গত ৬ এপ্রিল মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ শাখা ছাত্রদল কর্তৃক ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার মীর আহমদ বিন কাসেম প্রেরীত প্রতিনিধি দলের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সন্ত্রাসী হামলা ও কয়েকজনকে গুরুতর জখম করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

এক বিবৃতিতে মহানগরী নেতৃদ্বয় বলেন, মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি কলেজের সম্পদ ব্যবহারে অনিয়ম, লাগামহীন নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকারী শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের-কে হুমকি দেওয়ার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমানের পক্ষ থেকে ১০/১২ জনের একটি প্রতিনিধিদল কলেজের অধ্যক্ষ জনাব আবুল ওবায়েদ মুহম্মদ বাসেত ঠাকুরের সাথে বিষয়টির ব্যাপারে প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হোন। প্রতিনিধি দলের সদস্যরা অধ্যক্ষ মহোদয়ের নিকট বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, স্থানীয় সূত্র ইত্যাদি মাধ্যমে কলেজের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম, নিয়মবর্হির্ভূত শিক্ষক নিয়োগ এবং এ জাতীয় অন্যায় কাজে বাধাদানকারী শিক্ষক- কর্মচারীদের হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে প্রতিনিধি দলের সাথে অসৌজন্যমূূলক আচরণ করেন।

তারা স্থানীয় সংসদ মহোদয়ের প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়ার পরও অধ্যক্ষ মহোদয় তাদের সাথে কুটতর্কে লিপ্ত হোক। এক পর্যায়ে কলেজের ছাত্রদলের নেতা-কর্মী, কিছু সাবেক ছাত্র, কিছু বহিরাগত মিছিল উপাধক্ষের কক্ষে ঢুকে পড়েন এবং প্রতিনিধি দলের ওপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় মিরপুরের বাসিন্দা ও একটি প্রসিদ্ধ স্কুলের শিক্ষক জনাব সাখাওয়াত হোসেন, মিরপুর উত্তর থানার সেক্রেটারি আব্দুল মান্নান, কলেজের প্রাক্তন ছাত্র মিরপুর এইচ ব্লকের স্থায়ী বাসিন্দা বয়োজ্যেষ্ঠ আবু সাঈদ, এমপি মহোদয়ের মুখপাত্র জনাব ডাঃ মঈন উদ্দিনসহ ৭/৮জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলসহ স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণে করেন। আহতরা যখন নিচিৎসা নিতে ব্যস্ত ছিলেন তখন তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। যা অনাকাক্সিক্ষত, অনভিপ্রেত ও অগ্রহণযোগ্য।

মহানগরী নেতৃত্বদয় এমন ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এসে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। একই সাথে পুরো কলেজের ওপর একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন সকল প্রকার অনিয়ম বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহবান জানান।