খুলনা ব্যুরো, ডুমুরিয়া উপজেলা সংবাদদাতা : জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণাকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আমাদের একটি সুষ্ঠু অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যতগুলো ধাপ আমাদের অতিক্রম করতে হবে তার প্রথম পর্বটা হয়ত আমরা অতিক্রম করলাম। বাট আমাদের সামনে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ নতুন করে এসে হাজির হবে এবং আমাদের সেইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। তার মধ্যে সেই নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার জন্য লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড, প্রশাসনের সব দলের জন্য সমান অধিকারকে রক্ষা করা, এটা বাংলাদেশে এখন বিদ্যমান নেই। ফলে তফশিল ঘোষণা করলেই যে নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়ে যাবে নট দ্যাট। ডিসি, এসপি, ইউএনও, পোলিং, পিসাইডিং এরা কি করবেন। এরা কি কোন দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য চেষ্টা করবেন, নাকি কোন কোন জায়গায় বসে তারা নিলর্জভাবে পক্ষপাতিত্ব করবেন-এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে জন্য এটা ইলেকশন কমিশনেরই দায়িত্ব এবং আরপিও অনুযায়ী আফটার ডিক্লিরেশন অফ সিডিউল, প্রশাসনের রদ, বদল, পদায়ন ইত্যাদি সব বিষয়গুলো ইলেকশন কমিশনের এখতিয়ারে আসবে। আমাদের দাবি থাকবে তফশিল ঘোষণার পরবর্তী নির্বাচন নিরপেক্ষ করা, ভোটের দিনে ভোট কেন্দ্রকে নিরাপদে রাখা, ভোটারদেরকে নিরাপদে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার ব্যবস্থা করা, ভোট গণনা, পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব, ইলেকশন এজেন্ট যারা থাকবে তাদের দায়িত্ব পালন করা, ভোটার ভোট দিয়ে সুষ্ঠুভাবে ফিরে যাবে, এদিকে হ্যাঁ ভোট হবে, ডিভারেন্ট নাও। এদিকে জাতীয় ইলেকশনে প্রতীকের ভোট হবে, সেখানে দুইটা ভোট দিতে হবে একজন ভোটারকে। ফলে এই টাইমে সকল ভোট কাস্ট হবে কি না এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এই গুলো তফশিলের পর ইলেকশন কমিশন এবং সরকারকে মাথায় নিতে হবে। যেন সুষ্ঠু ফলাফল ঘোষণার মধ্য দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের যে গণ আকাক্সক্ষা সেটা প্রতিফলন হতে পারে সে জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল এবং জনগণকে খুব দৃঢ়তার সঙ্গে পদক্ষেপ না নিলে শুধু তফশিলই আমরা উচ্ছসিত নই। আমরা যখন দেখবো সব প্রশাসন মাঠ পর্যায় নিরপেক্ষ আছে । কোন ভোটার চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস অবৈধ অস্ত্রধারীরা কেন্দ্রে এসে হুমকি ধামকি দিচ্ছে না। ঈদের মতো উৎসব মূখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে আর যাচ্ছে তখন বুঝবো যে এই তফশিলের মূল্য আছে। তা না হলে এই তফশিলের কোন মূল্য হবে না। এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনই হচ্ছে পাওয়ারফুল বডি। সেটা একটি কনস্টিটিশনাল বডি। আমরা ধন্যবাদ জানাই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে, যেমন একটি সাংবিধানিক পদ, তেমনি দুর্নীতি কমিশনের চেয়ারম্যান যিনি, তিনিও একটি সাংবিধানিক পদের প্রধান। তিনি এই নির্বাচনে জাতিকে আহবান জানিয়েছেন আগামী সরকার, আগামী পার্লামেন্ট এবং দেশকে যদি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে গড়তে হয়, ত্হালে যারা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত, আমাদের দুদক চেয়ারম্যান বলেছেন দুর্নীতিবাজদেরকে ভোট দিবেন না, দুর্নীতিবাজকে না বলুন। দুর্নীতিকে লাল কার্ড দেখান।

