জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে নই, কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধেও নই। আমরা সিস্টেমের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, যদি এই এলাকায় চাঁদাবাজি চলে এবং তার পাহারাদার হিসেবে কেউ দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের লড়াই তাদের বিরুদ্ধেই হবে।
মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যদি অপরাধীদের একটি র্যাঙ্কিং করা হয়, তাহলে মির্জা আব্বাস অন্যতম শীর্ষে থাকবেন।
তিনি দাবি করেন, আজ আমি বেঁচে থাকতে এ কথা বলছি। ভবিষ্যতে মানুষ প্রমাণ পাবে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গডফাদারদের একজন তিনি।
আগের দিনের প্রচারণায় হামলার অভিযোগ তুলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গণতন্ত্র রক্ষার স্বার্থে তারা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত সহনশীল থাকার চেষ্টা করছেন। তবে সহিংসতা ও ভয়ভীতির রাজনীতির বিরুদ্ধে অবস্থান থেকে তারা সরে আসবেন না বলেও জানান।
তিনি মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব বিষয় ঢাকার সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকেও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, দলীয় নেতৃত্ব কীভাবে এ ধরনের ব্যক্তিদের স্থায়ী কমিটিতে জায়গা দেয়, তা জাতির কাছে পরিষ্কার হওয়া দরকার। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি একাধিক আসনে বিতর্কিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রার্থী করেছে।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, ভোটের আগেই নির্বাচন কমিশন ঋণখেলাপি ও দুর্নীতিবাজদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোকে কেউ যদি বেয়াদবি বলে, তাতে তার আপত্তি নেই। তিনি দাবি করেন, ইনসাফভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে জীবনভর সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন।