ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেছেন ‘‘ জামায়াত ক্ষমতায় গেলে রাষ্ট্রীয় সেবা মানুষের দৌড়গৌড়ে পৌঁছিয়ে দেয়া হবে”। তিনি বলেন, জামায়াত কখনো দলীয় স্বার্থের রাজনীতি করেনি, করবে না। একদলীয় শাসন ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী সকলকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনা করেবে। স্থানীয় পর্যায়ে মসজিদ কমিটি, পশ্চাৎ কমিটি ও সিভিল সোসাইটির সমন্বয়ে রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছানো হবে। রিলিফের চাল, উন্নয়ণ বরাদ্দ, টিআর-কাবিখা দলীয় নেতাকর্মীদের পকেটে যাবে না, জনগণের কাছেই পৌঁছবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য করণের লক্ষ্যে হেলথ কার্ড বিতরণ পূর্বক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তার প্রতিনিধি হিসেবে মানুষকে পৃথিবীতে প্রেরণ করেছেন। মানবতার কল্যাণে নিয়োজিত থাকার দায়িত্ব মানুষকে দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী আল্লাহর সেই মহান দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে সমাজে দলমত, ধর্মবর্ণ, জাতি-গোষ্ঠী নির্বিশেষে মানবতার কল্যাণে কাজ করে আসছে। যেখানেই দুর্যোগ-র্দুদিন সেখানেই ছুঁটে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। গভীর রাতে রাজধানীর কড়াইলে অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে যিনি তাৎক্ষিণ ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন সেই মহান মানবতার অগ্রদূত জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বন্যা, খরা, দুর্যোগ, দুর্দিনে নিজে ছুটে যান, নিজ দলের কর্মীদের ছুটে যেতে নির্দেশ দেন।

ড. মান্নান বলেন, ‘‘চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসের গডফাদারদের কাছে দেশ ও জাতি নিরাপদ নয়’’। এমনকি তাদের নিজ দলের নেতাকর্মীও তাদের কাছে নিরাপদ নয়। চাঁদার টাকা ভাগবাটোয়ারা করার দ্বন্দ্বে একে-অপরকে খুন করতে করতে ২০০ প্লাস খুন করা হয়ে গেছে! এই সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এরা ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করে দেশকে দেউলিয়া করে আবারও দেশের সম্পদ বিদেশে পাচার করবে। তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে যারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল এবং ঢাকা-৬ আসনের জনগণের নেতৃত্ব দিয়েছে তারা জনগণের কল্যাণে কোনো কাজ করেনি। কেবল নিজেদের সম্পদের পাহাড় গড়েছে। বিগত ৫৪ বছরে ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকায় একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণ হয়নি। অথচ এই এলাকায় ৩০ লক্ষ লোকের বসবাস। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব থাকলেও সেটি নিশ্চিত হয়নি। জনগণ তাকে নির্বাচিত করলে তিনি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ঢাকা-৬ সংসদীয় এলাকায় একটি বিশ্বমানের আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের ব্যবস্থা করবেন। পুরান ঢাকায় ব্যবসা বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ নয়, মাদক নির্মুল করে পুরান ঢাকাকে মাদকমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। জনগণের মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আগামী নির্বাচনে সারাদেশের ন্যায় ঢাকা-৬ আসনেও জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সমর্থন দিয়ে নিজের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।

রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে স্থানীয় ২ হাজার নারী-পুরুষের মাঝে হেলথ কার্ড বিতরণী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক কামরুল আহসান হাসান, সদস্য সচিব মো রুহুল আমিন, সহকারী জোন পরিচালক মীর বাহার আমীরুল ইসলাম, জোন টিম সদস্য মাওলানা নেসার উদ্দিন। শহীদ শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদের পিতা শেখ জামাল হাসানমহ ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, হেলথ কার্ডধারী নির্বাচিত হাসপাতালে ২০-৫০% ছাড়ে স্বাস্থ্য সেবা গ্রহনের সুবিধা পাবেন। এছাড়াও নামমাত্র মূল্যে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস এবং ক্ষেত্র বিশেষ বিনামূল্যে এ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সুবিধা গ্রহন করতে পারবে।

এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাজারীবাগ দক্ষিণ থানার উদ্যোগে বুধবার রাতে স্থানীয় ১৩টি মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।