সেই ওয়ান ইলেভেন স্টাইলেই দেশে আরেকটি সংসদ নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা চলছে। এমনটিই মনে করছেন দেশের নাগরিক সমাজসহ রাজনীতিবিদরা।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে এমন বক্তব্য।

সূত্র মতে, শুধু সামাজিক মাধ্যমেই নির্বাচন নিয়ে শংকা প্রকাশ করা হচ্ছে তা নয়। দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক দলগুলোও আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শংকার কথা জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনের সাথে বৈঠকের পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে জনগণের মধ্যে শঙ্কা আছে। একই সঙ্গে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ‘হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক এ উপদেষ্টা।তিনি বলেন, আমরা যখন দেখি একজন প্রার্থীকে যেখানে শুনানি হওয়ার কথা সেখানে ঘাড় ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে, তখন স্পষ্টভাবে এই শঙ্কা আমাদের মধ্যেও কাজ করে। আমরা যখন দেখি বিভিন্ন এলাকায় সন্ত্রাসীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসন পক্ষপাতিত্ব করছে, তখন এই শঙ্কাগুলো আমাদের মধ্যে অবশ্যই আছে। তফসিলের পরদিন চিহ্নিত আসামীর হাতে ওসমান হাদী শহীদ হয়েছেন। ফলে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আরও বেশি তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। আগে যেমন ছিল এখনো তা-ই দেখা যাচ্ছে। পাতানো ভোটের লক্ষণ দেখা দিলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়ে এনসিপির এ নেতা বলেন, আমরা যদি দেখি ইসি নির্বাচনকে একতরফা আয়োজনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যদি আরেকটি পাতানো নির্বাচনের প্লট সাজানো হয়, অবশ্যই আমাদের রাজপথ বেছে নিতে হবে। একটি পার্টির অফিসে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা যাওয়া-আসা শুরু করেছেন বলেও অভিযোগ করেন আসিফ মাহমুদ।

দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ এখনো সৃষ্টি হয়নি বলে মনে করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ। দলটি বলছে, প্রশাসনের মধ্যে কিছু কিছু সরকারি কর্মকর্তা একটি বিশেষ দলের পক্ষে কাজ করছে বলে বিভিন্ন স্থান থেকে অভিযোগ আসছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো প্রকাশ্য দিবালোকে রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের হত্যা করা হচ্ছে। বৈঠকে আরও বলা হয়, দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় নিয়েছে। দেড় হাজার শহীদ, ত্রিশ হাজারের অধিক আহত ও পঙ্গুত্ববরণের মধ্য দিয়ে অর্জিত আমাদের এই প্রিয় নতুন বাংলাদেশকে কোনো ধরনের চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র বা কোনো গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হতে দেওয়া যাবে না।

তবে নির্বাচনের পরিবেশ নেই এমন অভিযোগ কোনো রাজনৈতিক দলও করছে না বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের দিকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে নির্বাচনের যে পরিবেশ তাতে শংকা প্রকাশ করার কিছু দেখছি না।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিবেশ এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। গত সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রবেশের সময় আপিলের বুথ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন। নাসির উদ্দিন বলেন, সবার সহযোগিতা থাকলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে উপহার দেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, বর্তমানে নির্বাচনের পরিবেশ-পরিস্থিতি সন্তোষজনক আছে।

জানা গেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করে, এমন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাংবিধানিক এই সংস্থা বলেছে, যারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, তাদের প্রতি মানবিক হওয়ার দরকার নেই। সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে মাঠপর্যায়ে যৌথ বাহিনীকে অভিযান জোরদার করতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা তারা নিয়েছেন। নির্বাচনে সেনাবাহিনী এক লাখ সদস্য মোতায়েন ছাড়াও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের আটক করা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো একটি ভালো নির্বাচন করার জন্য বদ্ধপরিকর বলে তিনি জানান।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, নির্বাচনের জন্য একটি পরিবেশ তৈরি করা দরকার। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করাই নির্বাচন কমিশনের এক বড় চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনসহ সরকার দেখবেন। সেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা আছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া দরকার। এর কোনো বিকল্প নেই বাংলাদেশে। নির্বাচন যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের এগোতে হবে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের শঙ্কা সৃষ্টির চেষ্টা আছে। নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করতে নানাভাবে অনেক গোষ্ঠী চেষ্টা করছে, তাদের দলের স্বার্থে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করি, এসব শঙ্কা দূর করে যথাসময়ে নির্বাচন হবে।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে আরও কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তারা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে এ শঙ্কার কথা জানায়। এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বলেন, আমরা মনে করি এখন পর্যন্ত যথেষ্ট নিরাপত্তা-সংকট বিরাজ করছে। তা শুধু প্রত্যন্ত অঞ্চলে নয়, বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরীতেও। কোনো কোনো দল তাদের কর্তৃত্ব এবং বর্তমান অস্তিত্ব প্রমাণ করার জন্য ডাকাত থেকে শুরু করে চিহ্নিত সন্ত্রাসী পর্যন্ত ব্যবহার করছে। তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচন সঠিক সময়ে চাই। তবে ভোটারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদেক হক্কানী বলেন, অতীতের নির্বাচনে দেখা গেছে, কালো টাকার প্রভাব বিস্তার এবং হুমকি-ধমকির মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যদি এগুলোর প্রতি সুদৃষ্টি রাখা হয় এবং আগে থেকেই প্রতিহিত করার জন্য প্রোগ্রাম করা হয় তাহলে আমাদের দেশে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন আমরা পেয়ে যাবো।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রব ইউসুফী বলেন, কোনো কমিশনই বলে না তারা নিরপেক্ষতা হারাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এসে তারা আর নিরপেক্ষ থাকে না। এটা আমাদের অতীত ইতিহাস।

