আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এই ভোটের মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হবে দেশের আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপথ। সারা দেশের মতো মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং–টঙ্গীবাড়ী) আসনেও বিরাজ করছে নির্বাচনী উৎসবমুখর পরিবেশ ও উত্তেজনা।
লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত এ সংসদীয় আসনটি পদ্মা নদীবেষ্টিত হওয়ায় ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা–মাওয়া–ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও পদ্মা সেতু এই আসনের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৪২৮ জন। এর মধ্যে লৌহজং উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩১৭ জন—পুরুষ ৮৮ হাজার ৯৪২ জন এবং নারী ৮৫ হাজার ৩৭৫ জন। পুরো আসনে ভোটকেন্দ্র ৫৫টি এবং ভোটকক্ষ ৩৫৮টি।
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ভোটগ্রহণের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনী এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এবার মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন—১১ দলীয় ঐক্যজোটের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী মাজেদুল ইসলাম, বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান নোমান মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কেএম বিল্লাল হোসেন এবং ইসলামীক ফ্রন্টের চেয়ার প্রতীকের প্রার্থী আশিক মাহমুদ।
প্রচার-প্রচারণা, গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভা শেষ করে এখন প্রার্থীরা ব্যস্ত জয়ের অঙ্ক কষতে। ভোটারদের মন জয় করতে শেষ মুহূর্তের নানা হিসাব-নিকাশ চলছে।
একসময় মুন্সীগঞ্জ-২ আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। এখান থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় নেতা ও দানবীর হিসেবে পরিচিত শিল্পপতি মো. মিজানুর রহমান সিনহা। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নৌকা প্রতীকে সাগুফতা ইয়াসমিন এমেলী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়।
এবার প্রথমে বিএনপি থেকে আবারও মিজানুর রহমান সিনহাকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও অসুস্থতার কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পরে দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন ও যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে। শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের টিকিট পান অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ।
এখন প্রশ্ন একটাই—বিএনপি কি এই আসন পুনরুদ্ধার করতে পারবে, নাকি ১১ দলীয় ঐক্যজোটের শাপলা কলি প্রতীক নতুন চমক দেখাবে? গ্রাম-গঞ্জ, হাটবাজার, চায়ের দোকান—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এই প্রশ্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে নতুন ভোটার, তরুণ-তরুণী ও নারী ভোটারদের ভূমিকা হবে নির্ণায়ক। তারা যে দিকে ঝুঁকবে, সেই প্রার্থীর গলায়ই উঠতে পারে জয়ের মালা।