ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনে বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব শামীম সাঈদী। শামীম সাঈদীকে পিরোজপুর-২ আসনের দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তিনি উচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নিজের অবস্থান জানান দিচ্ছেন।
ভাণ্ডারিয়া-কাউখালী-স্বরূপকাঠি নিয়ে পিরোজপুর-২ আসন। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটারের বসবাস স্বরূপকাঠি, যা বাকি দুই উপজেলার মোট ভোটের প্রায় সমান। জামায়াতের একক প্রার্থী হিসাবে শামীম সাঈদী চষে বেড়াচ্ছেন সেই স্বরূপকাঠি করছেন গণসংযোগ-সমাবেশ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, ৯০-পরবর্তী কোনো নির্বাচনেই এখানে জেতেনি ধানের শীষ। এই আসন থেকে ২০০৮ সালে সংসদ-সদস্য হয়েছিলেন স্বরূপকাঠির শাহ আলম। বাকি ছয়বারের পাঁচবার সংসদ সদস্য হন জেপির (মঞ্জু) চেয়ারম্যান ভাণ্ডারিয়ার আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। ২০২৪ সালে সংসদ-সদস্য হওয়া মহারাজের বাড়িও ভাণ্ডারিয়া উপজেলায়। এসব ইতিহাস সত্ত্বেও ভোট যুদ্ধে এবার মুখোমুখি বিএনপি আর জামায়াতে ইসলামী। এক্ষেত্রে সাঈদীপুত্র হিসাবে বিশাল সুবিধায় আছেন শামিম সাঈদী। ৬/৭ মাস ধরে চলছে তার প্রচার-প্রচারণা। প্রায়ই যাচ্ছেন নির্বাচনি এলাকায়। বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা। চলছে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা। জামায়াত যখন ব্যস্ত স্বরূপকাঠি ভোটারের মনজয়ে, ঠিক তখনই অন্তর্দ্বন্দ্ব-কোন্দলে খণ্ড খণ্ড বিএনপি।
সাধারণ ভোটাররা জানান, ফ্যাসিবাদী সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় আমরা সবাই একসঙ্গে মাঠে ছিলাম। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর জামায়াত রাষ্ট্র মেরামতে মনোযোগী রয়েছে। কিন্তু অন্য অন্য দলের অধিকাংশ নেতা-কর্মীরা জেলা, উপজেলা, শহর সব জায়গায় চাঁদাবাজি, দখলবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অসামাজিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষ তাদের ওপর বিরক্ত। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তাদের ইমেজ সংকটে রয়েছে।
স্বরূপকাঠির উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এদেশের মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে শহীদ হয়েছেন মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। তার পুত্র এখানে সংসদ-সদস্য প্রার্থী। ভোটের ঘাঁটি কিংবা বেশি ভোটের হিসাবগুলো তো বহু পুরোনো। আগামী নির্বাচনে মানুষ দল নয়, ব্যক্তি দেখে ভোট দেবে।’
অপরদিকে পিরোজপুর-২ (কাউখালী-ভান্ডারিয়া-নেছারাবাদ) আসনে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহ সভাপতি ও ভান্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন। তিনি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নদমুলা ইউনিয়নের হেতালিয়া গ্রামের কৃতি সন্তান মুক্তিযুদ্ধের নবম সেক্টরের বেসামরিক প্রধান, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম নূরুল ইসলাম মনজুর’র ছেলে।
গত সোমবার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৩৭ আসনে দলীয় প্রার্থীদের নামের তালিকা ঘোষণা করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে দলীয় প্রার্থীদের নামের প্রাথমিক তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই কাউখালী - ভান্ডারিয়া - নেছারাবাদ উপজেলার তৃণমূল রাজনীতিতে যেন নতুন আলোচনা- পর্যালোচনা। আসনটির বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যস্ততা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে প্রার্থীকে জানাচ্ছেন অভিনন্দন। দলের দুঃসময়ে আন্দোলন- সংগ্রামের প্রতিটি পর্বে আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমনের উপস্থিতি ছিল দৃশ্যমান।
মনোনয়ন পাওয়ার পর আহমেদ সোহেল মঞ্জুর সুমন বলেন, “আমি কৃতজ্ঞ সর্বশক্তিমান আল্লাহ, দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি”। এই মনোনয়ন শুধু আমার নয়, পিরোজপুর - ২ আসনের প্রতিটি নেতাকর্মীর সম্মানের প্রতীক।
জামায়াত ইসলামের মনোনীত প্রর্থী শামীম সাঈদী বলেন, কাউখালী-ভান্ডারিয়া-নেছারাবাদের মানুষ পরিবর্তন চায়, সেই পরিবর্তনের অঙ্গীকারেই মাঠে নামবো।
শামীম সাঈদী বলেন, ‘আমাদের দল ক্ষমতায় গেলে কোনো চাঁদা দিতে হবে না। নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন। সাধারণ জনগণ আমাদের দল দ্বারা নিরাপদ থাকবে। এই ওয়াদা আমি আপনাদের দিচ্ছি। একবার দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের সরকার গঠনের সুযোগ করে দিয়ে দেখেন। এলাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক কাজ করবো ইনশাল্লাহ।’ আওয়ামী লীগ ইসলামের পতাকা নিশ্চিহ্ন করতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে শুরু করে উপজেলা কার্যালয় পর্যন্ত হামলা-ভাঙচুর চালিয়ে নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা জামায়াতের প্রয়াত আমির অধ্যাপক গোলাম আজম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা এটিএম ইউছুফ, মাওলানা আজহার, কাদের মোল্লা ও মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অসংখ্য নেতাকে বিচারের নামে অবিচার করেছে। আমার বাবা শহীদ দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ইসলামের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। অন্যায় ও নিপীড়নের মধ্যেও তিনি ইসলামী আদর্শে অটল ছিলেন। আমরা তার আদর্শ ও ত্যাগের পথ অনুসরণ করব।