নির্বাচন আসছে, দেখা যাক কে কতটা ভোট পায়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একথা বলেন। একইসাথে এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।
কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটের হলে বিএনপির উদ্যোগে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। গত সোমবার ছিলো জিয়াউর রহমানের জন্মদিন। দিবস পালনে বিএনপি দুইদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
আমরা ভোটের জন্য উন্মুখে আছি মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা জনগণের কাছে যাবো, তারা যদি আমাদেরকে গ্রহণ করে আমরা আছি। আর যদি বাদ দেয় আমরা বিরোধী দলে থাকবো। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যে, এই দেশ কী লিবারেল ডেমোক্রেটদের হাতে থাকবে? নাকি আপনার সমস্ত উগ্রপন্থী রাষ্ট্রবিরোধী লোকজনের মধ্যে থাকবে?
ফখরুল বলেন, আমাদের ৩১ দফা, আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান যে আট দফা দিয়েছে, আবার নতুন করে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ড এই বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর অতীত ভূমিকার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করি, রাজনীতি করছেন, রাজনীতি করেন সিধা রাস্তায় করেন। ধর্মকে ব্যবহার করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ভুল বুঝিয়ে নয়। দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যেতে পারবে, চিন্তা করেন। তাহলে আর নামায পড়া, আল্লাহর কাছে কমপ্লেট সারেন্ডার করা, ঈমান আনা, এগুলো দরকার নাই। তিনি আরও বলেন, মুসলমানদের আবাস স্থল পাকিস্তানের জন্য তখন তাদের নেতা মাওলানা মওদুদী পাকিস্তান আন্দোলন করেননি, বিরোধিতা করেছেন। আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি এসব কথা কারণ তারা এই কথাগুলো আজকে বিভিন্নভাবে মিথ্যা প্রচার করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছেন প্রতিটি মানুষ। তারা বিরোধিতা করেছে, ঠিক না? আজকে প্রতি মানুষ যখন ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছে, তখন তারা আবার বিভ্রান্ত সৃষ্ট করছে ধর্মের নামে । তিনি বলেন, আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। জিয়াউর রহমান প্রথম সংবিধানের মধ্যে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়েছেন। তিনি প্রথম আল্লাহর উপর অবিচল আস্থা বিশ্বাসের কথা বলেছেন।
যারা নির্বাচন নিয়ে হুমকি-ধামকি দিয়েছে তাদের প্রতি ইংগিত করে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে নির্বাচন হবে কিনা, নির্বাচন করতে দেবো না কত কী বলেছিল। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন তাদের তিনটা ভোট নাই। তারা বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেবো না। নির্বাচন হোক, দেখা যাবে কে কতটা ভোট পায়। নির্বাচন হলে বিএনপির বিজয় হবে।
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ও সহ দফতর সম্পাদক তারিকুল ইসলাম তেনজিংয়ের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে ‘একটি মহল ভোটে ইঞ্জিনিয়ারিং’ করতে পারে বলে দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে সর্তক করলেন মির্জা আব্বাস। তারা হুংকার ছাড়ে ক্ষমতায় যাবে, তারাই জিতবে, তারা এই দেশ চালাবে। কি করে সম্ভব? মির্জা আব্বাস বলেন, সব চেয়ে সহজ কাজ সমাবেশ এবং শ্লোগান দেয়া। আর কঠিন কাজ হচ্ছে নির্বাচনে জয়লাভ করা। তিনি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে কিছু কিছু ছেলেপেলে আছে যারা খুব আগে বাজে কথা বলতেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন, খুব আগে বাজে কথা বলতেছে। সব অপকর্ম করতেছে নিজেরা, চাপিয়ে দিছে বিএনপির ওপরে, চাঁদাবাজি করতেছে নিজেরা চাপিয়ে দিচ্ছে বিএনপির ওপরে।