জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)কে রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সচেতন শিক্ষার্থী ব্যানারে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। একইসঙ্গে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (৮ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক কামরুল আহসান বরাবর দেওয়া এক লিখিত আবেদন দেয় তারা।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, “জাকসু শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও স্বার্থ রক্ষার সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এটিকে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের একাধিক অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”
তারা আরও বলেন, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাকসুর মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের আস্থার উপর আঘাত হানছে। জাকসু কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ রক্ষার প্ল্যাটফর্ম নয়; এটি সকল শিক্ষার্থীর অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার একটি নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত।”
আবেদনে তিনটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো— জাকসুর নাম, প্যাড ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা দলীয় রাজনৈতিক কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা; অতীতে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং জাকসুর সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা।
শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করে বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসু কর্তৃপক্ষ বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং জাকসুর মর্যাদা ও শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনরুদ্ধারে যথাযথ ভূমিকা রাখবে।”
এ আবেদনে পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবর্তনের শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে ৪৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রায়হান, মো. রুবেল ও ইকরা; ৫১তম আবর্তনের শিক্ষার্থী শরিফুল ও আলিফ; ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সৌরভ এবং ৫৩ তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাদিয়া রয়েছেন।