বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, গণভোট অধ্যাদেশের সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গণভোট বাতিল হলে আইনগত হুমকির মুখে পড়বে নির্বাচিত সংসদ।
গতকাল সোমবার দুপুরে হাইকোর্টের এনক্সে ভবনের সামনে জামায়াতের আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনে শিশির মনির এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে গণভোট বাতিলের কোনো সুযোগ নেই। আপনারা জানেন যে, গণভোট অধ্যাদেশের সাথে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুতরাং, যদি গণভোট বাতিল করা হয়, তবে নির্বাচিত সংসদ আইনগত হুমকির মুখে পড়বে। নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী ঘোষিত তফসিলে অনুষ্ঠিত গণভোট বাতিল হলে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলও বাতিল হয়ে যাবে।
গুম ও মানবাধিকার কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করতে চেয়েছেন, একই সাথে মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল চেয়েছেন। কি কারণ দেখিয়েছেন জানেন? ইন্টারেস্টিং, তারা বলেছেন গুম এবং খুনের সাথে সরকারের সংবেদনশীল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী জড়িত আছে মর্মে এই আইনটি পাশ করার দরকার নাই। মানবাধিকার কমিশনকে তদন্ত করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছিলÑএখন তারা বলছেন এই আইনগুলো ল্যাপস হয়ে যাবে। আমরা মনে করি দিস ইজ এ ডিজরিগার্ড টু দ্য হোল রিফর্ম প্রসেস।"
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংক্রান্ত যে সংশোধনী অধ্যাদেশ আছে, এটাও তারা বাদ দিতে চান। সেখানে বলা ছিল দুদকের মহাপরিচালক এবং পরিচালকগণকে একটা সার্চ কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ করা হবে। সরকার চাইলেই হায়ার এবং ফায়ার করতে পারবেন না। এখন তারা বলছেন এই সার্চ কমিটির বিধানটাকে তারা বাতিল চান। তাহলে দুদকের মহাপরিচালক কিভাবে অ্যাপয়েন্টেড হবেন? সরকার যারে চাইবেন তাকেই বসাবেন, যাকেই বাদ দিতে চাইবেন তাকেই বাদ দেবেন।"
বিচারক নিয়োগ ও সুপ্রিম কোর্ট প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশকে উনারা বলেছেন অসাংবিধানিক। অথচ হাইকোর্ট ডিভিশন এই রিট পিটিশন সামারিলি রিজেক্ট করে দিয়েছেন। এখন এসে বলছেন এই অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমটা অসাংবিধানিক। তাহলে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ হবে কী করে? আগের মতো কানাকানি করে? আগের মতো টেবিলের নিচে দিয়ে? কে কার জুনিয়র আর কে কার সিনিয়র, কার বাড়ি কোথায়, কার রাজনৈতিক পরিচয় কীÑএইভাবে নিয়োগ দিবেন?"
বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "সচিবালয় অধ্যাদেশের মধ্যে সেকশন সেভেনে তারা পরিবর্তন চান। কি পরিবর্তন? 'সরকার উপযুক্ত মনে করিলে গ্যাজেট নোটিফিকেশন এর মাধ্যমে কার্যকর করতে পারবে'। এই 'সরকার উপযুক্ত মনে করলে' কথা যোগ করতে চান। এই সরকারের উপযুক্ততার নীতি থেকে বের হওয়ার জন্যই তো এত সংগ্রাম। সরকার উপযুক্ত মনে করিলে বদলি হবে, মঞ্জুরি হবে, ছুটি হবেÑতাহলে অধস্তন বিচারকদের স্বাধীনতা কোথায় থাকবে?"
ব্যাংক ও মানি লন্ডারিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্যাংক রেগুলেশন অধ্যাদেশ নামে একটি অধ্যাদেশ আছে যার মাধ্যমে কতিপয় ব্যাংককে একত্রীকরণ করা হয়েছে এবং যারা টাকা লন্ডারিং করেছেন তাদের বিচারের রোডম্যাপ আছে। তারা বলছেন এই আইনটাকেও ল্যাপস করে দিতে চান। কেন? তাহলে কি মানি লন্ডারিংয়ের চাপে পড়েছেন? যারা ব্যাংক খালি করল, তাদের কি সেফ প্যাসেজ করে দিচ্ছেন? মেজর সংস্কার পরিকল্পনা আছে যে সমস্ত অধ্যাদেশে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ১২টাকে ল্যাপস করে দিচ্ছে। তাহলে এই পুরা ১৮ মাসের সংস্কার প্রক্রিয়াকে দে আর ডিনাইং। আমাদের কনসার্ন হলোÑগভর্নমেন্ট শুড নট টেক দিস টাইপ অফ ড্রাস্টিক মেজার। পার্লামেন্টকে মেজরিটির ভাবে ব্যবহার করে এগুলো করা উচিত না।