জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আমরা ইসিকে বলেছি- এই বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হওয়া উচিত। কারণ দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন সময় নির্বাচন কমিশন বলেন, কিন্তু সেখানকার কর্মকর্তারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দেন। এ ধরনের ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে সেখানে জটিলতা তৈরি হয়। আমরা চাই না নির্বাচনের দিন কোনো অনাকাক্সিক্ষত, অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটুক।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের মোবাইল বহনে নিষেধাজ্ঞা-সংবলিত ইসির প্রজ্ঞাপনে জাতির মধ্যে সৃষ্ট উদ্বেগ নিরসন ও প্রজ্ঞাপন বাতিলসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করতে গতকাল সোমবার ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের একথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব, শিক্ষা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, এবি পার্টির যুগ্ম মহাসচিব আলতাফ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, খেলাফত মজলিসের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, এলডিপির নেতা প্রিন্সিপাল মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নেতা ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল আলম ভূইয়া, লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার সিরাজুল ইসলাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) নেতা নজরুল ইসলাম বাবু।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ সময় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াও বক্তব্য রাখেন।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ব্যবহার করা যাবে না। শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে যারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত, শুধুমাত্র তারাই মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন- এমন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে মনে হয় সাংবাদিকরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না এবং রাজনৈতিক দল তো নেইই। এই খবর বের হওয়ার পর সবার মাঝে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। আমরা যখন আশা করছি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে হবে, এরপর আমরা ইসির সঙ্গে বৈঠক করেছি।
তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা বলে আসছেন এবারের নির্বাচন সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে হবে। সেখানে এ ধরনের একটি ঘোষণা সবাইকে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এসে ইসির সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা বলেছেন, ইতোমধ্যে এটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, যেকোনো সময় এ বিষয়ে চিঠির মাধ্যমে আমাদের জানানো হবে।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আমরা বলেছি আমরা এখনো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছি। তারা এর জবাবে বলেছেন, তারা এটি নিয়ে আলোচনা করেছেন, এটি প্রত্যাহার করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা জনগণের চাপের মুখে বাধ্য হয়ে এবং দেশবাসীর প্রত্যাশা পূরণের জন্য বলেছি- যদি এটি প্রত্যাহার না করা হয়, তাহলে আমাদের কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে হবে। জবাবে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেছেন, ইতোমধ্যে এটি করা হয়েছে। এই সমস্যা থাকবে না। মোবাইল নিয়ে একজন ভোটার যেতে পারবেন, তবে ভিতরে ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি নির্দেশনা আছে- তা মানতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইসিকে বলেছি- এই বিষয়টিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হওয়া উচিত। কারণ দেখা যাচ্ছে, বিভিন্ন সময় নির্বাচন কমিশন বলেন, কিন্তু সেখানকার কর্মকর্তারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য ও ব্যাখ্যা দেন। এ ধরনের ভিন্ন ব্যাখ্যার কারণে সেখানে জটিলতা তৈরি হয়। আমরা চাই না নির্বাচনের দিন কোনো অনাকাক্সিক্ষত, অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটুক।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আমরা আরেকটি বিষয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি- সব নির্বাচনে বিএনসিসি-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা সহযোগী ফোর্স হিসেবে কাজ করে। ইসি বলেছে, আরপিওতে বিধিবদ্ধ কিছু বিষয় আছে। তারপরও চূড়ান্তভাবে তারা না করেননি। কীভাবে তারা সমন্বয় করা যায় সে ব্যাপারে তারা ভাববেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বলেছি এবারের নির্বাচন যেহেতু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দুটি নির্বাচন- গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন- একসঙ্গে হচ্ছে, জনগণের ভোট দিতে বেশি সময় লাগবে। গত ৩টি নির্বাচনে ভোট না দিতে পারার কারণে জনগণের মাঝে আবেগ, আগ্রহ ও উৎসাহ বেশি থাকবে। এজন্য যত বেশি সম্ভব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য সহযোগী সমস্ত ফোর্সকে দেওয়া উচিত। তারা বলেছেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ তারা গ্রহণ করবেন।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরও বলেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। খুলনার ডিআইজি, নাটোরের রিটার্নিং অফিসার, শরীয়তপুরের এসপিসহ আরও কয়েকজনের ব্যাপারে আমরা বলেছি। আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা এ সমস্ত কর্মকর্তা কখনো সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য অনুকূল নয়। তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া, প্রয়োজনে প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় এসব এলাকাসহ আরও কয়েকটি এলাকায় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা গতকাল পটুয়াখালীর বাউফলের ওসির কথা বলেছিলাম। গতকাল তার চরম বাড়াবাড়ি ছিল- তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ওই ওসি বারবার একই ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমরা ঢাকা-১৫ আসনসহ আরও গুরুত্বপূর্ণ আসনে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ নির্বাচন করছেন- সে সমস্ত আসনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া, নির্বাচন কমিশনে যারা আছেন তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া ও তত্ত্বাবধান করা এবং যে সমস্ত আসনে বড় ধরনের কিছু হতে পারে এমন আশঙ্কা রয়েছে সেখানে বিশেষ নজরদারি করতে বলেছি। সামগ্রিকভাবে আমরা ইসিকে বলেছি- এমন কোনো পরিস্থিতির যেন উদ্ভব না হয়, যাতে আমাদের বারবার আসতে না হয়।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি নির্বাচন কমিশন তাদের সক্ষমতার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করবেন। আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা বিষয়ে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন। আমরা আশা করি এমন কোনো চিঠি বা সার্কুলার ইসি যেন না দেয়, যেটি নিয়ে আমাদের ও দেশবাসীর উদ্বেগ তৈরি হয়।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, আমরা সাংবাদিকদের জন্য প্রয়োজনীয় পাস দেওয়া ও সহযোগিতার বিষয়ে বলেছি। তারা যাতে সহজে কাজ করতে পারেন সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন এবং সমস্ত সহযোগিতা করেন- সে ব্যাপারে আমরা ইসিকে বলেছি। ইসি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। ভোটকেন্দ্রের ভেতর থেকে সাংবাদিকদের লাইভ নিউজ কভার করার বিষয়ে স্পষ্ট করার কথাও আমরা ইসিকে বলেছি।