গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর পুরানা পল্টন একটি হোটেলে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে নেতৃবৃন্দ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা যদি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে মুসলিম বিশ্বের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বাণিজ্যপথে বাধা এবং বিনিয়োগ কমে যাওয়াÑএই তিনটি বড় কারণে অর্থনৈতিক ঝুঁকি বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস সরবরাহকারী অঞ্চল। এ অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে, যা অনেক মুসলিম দেশের অর্থনীতিকে অস্থির করে তুলবে। বিশেষ করে তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে জ্বালানি ব্যয় বাড়ার ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে এবং শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

এছাড়া পারস্য উপসাগর ও আশপাশের সমুদ্রপথে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ চলাচল রুটে ঝুঁকি তৈরি হলে পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ধীর হয়ে যেতে পারে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার অনেক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেতৃবৃন্দ আরও বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমিয়ে দিতে পারে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অনেক বিনিয়োগকারী নিরাপদ বাজারের দিকে ঝুঁকতে পারে, ফলে মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নতুন শিল্প ও অবকাঠামো প্রকল্পে বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। সংঘাত দ্রুত কূটনৈতিকভাবে সমাধান না হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ বাড়বে। বিশেষ করে জ্বালানি বাজার ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

নেতৃবৃন্দ জাতীসংঘ ওয়াইসিসহ সকল দায়ীত্বশীলদেরকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান আহবান জানান।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান আমীরে শরীয়ত আল্লামা আবু জাফর কাসেমীর সভাপতিত্বে আয়োজিত দুর্নীতি চাঁদাবাজি ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনে আমাদের করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা ইফতার মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা আবুল কাসেম কাসেমী. আলহাজ্ব মোহাম্মাদ আজম খান. খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী. জামাতে ইসলাম ওলামা বিভাগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ এর সভাপতি মাওলানা মোশারফ হোসাইন.ওলামা মুভমেন্ট এর আমীর মাওলানা আব্দুল্লাহ মাসুদ খান. খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম. যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ হোসাইন আকন্দ. ইসলামী আন্দোলনের দফতর সম্পাদক জনাব লোকমান হোসাইন জাফরি. মাওলানা একে এম আশরাফুল হক নির্বাহী সভাপতি নেজামে ইসলাম পার্টি. আলহাজ্ব আলী মাকসুদ খান মামুন. পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জনাব সিদ্দীকুর রহমান. জনাব আহসান উল্লাহ শামীম চেয়ারম্যান দেশপ্রেমিক নাগরিক পার্টি. ড. আবু ইউসুফ মহাসচিব নাগরিক পার্টি. পাক্ষিক সবার খবর পত্রিকার সম্পাদক মাওলানা আব্দুল গাফফার. আরশাদ আলম.কেন্দ্রীয় দফতর ও যুব আন্দোলনের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা গাজী আহমদ আব্দুল্লাহ মুসা.ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি হাফেজ আবু দারদা ও সাধারণ সম্পাদক হাফেজ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে আল্লামা আবু জাফর কাসেমী বলেন. দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি এবং সুশাসন ভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনের লক্ষে সকলকে ঐক্য বদ্ধ ভাবে কাজ করতে হবে।

দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিস্তার, এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে সবাইকে গবেশনা করতে হবে। পাশাপাশি নৈতিকতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের করণীয় বিষয়েও দিকনির্দেশনা তুলে ধরতে হবে।

আলোচনা শেষে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের উপদেষ্টা বিশিষ্ট লেখক গবেশক ও মাহমুদুল হাসান নিজামীর রুহের মাগফিরাত কামনা. ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আলমান যুদ্ধ বন্ধসহ দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠীত হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।