দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর জোর দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মত পথের ভিন্নতা থাকলেও দেশের প্রশ্নে, জনগণের প্রশ্নে, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এগুলোর প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে ভিন্ন পথ থাকবে। কিন্তু এই প্রশ্নে এক থাকা দরকার। গতকাল সোমবার তারেক রহমানের সাথে বাম দলগুলোর জোট ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ এর বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।

গতকাল সকালে গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশঙ্খলা, অর্থনৈতিক অবস্থা, আসন্ন সংসদ, উগ্রবাদের উত্থান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রভতি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে সিপিবির সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল ক্কাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ, সহকারি সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোস্তাক হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার ও বাসদ (মার্ক্সবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পরে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, প্রধানত বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তার সন্তান হিসাবে এবং পরিবার বর্গকে সমবেদনা জানাতে আমরা গেয়েছি। উনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন আসার পরে মাতৃবিয়োগ, শোকাহত পরিবার ও দল সেটাকে আমরা সহমর্মিতা সমবেদনা এগুলো জানাতে গেয়েছি। এর বাইরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন নির্বাচন ইত্যাদি বিষয়ে। এখানে এই যে মৌলবাদ, সাম্প্রদায়িক শক্তি তাদের যে আস্ফালন, এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বজলুর রশীদ বলেন, উনি (তারেক রহমান) বলছেন, আমি তো ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পরেই আমি বক্তব্যে যেটা বলছি, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হলো আমাদের ভিত্তি। মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিলে বাংলাদেশে এর অস্তিত্ব থাকে না, কাজেই সেটা ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান এবং ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের যে আকাঙ্ক্ষা সেগুলোকে ধরেই আমাদেরকে অগ্রসর হতে হবে। উনি বলছেন আমাদের মাঝে বিশ্বাসী থাকবে, অবিশ্বাসী থাকবে, সংশয়বাদী থাকবে, সবাইকে নিয়েই আমাদেরকে এখানে চলতে হবে। আমরা একটা উদার গণতান্ত্রিক কল্যাণমূলক যে রাষ্ট্র সেই রাষ্ট্রের পরিকল্পনা আমাদের আছে। আমরা সেইভাবেই কাজ করতে চাই এবং অতীত থেকে আমরা শিক্ষা নিতে চাই এবং জনগণ আমাদের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। মানুষের যাতে সুবিধা হয়, সুযোগ সুবিধাগুলো উপভোগ করতে পারে সেটা শুধু পরিকল্পনা না সেটা ইমপ্লিমেন্টেশনের দিকেও আমরা যেতে চাই।

তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের বিরোধী দল থাকবে, অপোজিশন থাকবে। আপনাদের সাথে হয়তো অনেক বিষয় আমাদের মতপার্থক্য আছে, থাকবে কিন্তু আবার বিভিন্ন দেশের প্রশ্নে জনগণের প্রশ্নে সেগুলো আমরা নিশ্চয়ই বিনিময় করব। মাঝে মাঝে আপনাদের পরামর্শ থাকলে আমাদেরকে দিবেন, আমরা যেটা গ্রহণ করা সেটা আমরা গ্রহণ করব। এরকম বললেন যে একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ গড়ে উঠুক।

রশীদ বলেন, আমরা বলছি যে একটা পলিটিক্যাল কালচার এখানে গড়ে তোলা দরকার যে, রাজনৈতিক সহনশীলতা, পরমত সহিষ্ণুতা, ফিলোসফিকাল টলারেন্স যেটা গণতন্ত্রের একটা পূর্ব শর্ত এবং সেখানে একটা নির্বাচন সুষ্ঠু নির্বাচন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সেগুলোর কথা আমরা বললাম।

বজলুর রশীদ বলেন, আমরা বলছি যে একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি স্বাধীনতা বিরোধী তারা যাতে বাংলাদেশের মধ্যে রাজনীতিতে সেই ভাবে ইয়ে না করতে পারে এবং আমরা যেটা বলছিলাম যে জামায়াতে ইসলামী তারা এসে বললো যে জাতীয় সরকারের থাকবে...।

উনি(তারেক রহমান) এটা বললেন যে, আমাদের সাথে এই বিষয়ে কোন কথা হয় নাই। বাইরে তারা এটা বলছেন। আমাদের সাথে এখানে এই বিষয় নিয়ে কোন কথা বলে নাই। শুধু বলছে যে দেশের প্রশ্নে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সেখানে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে সেটুকু কথা হয়েছে। আমরা বলছি সেখানে অবশ্যই যে মত পথের ভিন্নতা থাকলেও দেশের প্রশ্নে জনগণের প্রশ্নে, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এগুলোর প্রশ্নে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে ভিন্ন পথ থাকবে। কিন্তু এই প্রশ্নে এক থাকা দরকার। আমাদেরকেও সেটা উনি বলছেন যে মতভিন্নতা থাকবে সমালোচনা থাকবে।

বজলুর রশীদ বলেন, আমরা(গণতান্ত্রিক যুক্ত ফ্রন্ট) বলছি, আমরা আপনাদের সাথে কথা বলতেছি এটা শোকের পরিবেশ কিন্তু সরকারে যদি আপনারা যান আমরাই হয়ত দেখবেন যে বেশি সমালোচনা করব আপনাদের। তখন তারেক রহমান বলেছেন, হ্যাঁ অবশ্যই সমালোচনা তো থাকবেই । সমালোচনা না করলে তাহলে আর গণতন্ত্র হল কেমনে? সমালোচনাও থাকবে আবার আলোচনাও হবে। ভবিষ্যতে আরো কথা হবে দেখা হবে, আলোচনা হবে এটা যাতে অব্যাহত থাকে সবার সাথেই এই আলোচনাটা যাতে অব্যাহত থাকে মতবিনিময় যাতে অব্যাহত থাকে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোক বইতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতারা স্বাক্ষর করেন।