মোঃ রফিকুল ইসলাম, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) : জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা ভোটের মাঠে সরব হয়ে উঠেছেন। চায়ের দোকান, রাস্তার মোড় কিংবা সামাজিক আড্ডা- সব জায়গায় এখন একটাই আলোচনা, আগামীতে কে হচ্ছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি।

গত ৪ নভেম্বর কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। তাঁকে সমর্থন জানিয়ে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ সভাপতি ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি রুহুল আমিন আকিল, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পাকুন্দিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি কামাল উদ্দিনসহ নেতাকর্মীরা এখন ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করছেন।

এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৭৩ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত কেবল কটিয়াদী উপজেলা নিয়ে গঠিত তৎকালীন কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে আটবারের নির্বাচনে চারবার বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে বিএনপির আনিসুজ্জামান খোকন, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন এবং ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির হাবিবুর রহমান দয়াল জয়ী হন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে কটিয়াদী উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়লকে একক প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। জয় নিশ্চিত করতে জামায়াতের নেতাকর্মীরাও মাঠে সক্রিয়ভাবে প্রচার চালাচ্ছেন।

এ ছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও জেলা সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা মুফতি আবুল বাশার রেজওয়ান, খেলাফত মজলিশের মাওলানা ছাঈদ আহমদ এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওলানা রশীদ আহমদ জাহাঙ্গীর হোসাইনীকেও প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

অতীতের ফলাফল : কিশোরগঞ্জ-২ আসনে ১৯৭৩ সালে আওয়ামী লীগের মনোরঞ্জন ধর, ১৯৭৯ সালে বিএনপির আনিসুজ্জামান খোকন, ১৯৮৬ সালে জাতীয় পার্টির অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মুক্তিযোদ্ধা বজলুল করিম ফালু, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে বিএনপির মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন, ২০০১ ও ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের ডা. আবদুল মান্নান, ২০১৪ সালে বিনা ভোটে আওয়ামী লীগের অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন, ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের নূর মোহাম্মদ ও ২০২৪ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সোহরাব উদ্দিন সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির হাবিবুর রহমান দয়াল জয়ী হয়েছিলেন।

বর্তমানে এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮০৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৪, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮২৫, এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও জামায়াতের ভোটব্যাংক শক্ত হলেও নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মনোভাবই এবার নির্ধারণ করবে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের ভাগ্য। ফলে এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতেন মাঝে নিরব লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন জানান, জনগণ আজ পরিবর্তন চায়। এ আসন বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ঘাঁটি। জনগণের ভোটে ধানের শীষের জয় হবেই, ইনশাআল্লাহ। ইতিমধ্যে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরাও ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমেছেন।

জামায়াতে প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শফিকুল ইসলাম মোড়ল জানান, আমরা জনগণের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার জন্য জনগণ এবার দাঁড়িপাল্লার পক্ষে রায় দেবে বলে আমি আশাবাদী।

গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, দেশে দুই দলের পালাবদলের রাজনীতি মানুষকে শুধু হতাশ করেছে। জনগণ এখন বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজছে। আমরা গণঅধিকার পরিষদ মাঠে নেমেছি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। কালো টাকা আর সন্ত্রাসের রাজনীতিকে পেছনে ফেলে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যদি জনগণ ভোট দিতে পারে, তাহলে আমরাই হবো মানুষের ভরসার জায়গা।