দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবসান হতে চলেছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাসিত জীবনের। মাত্র দুই দিন পরই তিনি দেশে ফিরছেন। ইতিমধ্যে কাটা হয়েছে বিমানের টিকিট। তার আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজমান। দলের সিনিয়র নেতারা তাকে বরণ করে নিতে নানা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারই অংশ হিসেবে গতকাল রোববার গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সাথে মতবিনিময় করেছে তারেক রহমান স্বদেশ প্রত্যাবর্তন কমিটি। সেখানে আগামী দিনের রাজনীতিতে তার প্রভাব, কর্মপদ্ধতি ও বিএনপির করণীয় বিষয়ে দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এদিকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে যেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে, তেমনি নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রকাশ পাচ্ছে শঙ্কাও। মূলত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলীর ঘটনার পরে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের যে কোনো নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান দেশে এলে তার নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ কোনো ঝুঁকির তথ্য নেই, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমে বলেছেন, তারেক রহমানকে পুলিশ প্রটেকশন দেওয়া হবে। এছাড়া আরও নানামুখী ব্যবস্থা থাকবে। বিমানবন্দর থেকেই এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার সূচনা হবে। এছাড়া তারেক রহমানের বাসভবন ও অফিসেও থাকবে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা। নিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়া কাউকে তার ধারেকাছে ভিড়তে দেবে না পুলিশ। ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে ও ছদ্মবেশে গোয়েন্দারা তারেক রহমানের নিরাপত্তার দিকটি দেখভাল করবেন।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ব্যক্তির দেশে ফেরা সব সময়ই একটি সংবেদনশীল বিষয়। সে কারণে আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। তারেক রহমানসহ দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন গতি আনতে পারে। তারা আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও যথাযথ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তিনি দেশে ফিরবেন।

জানা যায়, তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে গুলশানে আসার পথে কয়েক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওইদিন তার নিরাপত্তা উপলক্ষে মাঠে থাকবে ঢাকা মহানগর পুলিশের সোয়াট টিম, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা। তার বাসা ও অফিস ডগ স্কোয়াড দিয়ে সুইপিংয়ের মাধ্যমে নিরাপত্তার দায়িত্ব নেবে পুলিশ। তারেক রহমান দেশে ফেরার পর সরাসরি হাসপাতালে যাবেন। সেখান থেকে বাসায় যাবেন। এ কারণে হাসপাতাল ও বাসা দুটি রুট ঘিরেই নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। দেশে ফেরার আগের রাতেই এই দুই রুট ঘিরে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া রয়েছে।

এদিকে তারেক রহমানের আগমনের দিন ঢাকায় ব্যাপক লোকসমাগম হবে। বিষয়টি মাথায় রেখে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে আগাম পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিভিন্ন সড়কে ডাইভারশন দেওয়াসহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ওইদিন সব ধরনের যানবাহনের জন্য উন্মুক্ত ও টোল ফ্রি করে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা রয়েছে।

তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তার জন্য বাসভবন ও দলীয় অফিস প্রস্তুত করেছে বিএনপি। গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসায় উঠবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই বাসার পাশেই ভাড়া করা বাসা ফিরোজায় থাকেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে গুলশানে চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে তারেক রহমানের জন্য আলাদা চেম্বার তৈরি করা হয়েছে। এছাড়া গুলশানের ৯০ নম্বর সড়কের ১০/সি বাড়িটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে বিএনপির অফিস হিসেবে। যেখান থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। চারতলা এই ভবনে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে। এখানে দোতলায় রয়েছে ব্রিফিং রুম। অন্য তলায় বিভিন্ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে গবেষণা সেল। এই বাড়ি ছাড়াও গুলশান অ্যাভিনিউর ১৯৬ নম্বর বাসাটিতে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলবে পুলিশ। সিসি ক্যামেরায় মোড়ানো থাকবে পুরো বাড়ি। অননুমোদিত কাউকে এই বাড়ির আশপাশে ভিড়তে দেওয়া হবে না।

মত বিনিময় : বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে দৈনিক পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদক, রেডিও, টেলিভিশনের বার্তা প্রধান এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে বিএনপি। এতে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, জনগণ আশা করছে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের খুঁটিটা শক্তিশালী হয়। তিনি বাধ্য হয়ে দীর্ঘ ১৮ বছর কষ্টকর নির্বাসিত জীবন যাপন করেছেন। তার এই প্রত্যাবর্তনকে আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য কাজে লাগাতে চাই। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, হাদীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে হামলার বিষয়টি আমাদের জন্য লজ্জার। এটা কোনোভাবে আমরা শুধুমাত্র দুঃখ প্রকাশ, ক্ষমা প্রার্থনা করে সমাপ্ত করতে পারবো না। তিনি বলেন, এখানে সরকারের দায়িত্ব ছিল সবচাইতে বেশি। আমরা জেনেছি হামলার বিষয়ে ইন্টেলিজেন্স রিপোর্ট ছিল। কিন্তু সেটা আমলে নেওয়া হলো না কেন। শুনেছি এক দুই ঘণ্টা পরে তারা সাড়া দিয়েছে। সেটা কেন? কাদের হাতে আমরা এই রাষ্ট্রব্যবস্থা দেবো? নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য যারা দায়িত্ব নিয়েছেন তাদের ভূমিকাটা প্রশ্নবিদ্ধ।

