রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার চারজন ॥ সর্বশেষ শেরপুরে জামায়াত ইসলামীর নেতা নিহত
প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ৭৩টি
প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ৯টি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৮ দিনে দেশজুড়ে ঘটে যাওয়া সহিংস ঘটনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০০। এ সময় বিবদমান দলগুলোর মধ্যে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন চারজন। সর্বশেষ, বুধবার শেরপুরে প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। এ সময় উভয়পক্ষের আরও বেশকজন নেতাকর্মী কমবেশি আহত হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সহিংস ঘটনা বাড়ছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন গত ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণে তফসিল ঘোষণার পর থেকে যে হারে রাজনৈতিক হত্যাকান্ডসহ অপরাপর অপরাধ ঘট, তাতে করে সংঘাতপ্রবণ জেলাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে না পারলে নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করেন অপরাধ বিশ্লেষকরা। এর ফলে নির্বাচনের সমতল মাঠ সৃষ্টির বদলে সহিংসতা বাড়বে।
পুলিশ সদর দফতরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৪৮ দিনে সারা দেশে ২০০টি নির্বাচনী সহিংসতার মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ৭৩টি। এছাড়া ভয়ভীতি দেখানো এবং আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটেছে ১৫টি, প্রার্থীর ওপর আক্রমণের ঘটনা ৯টি, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার দুটি। এর বাইরে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ৮টি, প্রচারকাজে বাধা প্রদানের ঘটনা ২২টি, নির্বাচনসংশ্লিষ্ট অফিস ও প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ১৪টি, অবরোধ-বিক্ষোভের মতো ঘটনা ১১টি, সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণের ঘটনা একটি এবং অন্যান্য ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। সুত্র অনুযায়ী, এসব ঘটনা ২৬টি জেলা এবং তিনটি মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকায় ঘটেছে। এর মধ্যে কুমিল্লা ও লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে চার দফা করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, যা অন্য জেলাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
শেরপুরের হত্যাকান্ডের ঘটনা ছাড়াও অন্য তিনটি রাজনৈতিক হত্যার হিসাব দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। এর মধ্যে রয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদী হত্যার ঘটনা। গত ১২ ডিসেম্বর তাকে রাজধানীর পল্টন থানাধীন বক্সকালভার্ট রোডে গুলী করে দুর্বৃত্তরা। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এছাড়া গত ২৪ ডিসেম্বর গাজীপুরের শ্রীপুরে জাসাস নেতা ফরিদ সরকার হত্যা ও ১৬ জানুয়ারি ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলায় স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেলের সমর্থক মো. নজরুল ইসলাম হত্যার তথ্যও দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।
পুলিশের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে কুমিল্লা জেলায়। গত ১৯ জানুয়ারি এ জেলার চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকার সমেশপুর এবং তেলিপুকুর এলাকায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর অফিস ও সমর্থকদের বাড়িতে ভাংচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুভপুর ও মুন্সীরহাট বাজারে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর ২০ জানুয়ারি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার উজিরপুরে ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর উঠান বৈঠকে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেয়া বক্তব্যের জের ধরে বিএনপি নেতাকর্মীরা জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘাতে জড়ায়। এ ঘটনায় চেয়ার ছোড়াছুঁড়িসহ একটি গাড়ির সামনের গ্লাস ভাংচুর করা হয়। পাশাপাশি একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয়। এ সময় তিন-চারজন আহত হন। এ ঘটনার ঠিক দুদিন পর ২২ জানুয়ারি কুমিল্লার হোমনা থানা এলাকার পুরনো বাসস্ট্যান্ড ওভারব্রিজের নিচে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এমএ মতিনের বহরে হামলা ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন। পরে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর ২৫ জানুয়ারি কুমিল্লা সদরে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের ঘটনা ঘটে। কুমিল্লার পর সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে লক্ষ্মীপুরে। ১৫ জানুয়ারি এ জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার চরশাহী ইউনিয়নের সৈয়দপুর বটতলা এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নারী কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে চকোলেট বিতরণ এবং নারীদের এনআইডি কার্ডের ছবি ও বিকাশ বা নগদ নম্বর সংগ্রহ করছেন, এমন সংবাদ পেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা গিয়ে তাদের বাধা দেয়। পরে স্থানীয় জামায়াতপন্থী নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিত-া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপির চার-পাঁচজন এবং জামায়াতের একজন সমর্থক আহত হন। পরদিন লক্ষ্মীপুরের ওই ইউনিয়নেই জামায়াত-বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে আবার সংঘর্ষ হয়। এরপর গত ২২ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের সদর থানার রিফিউজি মার্কেট এলাকায় জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবির কর্মীদের লিফলেট দেয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় দলের একজন করে আহত হন। পরে ২৫ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারের সময় বিএনপি সমর্থকরা বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে জামায়াত ইসলামীর সমর্থক তারেক ইসলাম আহত হয়ে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সর্বশেষ বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আশরাফুল ইসলাম রাসেল, ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসানসহ অতিথিরা মঞ্চে বসে অনুষ্ঠান শুরুর অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলও মঞ্চে ছিলেন। তবে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল তখনও অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাননি। সংঘর্ষের ফলে অনুষ্ঠানই ভ-ুল হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ বাধে। এতে রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই তিনি মারা যান। নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।
প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর ও শেরপুরসহ ২৫টি জেলা ও তিনটি মহানগরে ঘটেছে। এর মধ্যে পাবনা জেলার সাঁথিয়া ও চাটমোহর, বগুড়ার নন্দীগ্রাম, ধুনট ও শিবগঞ্জ থানা; টাঙ্গাইলের সদর, বাসাইল ও গোপালপুর; কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া, অষ্টগ্রাম ও সদর; ফরিদপুরের কোতোয়ালি ও ভাঙ্গা; লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার মিরপুর মডেল ও খিলক্ষেত থানা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী, পদ্মা সেতু (উত্তর) থানা; সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া; পটুয়াখালীর বাউফল ও গলাচিপা; ময়মনসিংহের গফরগাঁও ও ভালুকা থানা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটনের পতেঙ্গা ও বন্দর থানা এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর বাইরে নওগাঁর নিয়ামতপুর ও রানীনগর, চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা ও সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ ও সদর, নেত্রকোনার কেন্দুয়া, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ; রাজশাহী মেট্রোপলিটনের শাহমখদুম, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, বরিশালের মুলাদী, গাইবান্ধার সাঘাটা, মেহেরপুরের সদর, বরিশালের মুলাদী, ফেনীর ছাগলনাইয়া, শরীয়তপুরের পালং এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানা এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনে বেশি সংঘাতের শঙ্কা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এসব আসনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। নির্বাচনকালে সহিংসতা, ভোটকেন্দ্র দখল করতে পারে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সারা দেশে চলমান আছে অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ শান্ত রাখতে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হচ্ছে।
পুলিশ সদর দফতর সূত্র বলছে, নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা ভোটকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালন করবেন। সাম্প্রতিক সময়ের হামলা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি কিংবা কোথাও কোথাও কেন্দ্র দখলের মতো পরিস্থিতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এসব ঝুঁকি বিবেচনায় রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো এবার দেশজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে। সীমান্তবর্তী জেলাগুলোকেও নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে। কিছু প্রার্থীকে সার্বক্ষণিক গানম্যান ও বাড়িতে পুলিশি প্রহরা দেওয়া হয়েছে। আবার যাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি, তাদের ক্ষেত্রে গানম্যান ও বাসাবাড়ির নিরাপত্তার পাশাপাশি দেওয়া হয়েছে পুলিশ প্রটোকলের গাড়ি। অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এএইচএম শাহাদাত হোসাইন বৃহস্পতিবার দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, নির্বাচনী প্রচারে সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষের বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় সব প্রার্থীর সমান অধিকার নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। কেউ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করলে তাকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পুলিশ সর্বাত্মক পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
নির্বাচনের আগে সময় একদমই কম উল্লেখ করে অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, যেসব জেলায় বেশি সংঘর্ষ হচ্ছে, সেগুলোকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। কর্মীদের সংযত করতে দলের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা বলতে যা করা হয়, সেটা হচ্ছে কারণ দর্শানোর নোটিস। এটা তো দুর্বল একটি ব্যবস্থা। এখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেই শক্ত ভূমিকা নিতে হবে। বিবৃতি দিয়ে বা শোকজ করে এসব সহিংসতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এখানে একটাই উপায় সেটা হচ্ছে আইনের কঠোর প্রয়োগ। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে হবে। যেসব এলাকায় এ ধরনের সংঘাত বেশি হচ্ছে, সেখানে নির্বাচন কমিশন যদি দুই-একটি আসনে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে দেখা যাবে অনেকেই এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সহনশীলতা ও প্রশাসনের কঠোর অবস্থান ছাড়া শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। সংঘর্ষ ও সহিংসতার খবরে সাধারণ ভোটারের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে দ্বিধায় পড়বেন তারা। ভোটারদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করাই এখন সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মূল কাজ। এ জন্য সংঘর্ষ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে শৃঙ্খলার বিষয়ে তাদের সহযোগিতা নিতে হবে।