চলমান আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেছেন প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে দেশে আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। এ অবস্থায় পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে জামায়াত।

আজ রোববার (৩১ আগস্ট) বিকাল ৪টায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দলের নায়েবে আমীর ডাঃ সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোঃ তাহের এসব কথা জানান।

তিনি আরও বলেন, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি রক্ষায় প্রত্যেকটি দলকে নিজেদের কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

তিনি জানান, যেসব সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করছে সরকার তাদেরকে দমন করতে পারছে না। তাহলে তারা সারা দেশে এত বড় একটা জাতীয় নির্বাচন করবে।

তিনি বলেন, সরকার তিনটি বিষয়ে অঙ্গীকার করেছিল- সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন। কিন্তু সরকার তার অঙ্গীকার রক্ষা করতে পারছেন না। সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের দমন করতে না পারাতে পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। পাশাপাশি ফ্যাসিবাদের দোসররা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশানের ভিতরে লুকিয়ে থাকা ইন্ধনদাতাদের অপসারণ করারও দাবি জানান।

নির্বাচন বিষয়ে তিনি বলেন, ঐকমত্য আলোচনায় ৩১ দলের মধ্যে ২৫টি রাজনৈতিক দল জুলাই সনদ ও পিআর পদ্ধতিসহ কিছু সংস্কার বিষয়ে ঐকমত্য হলেও সরকার ঐকমত্যের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

তিনি বলেন, পিআর পদ্ধতিতে না গেলে দেশে আবার আগের মত ভোটকেন্দ্র দখল ও নির্বাচনি সহিংসতা হবে। পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন হলে এগুলোর অবসান হবে।

অনেকগুলো বিষয়ে সব দল ঐকমত্য পোষণ করলেও দু’য়েকটি দল কোনো কোনো ইস্যুতে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে বলে জানান তিনি।

‘আনফরচুনেটলি অল্প সংখ্যক দল আমাদের ঐকমত্য পোষণের ইস্যুর বাস্তবায়নে কিছুটা বাধার সৃষ্টি করছে। তারা বলছেন, আগামী নির্বাচিত সরকার এসে এগুলো বাস্তবায়ন করবে। আগামী নির্বাচিত সরকার যদি বাস্তবায়ন করে তবে এখানে আমরা ঐকমত্য করলাম কেন?’ প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জুলাই চার্টারের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং চার্টারের ভিত্তিতেই নির্বাচন হতে হবে বলে প্রধান উপদেষ্টাকে জানিয়েছে দলটি।

এছাড়া জুলাই চার্টার না করেই নির্বাচনের ট্রেন ছেড়ে দেয়াটা এক ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, একটা দল যেভাবে চেয়েছে সেভাবে হয়েছে। তারা নির্বাচন পেয়ে গেছে। বাকি সব দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে এক আছে। এখানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের ইস্যুটি বিঘ্নিত হয়েছে।

তিনি বলেন—যেসব বিষয়ে মতভেদ রয়েছে সবাই মিলে বসে সেগুলো নিরসন করে নির্বাচনে যাওয়া উচিত। সবাই মিলে সবার অংশগ্রহণ না হলে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। অনেকে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে, তারা সুযোগ পাবে।

“জাতীয় পার্টির ব্যাপারে সুস্পষ্ট করে বলেছি, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের সহযোগী ছিল জাতীয় পার্টি। যেভাবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনিভাবে জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।”

নির্বাচন ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তিনটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস। প্রথমে জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিকাল সাড়ে ৪টায় বৈঠকে বসেন তিনি বলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় জানায়।

বৈঠকে জামায়াতের নায়েবে আমির তাহেরের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়। অন্যরা হলেন- দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ।