নবনির্বাচিত পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. ব্যারিস্টার মাওলানা নাজিবুর রহমান মোমেন বলেছেন,রমজানের শিক্ষা ধারণ করে মানবিক রাষ্ট্র গঠনে চিকিৎসকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি গতকাল বুধবার স্থানীয় নুরজাহান কনভেনশন সেন্টারের মাহে রমজান উপলক্ষে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে পাবনা জেলার ডাক্তারদের সম্মানে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন। সংগঠনের জেলা সভাপতি মাসুদ রানা সরকারের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ডা. এ এস এম কুতুবু উদ্দিন আউয়ালের সঞ্চালনায় আয়োজিত এ মাহফিলে
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ সার্জন ও এনডিএফ-এর কেন্দ্রীয় সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ এবং ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোঃ রফিকুল হাসান।
এছাড়াও আলোচনা করেন শিক্ষাবিদ ও পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, পাবনা পৌর জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল লতিফ, পাবনা ড্যাবের সেক্রেটারি ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা. নাজমুল হক, ডা. আনিসুর রহমান, ডা. আব্দুস সালাম প্রমুখ।
প্রধান অতিথি ড. নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস। এই মাস আমাদের শেখায় কীভাবে ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সততা, ন্যায় ও দায়িত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করতে হয়। একজন চিকিৎসক শুধু রোগ নিরাময়কারী নন, তিনি সমাজের বিবেক। চিকিৎসকদের মানবিকতা, নৈতিকতা ও পেশাগত সততা একটি আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
তিনি আরও বলেন, দেশ গঠনের সংগ্রামে চিকিৎসকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যখাত শক্তিশালী না হলে একটি জাতি কখনোই উন্নত হতে পারে না। গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে শহরের প্রান্তিক মানুষ পর্যন্ত সবার দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, রমজানের এই পবিত্র সময়ে আমরা অঙ্গীকার করি—দুর্নীতি, অনিয়ম ও অবহেলার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে একটি সুস্থ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গঠনে আমরা একসাথে কাজ করব।
প্রধান অতিথি চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা মানুষের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা দেবার চেষ্টা করেন, তাই চিকিৎসা সেবাকে শুধু পেশা হিসেবে নয়, ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করুন। রোগীর সাথে সদাচরণ, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীল আচরণই হবে একজন মুসলিম চিকিৎসকের প্রকৃত পরিচয়।
প্রধান আলোচক ডা. এ কে এম ওয়ালিউল্লাহ বলেন, রমজান আমাদের আত্মসংযম ও মানবিকতার চর্চা শেখায়। একজন চিকিৎসক যখন রোগীর সেবা করেন, তখন তা কেবল পেশাগত দায়িত্ব নয়—এটি একটি নৈতিক ও মানবিক অঙ্গীকার। চিকিৎসকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি আদর্শ স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান বলেন, রমজানের মূল শিক্ষা হচ্ছে তাকওয়া অর্জন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। চিকিৎসক সমাজ যদি নৈতিকতার প্রশ্নে আপসহীন থাকে, তাহলে সমাজে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা অনেকাংশে কমে আসবে।
ইফতার মাহফিলে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। মাহে রমজানের এই মিলনমেলা চিকিৎসকদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব, ঐক্য ও দায়িত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।