তফশিল ঘোষণা ইতিবাচকভাবে দেখছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তফশিল ঘোষণার পরবর্তী প্রতিটি ধাপে যেন ইলেকশন কমিশন সাহসিকতার সঙ্গে, কোন দলের দিকে না তাকিয়ে, শুধু গণতন্ত্রের দিকে, ভোটারদের আকাঙ্খার দিকে তাকিয়ে জুলাই অভ্যুত্থানে হাজার হাজার মানুষের রক্ত এবং জীবনের দিকে তাকিয়ে তারা যেন আমাদের সেই কষ্টাজিত নতুন বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে ইলেকশন কমিশন যে একটা গুরুত্বপূর্ণ স্টেক হোল্ডার তারা সে দায়িত্ব পালন করার আহবান জানান। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে খুলনা-৫ আসনের জিরোপয়েন্ট এলাকায় গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ সব কথা বলেন।

এর আগে দুপুরে ডুমুরিয়া উপজেলার কুলবাড়িয়া আজিজুর ইসলামের আল্লারদান ইট ভাটায় মালিক শ্রমিকদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। ইটভাটা মালিক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক আবদুল লতিফ জমাদ্দারের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, কর্মপরিষদ সদস্য এডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ডুমুরিয়া উপজেলার আমীর মাওলানা মোক্তার হোসেন, নায়েবে আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান ও গাজী সাইফুল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা ওমর আলী, খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ আহমুদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক মুফতি আবদুল কাইয়ুম জমাদ্দার, ইসলামী আন্দোলন নেতা মুফতি আবদুস সালাম ও মুফতি মাহবুবুর রহমান, উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি কৃষ্ণ নন্দী, সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ দেবপ্রসাদ, ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন সরদার, সহ-সম্পাদক আজিজুল ইসলাম মোড়ল, ভাটা মালিক আমিন উদ্দিন, বাহার উদ্দিন বাহার, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি আব্দুর রশিদ বিশ্বাস, জামায়াত নেতা আমানুল্লাহ, শ্রমিক নেতা মাহমুদ আলম, জামায়াত নেতা শেখ মোসলেম উদ্দিন, মাওলানা মতিউর রহমান, হাফেজ মঈন উদদীন, আবুল হোসেন, ওহিদুল ইসলাম খান, সোহরাব হোসেন, ছাত্রশিবির নেতা সামিদুল হাসান লিমন প্রমুখ।

প্রধান অতিথি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, প্রতি ৫ বছর পর বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী জনগণের ভোটে ৩০০ আসনের একটি পার্লামেন্ট বা আইনসভা গঠিত হয়। এই আইন সভার সদস্যরা যে আইন বানাবে সেই আইন দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। আজকে ইটভাটা, গরীব, দুখী মানুষের জীবন-জীবিকার যে কষ্ট, অন্যায়ভাবে ব্যবসা বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে, এ খারাপ আইনের কারণেই এগুলো হচ্ছে। ফলে মহান আল্লাহ তায়ালার বিধান আসমান থেকে নাযিল হওয়া কুরআনের বিধান, বিশ্ব নবী মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.) এর আদর্শের ভিত্তিতে যদি আইন হয় আর নেতৃত্ব হয় ৩০০ আসনের পার্লামেন্টে অর্ধেকের বেশী যদি আল্লাহ ওয়ালা, ইসলামী দল গুলোর প্রতিনিধি যদি যেতে পারে তো আমাদের জীবন-জীবিকার সাথে সঙ্গতি পূর্ণ সুশাসনের কল্যাণ রাষ্ট্রের আইন আমরা তৈরি করবো। তিনি বলেন, আমাদের এখানে উপস্থিত ইসলামী দলগুলো একমত হয়েছি যে, আগামী নির্বাচনে অতীতের যারা দেশ শাসন করেছেন স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর যারাই আসতে গিয়েছেন, সহজ কথা বলে ভোট নিয়েছেন, তারা নিজেদের ভাগ্যের বদল করেছেন, গরীবদের ভাগ্যের বদল করেননি। তিনি বলেন, আমরা এবার নতুন বাংলাদেশের ৮ টি দল একমত হয়েছি, ৩০০ আসনে যারা যেখানে পরিচিত যার যেখানে বিজয়ের সম্ভাবনা ভাগ করে শীর্ষ নেতারা ঠিক করে দিবেন আমরা ভোট দেবো এক জায়গায়। ইসলামী সব দলের এক এক এলাকায় একজন করে প্রার্থী থাকবে। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আমার এই আসনে আপনারা ভোট দিয়েছিলেন ২০০১ সালে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে। বিজয়ী করেছিলেন। মুরুব্বীরা বলেছেন, আপনি এখানে যেহেতু এমপি ছিলেন, আপনি পরিচিত। এটা আপনার জন্যই থাকবে ইনশাআল্লাহ। আমার এমন আসন আছে যেখানে হাতপাখা থাকবে, সেখানে দাঁড়িপাল্লা থাকবে না। যেখানে রিকশা থাকবে সেখানে অন্য কোন মার্কা থাকবে না। মার্কা আমাদের একটা থাকবে এবং আমরা সবাই কুরআনের আইনের পক্ষে, আমরা সবাই একটা করে ভোট দেবো। ইনশাআল্লাহ কোন ব্যক্তি নয়, দল নয়, আমরা কুরআনকে পার্লামেন্টে নিতে চাই। তিনি বলেন, কুরআন শুধু মাদরাসা, মক্তব আর মসজিদে নয়, কুরআনকে বঙ্গভবনে এবং পাল্লামেন্টে নিতে চাই। আমার হিন্দু ভাইয়েরা বলেছেন, কুরআনের শাসন যদি জারী হয়, তাহলে আমরা হিন্দুরাও ভালো থাকবো। তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞেস করি এক কথা কেন বলেন আপনারা। তারা বলে আমরা বিশ্বাস করি কুরআন সৃষ্টিকর্তার আইন। সৃষ্টিকর্তা যে আইন জারী করে সে আইনে মানুষের কল্যাণ হয়। তিনি বলেন, আমি এখন হিন্দু মুসলিম সবাই বলি সব দলকে দেখেছেন, এবার ইসলামীক দলগুলোর রাষ্ট্রের দায়িত্ব দিয়ে দেখেন দেশটা কেমন হয় একবার একটু দেখার সুযোগ দেন। এ সময় তিনি সকলকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানান। উপস্থিত সকলেই হাত উচু করে হ্যাঁ বলেন। তিনি বলেন, গ্রাম গঞ্জে দাঁড়িপাল্লার এই গণজোয়ার দেখে আমার বন্ধুদের মাথা একটু খারাপ হয়ে গেছে। ওনাদের কিচ্ছুই তো বলার নেই, ওনারা এখন বলেন, তারা এখন বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করতেছে। ভাই, আমরা বেহেস্তের টিকিট বিক্রি করি না। আলেম-উলামা, পীর মাশায়েখরা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে জাহান্নামের যে পথ আর জান্নাতের যে পথ প্রিয় নবী (সা.) এর কাছ থেকেই এই জাহান্নাম আর জান্নাত এই দুইটা পথের যে সন্ধান আমরা পেয়েছি। কোন পথে চললে জাহান্নাম থেকে বাঁচা যাবে, কোন পথে চললে জান্নাতে যাওয়া যাবে সেই পথের শিক্ষাটা উম্মতে মোহাম্মাদী হিসেবে আমরা মানুষের কাছে পেশ করে থাকি। এইটা আমাদের দাবি, এটাই আমাদের দায়িত্ব।

এর আগে সকাল ১১ টায় কাঁঠালতলা বাজারে জনসংযোগ ও মঠবাড়ীয়া কওমি মাদরাসা শিক্ষক মন্ডলী, ছাত্র ও এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।