সালাহউদ্দিন আরও বলেন, দেশ নিয়ে গণপ্রত্যাশা, গণআকাক্সক্ষা অনেক বেশি। পূর্ণগণতন্ত্র চায় বাংলাদেশের সব মানুষ। গণতন্ত্রকে সর্বক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে চায়। গণতন্ত্র বিনির্মাণের জন্য সেই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমাদের শক্তিশালী করতে হবে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমনভাবে দাঁড় করাতে হবে যাতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো গণতন্ত্রের রক্ষাকবজ হিসেবে কাজ করে। গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে গণমাধ্যমকে চতুর্থ স্তম্ভ বলে। সাংবাদিকদের মধ্যে অনেকেরই রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট থাকবে, আছে কিন্তু বাংলাদেশের স্বার্থের বিবেচনায় সবসময় আমরা যেন দেশের পক্ষেই থাকি। নিরপেক্ষ না থাকি। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব যদি জনগণ বিএনপিকে দেয় তাহলে আমাদের সহযোগিতা থাকবে সর্বোচ্চ। আমরা অতীত ভুলে যেতে চাই, তবে ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী কী করেছে সেটা স্মরণে রাখতে চাই।

অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশ একটি ঘন কালো অন্ধকার সময় পার করেছে, যেখানে সাংবাদিক থেকে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী প্রত্যেকেই কমবেশি আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি বলেন, মতামত ও বক্তব্যের কারণে কারোর ওপর হামলা হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ফ্যাসিবাদোত্তর সময়েও এমন ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়।

মতবিনিময় সভায় মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম, যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ, দৈনিক খবরের কাগজ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, কালের কণ্ঠ সম্পাদক হাসান হাফিজ, যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার, নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, আজকের পত্রিকা সম্পাদক কামরুল হাসান, আমার দেশ নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, ইনকিলাব সম্পাদক আ ক ম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, অস্থির সময়ে আমরা সবাই অস্থির। মিডিয়া পলিসি যেটা বলা হয়েছে সেটা বাস্তবায়ন হলেই মিডিয়া এগিয়ে যাবে। তারেক রহমান এমন এক সময়ে দেশে আসছেন যখন সবচেয়ে বড়ো প্রশ্ন হচ্ছে নিরাপত্তা। দিলীøতে আমাদের হাইকমিশনারের বাসভবনে হামলা হচ্ছে। তিনি বলেন, গণমাধ্যমে হামলা হয়েছে। এরপরে কি হবে আমরা জানি না। আমরা সবাই নিরাপদ থাকতে চাই, লিখতে চাই। আগামী দিনে যে চ্যালেঞ্জ আসছে তা মোকাবিলা করতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, আগের ফ্যাসিবাদী শাসনামল ছিল গণমাধ্যমের জন্য কঠিন একটা সময়। এর অবসান ঘটবে বলে আশাপ্রকাশ করে তিনি বলেন, তুলনামূলকভাবে বিএনপির শাসনামল গণমাধ্যমের জন্য অধিকতর স্বস্তিদায়ক ছিল। তারা এই মুহূর্তে দেশের বৃহৎ দল। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে তাদেরও বড় দায়িত্ব রয়েছে।

ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, সমালোচনা ও মত প্রকাশের ইস্যুকে অবশ্যই সুস্থ ধারার একটি প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার জন্য সবাইকে কাজ করতে হবে। বিএনপির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে মাহফুজ আনাম বলেন, বিএনপি এই মুহূর্তে মিডিয়ার সঙ্গে বেশ সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাবই প্রকাশ করছে। এর একটা কারণ হতে পারে দলটি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতায় আসেনি। যখন তারা ক্ষমতায় আসবে তখনই দেখা যাবে তাদের সমালোচনা গ্রহণ করার মানসিকতা এখনকার মত বজায় থাকে কি না।

গণমাধ্যমে হামলার প্রতিক্রিয়ায় যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় অনেকেই ব্যথিত হয়েছেন, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ হয়েছে, আবার অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তবে বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপি বলতে পারে তারা ক্ষমতায় নেই। তবে ক্ষমতায় না থেকেও এর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে দাঁড়ানো যেতো, ভূমিকা রাখা যেতো। বিএনপি কি এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পেরেছে? বিএনপির নেতাকর্মীরা কি এর বিরুদ্ধে জোরালোভাবে কথা বলেছে? তিনি বলেন, আমরা বরাবরের মতো ক্ষমতাকে প্রশ্ন করতে চাই। গত ১৫ বছরেও যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে চাইলেও প্রশ্ন করা যায় না, তবুও আমরা প্রশ্ন করার চেষ্টা করেছি।

কেবিন ক্রু প্রত্যাহার : তারেক রহমান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের যেই ফ্লাইটে ঢাকা আসবেন সেটির দায়িত্বে থাকা দুই কেবিন ক্রুকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তারা হলেন, জুনিয়র পার্সার মো. সওগাতুল আলম সওগাত ও ফ্লাইট স্টুয়ার্ডস জিনিয়া ইসলাম। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সূত্র জানায়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই দুইজনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের অসংখ্য ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তারা দুইজন নিয়মিত শেখ সেলিমের ফ্লাইট পরিচালনা করতেন। তারেক রহমানকে বহন করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি বুধবার সন্ধ্যায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। ফ্লাইটটিতে তারেক রহমানের পরিবারের সদস্য ও বিএনপির শীর্ষ নেতারাও থাকবেন।

সূত্র জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দুইজনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ভিআইপি যাত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ থাকায় তাদের দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাদের পরিবর্তে ফ্লাইট পার্সার মোস্তফা ও ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস আয়াতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানের ফ্লাইট সার্ভিস বিভাগ।

এর আগে, গত ২ মে একই কারণে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার একটি ফ্লাইট থেকেও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আল কুবরুন নাহার কসমিক ও মো. কামরুল ইসলাম রিপন নামের দুই কেবিন ক্রুকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।