দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জামায়াতের ব্রিফিং
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি বলেছেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৫৩টি আসনে ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনে যে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে তার প্রমাণ সাবেক উপদেষ্টা রেজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক বক্তব্য।
গতকাল বৃহস্পতিবার দেশে বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. তাহের সাবেক উপদেষ্টা এডভোকেট রিজওয়ানা হাসানের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে বলেন, সম্প্রতি তিনি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেছেন, ‘যারা নারীদের উপযুক্ত অধিকার নিশ্চিত করতে পারেনি, তারা বিরোধীদলে থাকলেও আমরা তাদের মূলধারা বা প্রধান শক্তি হিসেবে আসতে দিইনি।’ এই বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয় যে, জাতীয় নির্বাচনে যে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে, তিনি নিজেই তা স্বীকার করে একপ্রকার রাজসাক্ষী হলেন।
তিনি বলেন, আমরা এখন তার কাছে, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এবং বর্তমান সরকারের কাছে জানতে চাই- কেন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি দলকে মূলধারা বা প্রধান দল হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন থেকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক ওই উপদেষ্টার কাছে আমরা জানতে চাই, এই ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ায় তার সঙ্গে আরও কারা জড়িত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, তাদের বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে যে, সাবেক এই দুই উপদেষ্টা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এদের দ্রুত জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
জামায়াতের নায়েবে আমীর বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান প্রসঙ্গে বলেন, বিএনপিকে ক্ষমতায় আনতে লন্ডনে একটি বিশেষ বৈঠকে পরিকল্পনা করেছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকে তিনি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভূমিকা রেখেছেন বলে মনে করে জনগণ। কারণ তার ভূমিকার পুরস্কার হিসেবেই বিএনপি সরকারের মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেয়েছেন তিনি। এজন্য তাকে বিচারের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব সত্য বেরিয়ে আসবে।
ডেপুটি স্পিকার পদে নাম প্রস্তাব প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে সংবিধানের আলোকে লিখিত প্রস্তাব পাওয়া গেলে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট হলে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখব।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে ডা. তাহের বলেন, গত কয়েক দিনে বেশ কয়েকটি শিশু ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এছাড়া সারাদেশে সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের ছত্রছায়ায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো-ন্যায়বিচার পাওয়া তো দূরের কথা, এসব ঘটনায় অনেক ক্ষেত্রে থানা মামলা নিতেও গড়িমসি করছে।
দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের ব্যাপারে তিনি বলেন, তাদের সাথে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, ব্যবসায়-বাণিজ্য বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে এবং তাদের এআই সেক্টরে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছি। আমরা ইসরাইল-ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে তাদের বলেছি যে, আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। কূটনৈতিক চ্যানেলে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে সব সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জাহিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট শিশির মো. মনির।