জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশ হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি। নাহিদ ইসলাম এখন জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ। সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া এই সংসদের কোনো মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেন জুলাই বিপ্লবের আহ্বায়ক।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপি, ভারত ও আওয়ামী লীগের যোগসাজশ হয়েছে। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকের বিনিময়ে যদি আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন করা হয় তাহলে জনগণ প্রতিরোধ করবে। সরকার ব্যর্থ হলে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে। এটা অব্যাহত থাকলে আমরা রাজনৈতিক প্রতিরোধের ডাক দিবো। তিনি বলেন, সারাদেশে জেলায় উপজেলায় বিচার চলমান আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা হচ্ছে। আর মিডিয়ায় উৎসবের সঙ্গে প্রচার করছে এবং উৎসাহ দিচ্ছে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, আমরা আশাহত হয়েছি, নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, ফলাফলে কারচুপি হয়েছে। দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা শপথ নিয়েছি। কিন্তু প্রথমদিনেই শপথ গ্রহণ নিয়ে সরকার সবার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের সাথে গণভোট অঙ্গাঅঙ্গীভাবে জড়িত। একটি ভুল ব্যাখ্যা ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার আকাক্সক্ষা ও গণভোটকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। আশা করি তারা দ্রুত শপথ নিবে এবং সংবিধানের মৌলিক কাঠামো সংস্কারে উদ্যোগ নিবে।
সংসদ অধিবেশন নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা আহ্বান জানাই দ্রুত অধিবেশন ডাকার এবং তার আগে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার। দ্রুতই সংসদ ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার আহবান জানায়।
এনসিপির এই নেতা অভিযোগ করেন, শপথ গ্রহণ এবং মন্ত্রিসভার শপথ যেদিন গঠিত হলো, সেদিনই বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে, বাংলাদেশের যারা সংস্কারের জন্য প্রত্যাশী ছিল, যারা গণভোটে হ্যাঁ-এর পক্ষে গণরায় দিয়েছে, তাদের সবার সঙ্গেই এক ধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। গণভোট হয়েছে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারে।
নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন যে, আদেশে খুবই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শপথ গ্রহণ সংসদ সদস্য এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ সদস্য হিসেবে একই দিনে শপথ অনুষ্ঠিত হবে। একই ব্যক্তি শপথ পড়াবেন। যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হবে তাদের সমন্বয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ নামে একটি পরিষদ গঠিত হবে। যারা মূলত এই জুলাই সনদ এবং গণভোটে যেই সংস্কারের প্রস্তাবনাগুলো ছিল সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। সেগুলো সংবিধানের সমন্বয় করবে। কিন্তু একটি ভুল ব্যাখ্যা দেওয়ার মাধ্যমে সংবিধানের দোহাই দেওয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য থেকে শপথ না নেওয়া থেকে তারা শপথ তারা নেননি। তারা বিরত থেকেছেন।
সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা মনে করি, এটি সংস্কারের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এটি নতুন বাংলাদেশের যে আকাক্সক্ষা, সে আকাক্সক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। গণরায় এসেছে গণভোটে সেই গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে। আমরা আশা করব, তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা শপথ নেবেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া এই জাতীয় সংসদের কোনো মূল্যই নেই।
নাহিদ বলেন, এই মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক বৈষম্য করা হয়েছে। দেশের অনেকগুলো বৃহত্তর অঞ্চল থেকে মন্ত্রী করা হয়নি। একইসঙ্গে এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রতিনিধিত্বশীল হয়নি। নারী ও সংখ্যালঘু থেকে প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব হয়নি। তিনি বলেন, এই মন্ত্রিসভার গড় বয়স ৬০। তারুণ্যনির্ভর বাংলাদেশের প্রতিফলন মন্ত্রিসভায় হয়নি। তিনি বলেন, মন্ত্রীসভার ৬২ শতাংশ ব্যবসায়ী। অর্ধেকের বেশি ব্যবসায়ী হওয়ায় তারা জনগণের স্বার্থের চেয়ে ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিবে বেশি। আবার এই ব্যবসায়ীদের বেশিরভাগই ঋণখেলাপী। এই ব্যবসায়ীদের ১৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ আছে।
বিরোধী দলের চিফ হুইপ বলেন, তিনটি মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়েছে এমন একজনকে যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, খুন ও ঋণখেলাপী হওয়ার অভিযোগ আছে। তিনি বলেন, সেই ঋণ তারা কবে পরিশোধ করবেন এটা বাংলাদেশের মানুষ জানতে চাই। ঋণ পরিশোধ ছাড়া তাদের মুখে দুর্নীতি নিয়ে কথা বলা শোভা পায় না। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ছিল তারাও এই মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।