বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রোজার উদ্দেশ্য হলো, এগারো মাস আল্লাহ তাআলা মানুষকে অসংখ্য নিয়ামতে ভরপুর করে রাখেন। এক মাসের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ যেন উপলব্ধি করতে পারে যে, বাকি এগারো মাস তারা কত বড় বড় নিয়ামতের মধ্যে জীবনযাপন করেছে। তিনি বলেন, এই নিয়ামতগুলোর ব্যাপারে কিয়ামতের দিন মানুষকে কঠোরভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাই রমযান আমাদেরকে সংযম, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির শিক্ষা দেয় এবং জীবনের প্রতিটি নিয়ামতের যথাযথ কদর করতে শেখায়।
রমযানের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ”আল্লাহ তাআলা বলেছেন, 'রোজা যেমন পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, তেমনি তোমাদের ওপরও ফরজ করা হয়েছে; যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।'
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বিভিন্ন রাজৈনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সম্মানিত আমীর ও জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-এর চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমেদ বীরবিক্রম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর আহমদ আলী কাসেমী এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংগ্রাম সম্পাদক আযম মীর শাহীদুল আহসান, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ইসলামী চিন্তাবিদ সাইয়্যেদ কামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ জাফরী; বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার, চিন্তক ও গবেষক মুফতি কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম; তা‘মীরুল মিল্লাত ট্রাস্টের সেক্রেটারি ও সাবেক প্রিন্সিপাল, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদীন; তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ মু. ইকবাল; তা‘মীরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ড. হিফজুর রহমান।
এ ছাড়াও নবনির্বাচিত বিভিন্ন সংসদ সদস্য, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ, ছাত্র সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, ইসলামী স্কলার, সাংবাদিক এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, "আমরা এমন একটি সময়ে উপস্থিত হয়েছি, যখন নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সরকার বাংলাদেশে নেতৃত্ব গ্রহণ করেছে। যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্ন উঠেছে। আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করেছিলাম, কিন্তু বাস্তবে একটি প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছেÑযা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
সরকার গঠনের পর থেকেই দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। ধারাবাহিকভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মানুষের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। আমরা দেখেছি, বিরোধী মতের ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীলদের ওপর ক্রমাগত হামলার ঘটনা ঘটছে।
ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে রাতের অন্ধকারে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তাদের রক্তাক্ত করেছে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। একইভাবে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদল সাংবাদিক সমিতি দখলের চেষ্টা করে এবং অসংখ্য সাংবাদিক ও নির্বাচিত জিএসের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের আহত করে।”
তিনি বলেন, "গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বেনিফিশিয়ারি হলো বিএনপি। বিগত সময়ে তারা প্রায় রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়ে তারা এখন সেই অভ্যুত্থানের সঙ্গেই গাদ্দারি করছে। তারা জনগণের ম্যান্ডেটের তোয়াক্কা না করে গণভোটের রায়কে প্রত্যাখ্যান করার চেষ্টা করছে।”
তিনি আরও বলেন, "আওয়ামী লীগ পুনরায় দেশে আস্ফালন দেখাতে শুরু করেছে। সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করার পরও তারা আবার দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তাদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের মাধ্যমে এই সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তিনি বদর দিবসে শহীদদের স্মরণ করে বলেন, “বদরের শিক্ষা ধারণ করে আগামী দিনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে সংগ্রামকে আরও জোরদার করতে হবে।
এদিকে খেলাফত মজলিস আয়োজিত ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর আমীর বলেন, জীবনের বিনিময়ে হলেও জুলাই অভ্যুত্থান রক্ষা করা হবে। জুলাই টিকে না থাকলে বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, জাতীয় নির্বাচন ও নবগঠিত সরকার কারোরই অস্তিত্ব থাকবে না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাই চেতনা রক্ষা করব। বাংলাদেশে আর কাউকে ফ্যাসিস্ট হতে দেওয়া হবে না। কেউ অন্যায় করে আর পার পাবে না।
খেলাফত মজলিসের উদ্যোগে পল্টনস্থ ফারস্ হোটেল এন্ড রিসোর্টে জাতীয় নেতৃবৃন্দ, আলেম, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানে এক ইফতার মাহফিল আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিস আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের।
খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ বলেন, 'বাংলাদেশের নবগঠিত সরকার জুলাই সনদ ও গণভোট নিয়ে অপরাজনীতি শুরু করতে চায়। আদালতের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে গণভোটকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা করা হলে তার পরিণতি ভালো হবে না।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারী হিসেবে ক্ষমতাসীন দলকে অবশ্যই অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে। গণভোটে বিশাল ব্যবধানে হ্যাঁ জয়যুক্ত হয়েছে। তাই গণ রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সরকারকে সংসদের প্রথম অধিবেশনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন বিল উত্থাপন করতে হবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসি করলে জনগণ ক্ষমা করবে না।
মাওলানা বাছিত আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদী সরকার দেখতে চাই না। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ইরানের উপর হামলা আমরা মেনে নিতে পারি না। একটি স্বাধীন দেশের সর্বোচ্চ ব্যক্তিকে হত্যা করা আন্তর্জাতিক কোন রীতিতেই পড়ে না। এই হামলায় হাজারো নারী-শিশু ও সাধারণ মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার।
খেলাফত মজলিস যুগ্ম মহাসচিব ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল ও অধ্যাপক আবদুল জলিলের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত ইফতার মাহফিলে আরো বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অব. অলি আহমদ বীর বিক্রম, খেলাফত মজলিস সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, নায়েবে আমির মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যাপক আব্দুল্লাহ ফরিদ, অধ্যাপক সিরাজুল হক , মাওলানা সাইয়েদ ফিরদাউস বিন ইসহাক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন, এবি পার্টির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঞা, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, ইসলামী ঐক্য আন্দোলনের আমির মাওলানা ঈশা শাহেদী, বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের মুখপাত্র ফারুক হাসান, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিস যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা আবদুল মাজেদ আতাহারী, ব্রুনেই দারুসসালামের হাই কমিশনার রোজাইমি আবদুল্লাহ, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি এম আবদুল্লাহ, ডেইলি নিউ নেশনের সাবেক সম্পাদক মোস্তফা কামাল মজুমদার, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোরশেদ আলম, বিএফইউজে সহকারী মহাসচিব বাসির জামাল, বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. তারেক ফজল, খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুর রহমান ফিরোজ, শ্রমিক মজলিস কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রভাষক আবদুল করিম, ইসলামী যুব মজলিস কেন্দ্রীয় সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম তুহিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিস সেক্রেটারি জেনারেল জাকারিয়া হোসাইন জাকির, খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শায়খুল হাদিস মাওলানা আব্দুস সামাদ, বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব মাওলানা এরশাদুল হক, আলহাজ্ব ফজলুল হক, এআরএম আব্দুল মতিন প্রমুখ।