একগুচ্ছ অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছিলেন বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। গতকাল বুধবার রাতে প্রতিনিধি দলটি ইসিতে যান। পরে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিনিধি দলটি।
বৈঠক শেষে নজরুল ইসলাম খান বলেন, মেজর কয়েকটি অপছন্দনীয় ঘটনা ঘটেছে। আমরা ভেবেছি, বিষয়টি ইসিকে জানানো দরকার। যাতে এই ধরনের কাজ আর না ঘটে। তিনি বলেন, অভিযোগের একটা হচ্ছে সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে একজনের কাছে মোটা অংকের টাকা পাওয়া গেছে। আমরা ন্যায়-অন্যায়ের বিচার করছি না। কিন্তু এটা যে সময়ে ঘটেছে, সেটি প্রশ্নবোধক হয়ে রয়ে যায়। নজরুল ইসলাম জানান, চাপাইনবাবগঞ্জে টাকা বিতরণকালে জামায়াত নেতা আটক, সিরাজগঞ্জের ভোট কেনার সময় জনগণের হাতে জামায়াত নেতা আটক, বরগুনা-২ এ টাকা এবং অস্ত্রসহ ২ জন আটল, নোয়াখালীতে টাকা এবং হ্যান্ডবেল্টসহ আটক, ময়মনসিংহে সাবান শ্যাম্পু বিতরণের সময় আটক, চট্টগ্রাম-৯ এ জামায়াত নেতা কর্তৃক চাল, ডাল, তেল বিতরণকালে আটক, রাজশাহীতে টাকা নিয়ে ভোট কিনতে আসা জামায়াত নেতা আটক, সিলেটে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মসলেহ উদ্দিনের পক্ষে অর্থ বিতরণকালে জামায়াত নেতা আটক, ফেনী-১ এ জামায়াত প্রার্থীর এক নারী ভোটারকে টাকা দেয়ার ভিডিও আটকসহ এরকম বেশকিছু খবর এবং ভিডিও ইসিতে আমরা দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি, আইন অনুযায়ী যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার আপনারা সেটি করেন। আমরা আরও বলেছি, আপনারা জনগণকে আশ্বস্ত করেন এই বিষয়টি আপনারা পছন্দ করেন না। এই বিষয়টি যেন কার কেউ না করে, সেজন্য একটা হুঁশিয়ারি যাতে আপনাদের থেকে যায়।
‘বৈধ খাত দেখাতে পারলে ৫ কোটি টাকা বহনেও বাধা নেই’-ইসি সচিবের এই বক্তব্যের প্রসঙ্গে বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, এই ধরণের কথায় খুবই বিব্রত। সবই যদি এমন হয়, তাহলে কেন আপনারা বললেন, বিকাশে একদিনে এক হাজারের বেশি পাঠানো যাবে না? উদ্দেশ্য ছিলো এই সময়ে যাতে ভোট কেনা বেচার জন্য টাকা এভাবে বিলি না হয়। যদি তা সত্যি হয়, তবে আপনার এ ধরণের কথা বলা দরকার কী? তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমরা ইসি সচিবকে জিজ্ঞেস করার পর তিনি আমাদের বলেছেন, তিনি কখনই এরকম কোনো কথা বলেননি।
ঢাকায় জামায়াতের নির্বাচনী ক্যাম্প পুড়িয়ে দেয়ার অভিযোগের বিষয়ে নজরুল ইসলাম বলেন, এটা খুবই অন্যায় হয়েছে। যে করেছে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়া হোক। বিএনপির প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সদস্য গিয়াসউদ্দিন রিমন।