কুড়িগ্রাম-০৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীকে কাগজপত্র আনতে বলেও তা না দেখে স্থগিত মনোয়নপত্র বাতিল করেছেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ।

ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহীর দাবি, প্রয়োজনীয় সকল প্রকার কাগজপত্র এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের আইনী কাগজপত্রসহ মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও গত শুক্রবার তাঁর মনোনয়ন স্থগিত করা হয় । এরপর জেলা প্রশাসক ৪ জানুয়ারী রোববার বিকেল পর্যন্ত সময় দিয়ে আরও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য ডাকেন। জানা যায়, সে মোতাবেক রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা মোঃ নিজাম উদ্দিন, কুড়িগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি অ্যাডঃ ইয়াছিন আলী সরকার, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডঃ রেজাউল করিম নয়ন সহ নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জন্য জামায়াতের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত হন এবং কাগজপত্র দেখতে অনুরোধ করেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ ব্যারিস্টার সালেহীর কাগজপত্র না দেখেই তিনি সালেহীর উদ্দেশ্যে বলেন দেখার দরকার নেই স্থগিত করা মনোনয়ন বাতিল করা হলো। তখন জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন জানতে চাইলে ডিসি তার সন্তোষজনক জবাব না দিয়েই ডিসি ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এরপর সকালে জেলা জামায়াতের অফিসে এসে তাত্ক্ষণিকভাবে আলোচনা করে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর উপস্থিত নেতাকর্মীদের সান্ত্বনা দিয়ে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আজিজুর রহমান সরকার স্বপন এবং কুড়িগ্রাম-০৩ আসনের প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহী। সকল নেতাকর্মীদের সান্ত থেকে মাঠে ময়দানে কাজ করার আহবান জানানো হয়।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা অন্নপূর্ণা দেবনাথ'র নিকট এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন- দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। যেহেতু আইননুসারে এটার কোনো আইনগত সুযোগ নেই তাই-ই বাতিল করা হয়েছে।

মুহুর্তের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সচেতন নাগরিক ও জামায়াতের নেতাকর্মী সমর্থকদের মাঝে ব্যাপকভাবে সমালোচনার মুখে পরেছে ডিসি অন্নপূর্ণা দেবনাথ। ইতোমধ্যে ডিসি তার নিরপেক্ষতা হারিয়েছে বলেও তার অপসারণের দাবী জানিয়েছেন সচেতন বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও নাগরিক।