বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, "সিটি করপোরেশন ব্যর্থ হলেও জামায়াতে ইসলামী সফলভাবে কুরবানির বর্জ্য অপসারণ করবে"।
তিনি বলেন, আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা প্রমাণ করে সিটি করপোরেশন বর্জ্য অপসারণ সহ সার্বিক কার্যক্রমে বরাবরই জনগণকে যথাযথ সেবা দিতে ব্যর্থ। তারা শুধু কথার ফুলঝুরি।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে, রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে গোশত বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি আরও জানান, ঢাকা মহানগরীর প্রতিটি এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা সকাল থেকে দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে কুরবানির গোশত বিতরণের লক্ষ্যে পশু জবাই করে প্রস্তুত করছে। তিনি নিজেও কয়েকটি এলাকায় গিয়ে গোশত বিতরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেছেন।
সাংসদ নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন প্রতিটি শহীদ পরিবারকে জামায়াতে ইসলামী নিজের পরিবার মনে করে শুরু থেকে আজ পর্যন্ত মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছে। আগামীতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও আহত জুলাই যোদ্ধাদের যেকোন প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামী পাশে ছিল, আছে এবং থাকবে।
ঈদের দিন নিজে শহীদ পরিবার গুলোতে ছুটে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান শহীদ পরিবারকে জামায়াতে ইসলামীর পরিবার হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা সেই ঘোষণা ও নির্দেশনার আলোকে দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা শহীদ পরিবারের প্রতি মানবিক দায়িত্ব পালন করে আসছি। শহীদের স্বপ্নের ন্যায় ও ইনসাফ ভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতে ইসলামী আপোষহীন ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, ঢাকা মহানগরী সহ সারাদেশে শহীদ পরিবার এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের পাশে জামায়াতে ইসলামী রয়েছে। শহীদ পরিবারদের ঈদের আনন্দ দিতে জামায়াতে ইসলামী কুরবানির পশু বিতরণ সহ প্রয়োজনীয় আর্থিক ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রেখেছে। কারণ জামায়াতে ইসলামী জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে বরাবরই আপোষহীন। তিনি বলেন, যারা দেশের জন্য নিজের জীবন কুরবানি করেছেন তারা আমাদের জাতীয় বীর এবং আল্লাহর কাছে সম্মানিত শহীদ। জাতীয় বীরদের অবদান জামায়াতে ইসলামী বিফলে যেতে দেবে না। শহীদদের স্বপ্নের নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ জামায়াতে ইসলামীর হাত ধরেই হবে, ইনশাআল্লাহ।
ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম বলেন, কুরবানির শিক্ষা হচ্ছে ত্যাগের শিক্ষা। ইনসাফ ভিত্তিক রাষ্ট্র বিনির্মাণের লক্ষ্যে জুলাই আন্দোলনে পুরো জাতি যেভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছে সেভাবেই আগামীর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি বলেন, যখন আমরা শহীদ পরিবারে গিয়ে শহীদ মা-বাবা, স্ত্রী-সন্তানের আর্তনাদ শুনতে পারি, আকাঙ্খা জানতে পারি তখন আমরা আবারো উজ্জীবিত হয়ে উঠি। নতুন বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ আমরা হতে দিতে পারি না, দেবো না। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে নব্য ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে তিনি ঢাকাবাসীকে আবারো শপথ বদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আগামীর ঢাকা হবে জনতার।
রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ১৯ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিল পদপ্রার্থী আব্দুস সাত্তার সুমনের সভাপতিত্বে রাজধানীর বেইলি রোডে দরিদ্র, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে কোরবানির গোশত বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শাহীন আহমেদ খান, রমনা সমাজকল্যাণ সোসাইটির সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান, স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আল ফারুক সহ রমনা এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।