গাইবান্ধা থেকে জোবায়ের আলী : নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রচার-প্রচারণায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জনসংযোগ, উঠান বৈঠক ও সভা-সমাবেশে সময় পার করছেন তারা। বিভিন্ন দলের পুরুষ, মহিলা নেতাকর্মীরা বসে নেই। এদিক থেকে প্রচার প্রচারে ১ম সারিতে অবস্থান করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা, তবে অন্য দলের প্রার্থীরাও পিছেয়ে নেই। সরজমিনে গাইবান্ধার ৫টি নির্বাচনী আসন ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এবার সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে যেতে পারে। ৫টি এলাকার প্রার্থী ও তাদের সমর্থক এবং ভোটারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এবার তারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার জন্য ৩৬ জুলাইয়ের চেতনায় নতুন নেতৃত্বের দিকে বেশি মতামত দিয়েছেন। পাশাপাশি অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে দল ভূমিকা রাখবে সেই দলকে তারা বেছে নেবে এবং জয়যুক্ত করবে। তবে এ ৫টি আসনে পুরুষের চাইতে মহিলা এবং নতুন ভোটার একটা ফ্যাক্টর।

এ দুই শ্রেণির ভোটার যেদিকে গড়বে সেদিকে বা সেই দলের প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। গাইবান্ধা ১ সুন্দরগঞ্জ আসনের ১৫টি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসনের মোট ভোটার হচ্ছে ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৫শ’ ৭৩ জন এবং মহিলা ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫শ’ ৩৫ জন। সাবেক ছাত্রনেতা এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যাপক মাজেদুর রহমান জনপ্রিয়তা সবার শীর্ষে। তাছাড়া এই সুন্দরগঞ্জ আসনটি জামায়াতের শক্ত ঘাটি হিসেবে পরিচিত। মূলত জামায়াতের প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাজেদুর রহমান। দীর্ঘদিন থেকে এই এলাকায় সাংগঠনিক কাজের মাধ্যমে এবং ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে জনগণের মধ্যে তার ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আগামী নির্বাচনে জনগণ সৎ, যোগ্য এবং এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে বিশেষ করে ন্যায়-ইনসাফ কায়েমের জন্যই মূলত জামায়াতের প্রার্থীকে বেছে নিতে চায়। এলাকায় প্রত্যন্তঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, এই অবহেলিত এলাকায় বিগত জোট সরকারে আমলে জামায়াতের প্রার্থী মরহুম মাওলানা আব্দুল আজিজ এমপি হয়ে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন। তার ধারবাহিকতায় সেই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অব্যহত রাখার স্বার্থে জনগণ এবার জামায়াতের প্রার্থীকে বেছে নিতে চায়। অপরদিকে বিগত সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি জুলুমের শিকার হয়েছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। শুধু তাই নয় তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতাকে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করায় জনগণ এটাকে সহজে মেনে নিতে পারছে না। সব মিলিয়ে জামায়াতের জনপ্রিয়তা এখানে সারাদেশের ন্যায় বেড়ে চলছে।