এদিকে ভোটের মাঠে বড় রাজনৈতিক দলের আচরণ নিয়েও গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রার্থীসহ ভোটাররা। তাদের মতে, মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় যেভাবে হামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে, তাতে আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করা কঠিন হবে। জয়পুরহাট-১ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো: আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমে জানান, দেশে বর্তমানে প্রশাসন বিএনপিমুখী হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা ইসির বড় চ্যালেঞ্জ।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন। সোমবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভা শেষে উপদেষ্টা এ কথা জানান। উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বস্তরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের দ্রুত প্রশিক্ষণ সম্পন্নের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে ও মাঠ পর্যায়ে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যথাসময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অটল জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, যারা নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করবেন, তারা ব্যর্থ হবেন।

নির্বাচনের পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে ক্যাডার ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মারামারি করতে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। গেল শনিবার তিনি আরও বলেছেন, আমরা একটা নির্বাচন চেয়েছিলাম, যে নির্বাচন স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য হবে। নির্বাচন সামনে রেখে লেভেল প্লেইং ফিল্ড হওয়ার কথা, কিন্তু সে রকম কোনো উদ্যোগ দেখছি না।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে কোনোরকম শঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। নির্বাচন নিয়ে আশঙ্কা ও পক্ষপাতিত্বের বিভিন্ন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে কোনোরকম শঙ্কা নেই- এক লাইনের উত্তর। বরং ভোটাররা ভোট দিতে ভোটকেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে আছেন। অতীতে যে নেতিবাচক নজির ও ইতিহাস ছিল, সামনে তার পুনরাবৃত্তি হবে না। তিনি বলেন, পক্ষপাতদুষ্টতার কোথাও কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে মনে রাখবেন ইলেকটোরাল ইনকোয়ারি কমিটি আছে, আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব। যেগুলো রাজনৈতিক বক্তব্য সেগুলোর বিষয়ে আমার কোনো বক্তব্য নেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে মব সহিংসতা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং সামাজিক বিভেদের মধ্যেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল নাগরিকদের মধ্যে গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রশ্নে আশাবাদ তৈরি করেছিল। কিন্তু যে কোনো উপায়ে ক্ষমতায় যাওয়ার একটি মহলের উচ্চাকাক্সক্ষার কারণে সেই সম্ভাবনা আবারও ভেস্তে যেতে পারে। আবারো সেই এক এগারোর মতো নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনের দিকে এগুচ্ছে দেশ। নাগরিকদের নিরাপত্তা, ভোট দেয়ার স্বাধীনতায় আবারও হস্তক্ষেপ ঘটতে পারে। হত্যাকান্ড, চুরি, চাঁদাবাজি, ডাকাতিসহ ‘মব’ সন্ত্রাসও বেপরোয়া গতিতে চলছে। থানায় মামলা করলেও লাভ হচ্ছে না। বাড়ছে মানুষের অসহায়ত্ব। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় চাঁদাবাজরা কার্যত ধরাছোঁয়ার বাইরে। এসব ঘটনায় প্রতিবাদ হলেও অপরাধের লাগাম টানা কঠিন হয়ে পড়ছে।

রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জনগণের আস্থা অর্জন ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রশাসনসহ সর্বস্তরে সক্রিয় আছে। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এক বিদেশি গণমাধ্যমে বলেছে, আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হলে তা প্রতিহত করা হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি। দলটির নেতারা বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে ও পরে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ঘোষণা ও প্রচারণা নির্বাচনী আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এসব বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে নির্বাচন কমিশন।