বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, মহানগরী আমীর ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা মহানগরীর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, পবিত্র ঈদ উল ফিতর হলো অতীতের দুঃখ-বেদনা ও ধনী-গরীবের সীমারেখাকে পাশ কাটিয়ে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নেওয়ার দিন । শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যমুক্ত একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য আমাদের জাতীয় জীবনে ঈদ উল ফিতরের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি বলেন, নগরীর বৃহত্তর জনগোষ্ঠী শ্রমজীবী মানুষ। যারা বছরের পুরোটা সময় মাথার ঘাম পায়ে ফেলে অতিকষ্টে জীবনযাপন করে। জীবনযাত্রার অত্যাধিক ব্যয়ের কারণে যাদের জীবিকা নির্বাহ করতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। মেহনতি শ্রমিকদের জীবনে সুখ-শান্তি বলতে কোনো শব্দ নেই। বরং বেঁচে থাকার তাগিদে তারা প্রতিদিনই দুঃখ-কষ্টকে আলিঙ্গন করে। এই শ্রমিকদের ঘরে ঈদের আনন্দ ধরা দেয় না। এমতাবস্থায় শ্রমজীবী মানুষ ঈদ উল ফিতর উদযাপন করেছেন। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর খালিশপুর থানা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে সাধারণ শ্রমিকদের নিয়ে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলস্থ মহানগরী কার্যালয়ে ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।
খালিশপুর থানা সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও রফিকুল ইসলাম-এর পরিচালনায় ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের খুলনা মহানগরী সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী ও সহসভাপতি এস এম মাহফুজুর রহমান। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিকনেতা শহিদুল ইসলাম, নাসির উদ্দিন, বদরুর রশিদ মিন্টু, মুজাহিদুল ইসলাম বিপ্লব, বেবি জামান, মাসুদ শেখ, খোরশেদ আলম, কামরুল ইসলাম, রকিবুল হাসান, নাসরুল্লাহ, আবু সাইদ, আব্দুর রহমান, মোখলেসুর রহমান, শাহিনুল ইসলাম, মোমিন চৌধুরী, তানভীর হোসেন, সোহরাব হোসেন, ইমদাদ হোসেন, ফারুক হাওলাদার, বাকী বিল্লাহ, সোহরাব হোসেন, সুলতান, মুকিম, সাহিদুর রহমান প্রমুখ।
অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ শ্রমিকদের উপর অস্ত্র ব্যবহার করেছিলো দমিয়ে রাখার জন্য। তা সফল করতে পারেনি। ফ্যাসিবাদ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এদেশের মুক্তিকামী শ্রমজীবীদের মুনাফিকদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। এ জন্য ইসলামী আন্দোলন দুর্বার গতিতে এগিয়ে নিতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অনেক দায়িত্ব। অনেকেই জামায়াতের দিকে চেয়ে আছে। আজকের বিজয় সাধারণ মানুষের বিজয়। এ বিজয়কে ধরে রাখতে না পারলে সব ম্লান হয়ে যাবে। আজকে যারা ইসলামের জন্য উন্মাদ হবে তারাই এদেশ পরিচালনার দ্বায়িত্ব পাবেন ইনশাআল্লাহ।
বিশেষ অতিথি আজিজুল ইসলাম ফারাজী বলেন, ঈদ কেবল আনন্দের উৎসবই নয় বরং এটি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ঐক্যের প্রতীক। এই ধরণের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়িয়ে তোলে এবং সমাজে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর আমরা উন্মুক্তভাবে ঈদ আনন্দ উদযাপন করতে পারছি। তিনি আরো বলেন, নেতাকর্মীদের ইসলামী তাকওয়া অনুযায়ী নিজেদের প্রস্তুত করে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি জুলাই-আগস্ট শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।