বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘এই নির্বাচন অতীতের কোনো নির্বাচন নয়। এটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার নির্বাচন।’ প্রায় দেড় হাজার শহীদের আত্মত্যাগ এবং ৩৪ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধার রক্ত, আহত ও পঙ্গুত্বের বিনিময়ে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহিদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যজোট টাঙ্গাইল জেলা শাখা আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে দেশে বহু নির্বাচন ও সরকার গঠিত হলেও জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে সমাজে বৈষম্য, অপরাধ ও দুর্নীতি চরম আকার ধারণ করে। এর প্রতিবাদেই যুবসমাজ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে আন্দোলনে নামে।

তিনি জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান জানিয়ে তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে টাঙ্গাইলের আটটি আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের হাতে প্রতীক তুলে দেন।

আগামী ১২ তারিখে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আদায় করা হবে উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, মামলা ও দখল বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে এবং সম্ভাব্য নির্বাচনী এজেন্টদের হুমকি দিচ্ছে।

ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ভোট আমি দেবো—এই নীতি প্রতিষ্ঠিত হবে। গায়ের শক্তি, কালো টাকা বা নির্বাচন প্রকৌশল এখানে চলবে না।’

যুবকদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, দেশের যুবসমাজ বেকারভাতা নয়, কাজের অধিকার চায়। শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দক্ষ করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে শিশু উপযুক্ত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পাবে, নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে মানুষ মূল্যায়িত হবে।

আইনের সমতার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আইন হবে সবার জন্য সমান। সাধারণ মানুষ বা রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই বিচার কার্যকর হবে।’

জামায়াতে ইসলামীকে দেশের সবচেয়ে বড় মজলুম সংগঠন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের হত্যা, নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল, অফিস সিলগালা এবং শেষ পর্যন্ত দল নিষিদ্ধ করার ঘটনা ঘটেছে। তবে তিনি বলেন, দেশের সব মানুষই মজলুম ছিল।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ড. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ড. খলিলুর রহমান মাদানী ও মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন।

এ ছাড়া বিভিন্ন আসনের প্রার্থী ও জোটভুক্ত দলের নেতৃবৃন্দ জনসভায় বক্তব্য দেন।