বের হাতে।