নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম । তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করতে সরকারের পক্ষ থেকে যে ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন ছিল, বাস্তবে তা দেখা যাচ্ছে না। বরং নির্বাচন কমিশন একচেটিয়া ও একপক্ষকে সুবিধা দেওয়ার মতো বন্দোবস্ত করে ফেলেছে, যা আসন্ন নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন শিবির কেন্দ্রীয় সভাপতি।

এর আগে তিনি কুমিল্লায় জামায়াত শিবির ও বিএনপির মধ্যে সংঘর্ষে আহত নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে যান।

সাংবাদিকদের শিবির সভাপতি বলেন, বিএনপি যেভাবে চাইছে নির্বাচন সংক্রান্ত নানা বিষয় সেভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে জুলাই পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষ যে গণতান্ত্রিক ধারার স্বপ্ন দেখেছিল, তা ধুলিস্যাৎ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

চৌদ্দগ্রামে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শিবির সভাপতি আরো বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে সারাদেশে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার দায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সমাবেশ থেকে ফেরার পথে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিএনপি-জামায়াতের ৮জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

আহতরা হলেন, জামায়াত নেতা রবিউল হোসেন রকি, জাকারিয়া রাসেল, কাজী রাসেল ও রিফাত সানি ও উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি সোলেমান চৌধুরী। তাৎক্ষনিক বাকীদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহতদের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে দুপুরে চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য শেষে তারা বাড়ি ফিরছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চৌদ্দগ্রাম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতের সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের হাটবাইর গ্রাম এলাকায় পৌছলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের দেখে বিভিন্ন ধরণের উসকানিমূলক কথা বলতে থাকেন। এ সময় জামায়াত নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন বলেন, আমাদের নেতাকর্মীরা আমীরে জামায়াতের সমাবেশ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বিএনপির অস্ত্রধারী চিহ্নি সন্ত্রাসী মিজান খান, গাজী ইয়াছিন ও মোবারক চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের ওপর হামালা চালায়। এ ঘটনায় আমাদের অন্তত ৫ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে মিজান খান ও মোবারক চৌধুরীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাদের নাম্বারটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি সোলেমান চৌধুরী একাধিকবার কল করে পাওয়া যায়।

চৌদ্দগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কাওসার হোসেন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত থানা পুলিশের একটি টিম ও সেনাবাহিনীর সদস্যলা ঘটনাস্থলে পৌছেন। বর্তমানে পরিস্থতি শান্ত রয়েছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।