জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল ও এনডিএফ জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) স্মারকলিপি দিয়েছে ‘জুলাই ঐক্য’। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার দিকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা। এ সময় তারা বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল ও এনডিএফ জোটের প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে ১৪০০-এর অধিক ছাত্রজনতাকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে গণহত্যা চালিয়েছিল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সরকার। ৩৬ জুলাই (৫ আগস্ট ২০২৪) বাংলাদেশ যে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্তি পেয়েছিল তার আকাঙক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ। গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনো বিচারের জন্য রাস্তায়। কিন্তু আমরা দেখছি, এই গণহত্যার সঙ্গে জড়িত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী, ডামি প্রার্থী ও জাতীয় পার্টিসহ এনডিএফ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ২৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে গোলাম মোহাম্মদ (জি. এম.) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জাপা)। এই কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদ কায়েমে সহযোগিতা করা হয়।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, গত ১৬ বছর জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগের সহযোগীরা বাংলাদেশে যত গুম, খুন, গণহত্যা ঘটিয়েছে, প্রকাশ্যে তার পক্ষে সহযোগিতা করেছে ১৪ দল। ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে বাংলাদেশ বিরোধী সব ধরনের কাজে লিপ্ত ছিল ১৪ দল। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট ধারণকারী জোট ‘জুলাই ঐক্য’র দাবি অভিলম্বে গণহত্যাকারীদের মনোনয়ন বাতিল করতে হবে। এতে আরো বলা হয়, প্রশাসনের মধ্যে এখনো স্বৈরাচারের দোসররা আছে, যারা ২০১৮ সালের রাতের ভোটের কারিগর, ২০২৪ সালের ডামি নাটকীয় নির্বাচনের অংশ তাদেরই একটি অংশ ২০২৬ সালের নির্বাচনের দায়িত্বে। জুলাই ঐক্য মনে করে, এই প্রশাসন দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাঠ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। যেসব ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে গুলি চালানো হয়, সেসব ম্যাজিস্ট্রেট এখন বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে। জুলাই ঐক্য মনে করে, যারা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে তাদের মাধ্যমে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব নয়। অবিলম্বে তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ মাধ্যমে কোনো একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে চায় রাষ্ট্র। এ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখে সব রাজনৈতিক দলের যেন নির্বাচন কমিশনের ওপর বিশ্বাস থাকে সেই আস্থা দ্রুত সময়ের মধ্যে তৈরি করার দাবি জানাচ্ছি। ২০০৫ সালে বিপুল সংখ্যক নির্বাচন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল। পরে তাদের অনেকেই চাকরিচ্যুত হয়েছিল অযোগ্যতার কারণে। সেই কর্মকর্তাদের অনেকে আবার ফিরে এসেছে। তাদের অনেকেই মাঠ পর্যায়ের দায়িত্বে আছে। সে সময় যেসব কর্মকর্তা নিয়োগ পেয়েছিলেন তারাই সারাদেশের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা। মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের সময় আমরা দেখেছি জেলা প্রশাসকদের ওপর এক কর্মকর্তা ছরি ঘুরিয়েছে, যে কারণে অনেক প্রার্থীর মনোনয়ন বিনা কারণে বাতিল হয়েছে। পরে তাদের অনেকেই আবার প্রার্থিতা ফিরেও পেয়েছে। সেই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এতে আরো বলা হয়, নির্বাচনের নিরাপত্তায় বডি-ওর্ন ক্যামেরা না থাকলে নির্বাচনের দিন কোনো প্রকার অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তার দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে।