বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে ও ইনসাফ ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র পরিণত করতে জীবনবাজী রেখে সকলকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন দাড়িপাল্লার প্রতীকের প্রার্থীগণ। বিভিন্নস্থানে গণসংযোগ পথসভা ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। এ সংক্রান্ত খবর পাঠিয়েছেন আমাদের খুলনা ব্যুরো।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে খুলনা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দিন-রাত এক করে প্রচার চালাচ্ছেন। মোড়ে মোড়ে ব্যানার-ফেস্টুন, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজার পর্যন্ত চলছে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা। কেউ দিচ্ছেন অঞ্চলভিত্তিক ভোটের হিসাব, আবার কেউ প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে মুখরিত করে তুলছেন এলাকা। সব মিলিয়ে নির্বাচনী আমেজে জমে উঠেছে খুলনা-২ আসন। মঙ্গলবার ও বুধবার ২০ ও ২৩ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে গণসংযোগ, পথসভা ও নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।

গণসংযোগকালে তিনি বলেন, তিনি ৩১ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ কারণে খুলনা-২ আসনে দাড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা লক্ষ্য করছেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত থাকা জনগণ এবার উৎসবের আমেজে ভোট দিতে অপেক্ষা করছে। বৈষম্য দূর করতে ও পরিবর্তনের প্রত্যাশায় মানুষ দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ দাড়িপাল্লার পক্ষে রায় দেবে এ বিশ্বাস তাঁর রয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় ২০ নং ওয়ার্ডের বাগান বাড়ি এলাকা থেকে নির্বাচনী প্রচারনা শুরু করেন। নির্বাচনী প্রচারনায় তিনি বাগানবাড়ি, লোহাপট্টি, ফরাজিপাড়া, শেখপাড়া বাজার, তেতুলতলা, ময়লাপোতা, খানজাহান আলী রোড এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। বিকেলে নগরীর গোলকমনি পার্কে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। এ সব কর্মসূচিতে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, অফিস সেক্রেটারি মিম মিরাজ হোসাইন, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, সোনাডাঙ্গা থানা আমীর জি এম শহিদুল ইসলাম, সদর সেক্রেটারি আব্দুস সালাম, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, ২০ নং ওয়ার্ডের আমীর আবুল খায়ের, ২৩ নং ওয়ার্ডের আমীর হুমায়ুন কবীর, সেক্রেটারি সাব্বির হোসেন, এডভোকেট এস এম মাসুদুর রহমান, এডভোকেট আলমগীর হোসেন খান, ইমরান হোসেন, খুলনা জেলা স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আমানত হালদার, ফজলে রাব্বি, শহিদুল ইসলাম উজ্জ্বল, মো. আরিফুল হক মোল্লা, হাফেজ হাসিবুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, রানা, মামুন, জাকির হোসেন, আব্দুল ওয়াহিদ, রাজু, আবুল কালাম আজাদ, রাফসান, সাকিব হোসেন, রায়হান, জাহিদ হোসেন, শফিকুল ইসলাম, সেলিম আকন লাবু, হাসিবুর রহমান প্রমুখ।

গণসংযোগের সময় এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল ২০ ও ২৩ ওয়ার্ডের ঘরে ঘরে যান, স্থানীয়দের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। কর্মসূচিতে কখনো গাড়িতে, কখনো হেঁটে অংশ নেন জামায়াতের এই প্রার্থী। এ সময় তাঁর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক সমর্থক ও অনুসারী উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর খুলনা-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, সমাজে রাষ্ট্রে দূর্নীতি, ঘুষ, হত্যা, সন্ত্রাস বন্ধ করতে হলে আল্লাহর দেয়া জীবন বিধান আল-কুরআন নির্দেশিত ও মহানবী হয়রত মুহম্মাদ (সা.) প্রদর্শিত পথে চলতে হবে। আর এই পথে চলতে গিয়ে যুগে যুগে নবী রাসুল ও সাহাবায়ে কেরাম, প্রকৃত আল্লাহ বান্দা কুরআন প্রেমী মুসলমানরা জালিম, খোদাদ্রোহী শাসকদের নির্মম অত্যাচারের শিকার হয়েছেন এবং বর্তমানেও হচ্ছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তার বাইরে নয়। দীর্ঘ সাড়ে ১৭ বছর যাবত জামায়াতে ইসলামীর ভাইরেরা সহ কুরআন প্রেমী মানুষ চরমভাবে জালিম শাসকের জুলুমের শিকার হয়েছেন। তারপরও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা ঘরে বসে থাকেননি। তারা এদেশকে একটি ইনসাফভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে জীবন বাজী রেখে কাজ করে যাচ্ছে। এখন সময় এসেছে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে সকলকে কুরআন ও রাসুল (সা.) প্রেমিকদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে রায় দিয়ে ইসলামী তথা ইনসাফ ও কল্যাণ রাষ্ট্র কায়েমের জন্য কাজ করতে হবে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) খুলনা-৩ আসনের দৌলতপুর থানার ১ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে গনসংযোগকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

এ সময় তার সঙ্গে আইবিডাব্লিএফ সেক্রেটারি এস এম আজিজুর রহমান স্বপন, বি এল কলেজের সাবেক ভিপি জাহাঙ্গীর কবির , বি এল কলেজ ছাত্রশিবির অফিস সম্পাদক আব্দুল্লাহ বুখারী, দৌলতপুর উত্তর সেক্রেটারি সালমান ফারসি, ১ নং ওয়ার্ড জামায়াতের আমীর মো. রেজাউল কবির, সেক্রেটারি মাওলানা সেলিম রেজা, ১ নং ওয়ার্ড মহিলা জামায়াত সেক্রেটারি হালিমা জব্বার, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ১ নং ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সেক্রেটারি ওসমান, ছাত্রশিবিরের ১ নং ওয়ার্ড সভাপতি হাফেজ সামসুল হক, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মিনহাজুর রহমান, জামায়াত নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন আলমগীর, ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক হাবিবুর রহমান কানু, প্রচার সম্পাদক আরিফুল ইসলাম, ইউসুফ মিয়া, আব্দুর রহমান, রফিকুল ইসলাম, শ্রমিক নেতা সেলিম, আব্দুল হালিম, লায়লি বেগম, সুরাইয়া কান্তা, নাজমা আক্তার, মিস মায়েশা, আয়েশা, জালাল শেখ, আব্দুল্লাহ, বেলায়েত, জাহাঙ্গীর, জিয়া, শহীদুল, জয়নাল আবেদীন, ইয়াসিন, মিজানুর রহমান, শহিদুল আলম, আরিফ, রোজিনা মিয়া, ছাত্রশিবির নেতা আব্দুল ওয়াসি, আব্দুল্লাহ ইসলাম, তাজুল ইসলাম, ওসমান, তানভীর আজাদ ওভি , নাজিম খান, হাফেজ আব্দুল্লাহ, এসকে আলামিন, হাফেজ আরাফাত, আজিজুল ইসলাম, খায়রুল বাশার প্রমুখ।

শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন, নদী-খাল খননের মাধ্যমে কৃষির পুনর্জাগরণ এবং আধুনিক যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলাই টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তিÑএমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক ও খুলনা-৬ আসনের (কয়রা-পাইকগাছা) জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশবিরোধী চক্র হুমকি-ধামকিসহ নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। এসব অপচেষ্টা উপেক্ষা করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। জনগণের সচেতন ও সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি ন্যায়ভিত্তিক, সুশাসন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। খুলনা-৬ আসনের পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলী, গড়ইখালী ও চাঁদখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

বাকা-বাজার ঈদগাহ ময়দানে রাড়ুলী ইউনিয়ন আমীর হাফেজ তৌহিদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে এবং যুব বিভাগের সেক্রেটারি মহিববুল্লাহ ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার। এতে বক্তব্য রাখেন খুলনা জেলা (দক্ষিণ) ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু জার আল গিফারী, সাবেক জেলা সভাপতি এডভোকেট রুহুল আমিন, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক রায়হান হোসেন, কয়রা উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা বুলবুল আহম্মেদ, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল খালেক, উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি ডা. আসাদুল ইসলাম ও নির্বাহী সদস্য মো. আকবর হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাইকগাছা পৌর থানা সভাপতি সাইদুল ইসলাম, সেক্রেটারি শহিদুল ইসলাম, পাইকগাছা থানা দক্ষিণের সেক্রেটারি সেলিম গোলদার, স্কুল বিভাগের পরিচালক নাহিদ হাসান, রাড়ুলী ইউনিয়ন নায়েবে আমীর মাওলানা নুরুল ইসলাম, সেক্রেটারি শেখ নজরুল ইসলাম, বায়তুলমাল সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম।

কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের কুটি বাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনসভাটি অনুষ্ঠিত হয় ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকারের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে।

জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সাবেক নায়েবে আমীর কাজী ইয়াকুব আলী, কসবা উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সাবেক উপজেলা সেক্রেটারি মুন্সীজাদা বরকতুল্লাহ, উপজেলা প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি কবির আহমেদ, ওমর ফারুক সরকার, সাবেক কাউন্সিলর নুরুল ইসলাম, শিবির নেতা সাইফুল্লাহ আল আরিফ, সাবেক শিবির নেতা আমীর হোসেন এবং এনসিপি নেতা এম এ বাতেন।

নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক হযরত মাওলানা গোলাম মাওলার সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি মো. হাসনাত জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা আব্দুল মতিন, ডা. রেজাউল করিম ও হাসানুজ্জামান।