২০২৬ সেশনের জন্য বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচত হয়েছেন নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। সেইসাথে সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হয়েছেন সিবগাতুল্লাহ। গতকাল শুক্রবার ছাত্রশিবিরের সহকারী নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সেলিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ রাজধানীর চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে ফলাফল ও নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতির নাম ঘোষণা করেন। নাম ঘোষণার পর নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান ছাত্রশিবিরের প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫ সন্ধ্যা ৭.০০টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ রাত ১০.০০টা পর্যন্ত সারাদেশে অনলাইনের মাধ্যমে একযোগে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রশিবিরের সংবিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি কার্যকরী পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে সিবগাতুল্লাহকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনয়ন দেন।

নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি এর পূর্বে যথাক্রমে সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক, কেন্দ্রীয় প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক, কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স এবং নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগ থেকে ডিগ্রি সম্পন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচআরএম বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন।

নবমনোনীত সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ ইতিপূর্বে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক, কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বিএসএস ও এমএসএস সম্পন্ন করে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছেন।

এর আগে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন-২০২৫-এর প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এদিন সকাল ৮টায় অর্থসহ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। তেলাওয়াত করেন ক্বারী শাইখ খোবাইবুল হক তানঈম আল-আজহারী। সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জুলাই অভ্যুত্থানে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে শাহাদাতবরণকারী কিশোর শহীদ মুনতাসির আলিফের গর্বিত পিতা সৈয়দ গাজিউর রহমান।

উদ্বোধনকালে শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী এবং ছাত্রশিবিরের গুমকৃত সদস্যদের পরিবারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনওয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক প্রফেসর ড. চৌধুরী মাহমুদ হাসান, বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার মুফতি কাজী ইবরাহীম, বিশিষ্ট ইসলামি ব্যক্তিত্ব ও তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার প্রাক্তন অধ্যক্ষ মাওলানা যায়নুল আবেদীন, তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা (যাত্রাবাড়ী)-এর অধ্যক্ষ ড. খলিলুর রহমান মাদানী, বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ইসলামী ব্যক্তিত্ব মাওলানা সাইয়্যেদ কামালুদ্দীন জাফরী, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, আধিপত্যবাদবিরোধী বিপ্লবী জুলাই যোদ্ধা শহীদ শরিফ উসমান হাদির বড় ভাই ওমর ফারুক প্রমুখ।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। আন্তর্জাতিক পরিসরে ছাত্র ও যুব আন্দোলনের প্রতিনিধিত্বকারী অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলঙ্কা জামায়াতে ইসলামীর প্রকল্প ব্যবস্থাপনা অফিসের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মালিক জালালুদ্দিন এবং ইন্দোনেশিয়ার কামি (KAMMI) -এর পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান রিদওয়ান আল-মুগোমিয়েরুভ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ইসলামী ছাত্র সংগঠনের সর্বোচ্চ প্ল্যাটফর্ম ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ফেডারেশন অব স্টুডেন্ট অর্গানাইজেশনস (IIFSO)-এর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ, যুক্তরাজ্যের মুসলিম যুব নেটওয়ার্কের সভাপতি রিদওয়ান রাশিদ। আন্তর্জাতিক যুব সংগঠনের প্রতিনিধিত্বকারী অতিথিদের মধ্যে ছিলেন ইসলামিক ওয়ার্ল্ড ইয়ুথ ফোরামের যুব শাখার স্কাউট ইউনিটের প্রধান মুহাম্মদ আই. এম. আবু চাকরা এবং মালয়েশিয়ার ইসলামিক পার্টির যুব শাখার যোগাযোগ প্রধান খাইরুল নাদির হেলমি।

বন্ধুপ্রতিম ছাত্রসংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, জাতীয় ছাত্র সমাজ (কাজী জাফর)-এর সভাপতি কাজী ফয়েজ আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি আব্দুল আজিজ, বাংলাদেশ ছাত্র মিশনের সভাপতি সৈয়দ মো. মিলন, ভাষানী ছাত্র পরিষদের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি)-এর সভাপতি মেহেদি হাসান মাহবুব, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আবু দারদা এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের সভাপতি বি. এম. আমির জিহাদী। তারাও নেতা ও শিক্ষার্থী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স আল আমিন, ছাত্র মিশনের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম সিয়াম এবং ছাত্র ফোরামের আহ্বায়ক রিয়াদ হোসেন।