বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকাজে হাত দিতে চায়। শিক্ষানগরী রাজশাহীতে বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চায়। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করার প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী মাদরাসা ময়দানে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দানকালে তিনি এই ওয়াদার কথা জানান। উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তারেক রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে দেশের মানুষের জন্য কার্যকর কোনো উন্নয়ন হয়নি। উন্নয়নের নামে হয়েছে মেগা দুর্নীতি। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে শুরু হওয়া বরেন্দ্র প্রকল্প বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শাসনামলে আরো সম্প্রসারিত হয়েছিল। অথচ বর্তমানে সেই বরেন্দ্র প্রকল্প কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষমতায় গেলে এই প্রকল্প পুনরায় চালু করা হবে, খাল খনন করা হবে এবং পদ্মা নদী খননের উদ্যোগ নেয়া হবে।

জনসভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামনুর রশীদ মামুন। সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। সমাবেশ শেষে রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ধানের শীষের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানানো হয়। তারেক রহমান পদ্মাপাড়ের মানুষের উদ্দেশে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ব্যারেজ নির্মিত হলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও জীবিকার ক্ষেত্রে ব্যাপক সুফল মিলবে। পাশাপাশি রাজশাহীর বিখ্যাত আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথাও জানান তিনি। বক্তব্যে তিনি বলেন, বিএনপি শান্তিতে বিশ্বাস করে এবং সংঘাত বা বিশৃঙ্খলার রাজনীতি চায় না। তিনি বলেন, “আমি কাউকে সমালোচনা করতে চাই না। সমালোচনা করে কারো পেট ভরে না। আমাদের লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন।” উল্লেখ্য, বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে এটিই তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর। এর আগে তিনি ২০০৪ সালে সর্বশেষ রাজশাহী সফর করেছিলেন।

জনসভায় তারেক রহমান আরো বলেন, আপনারা দেখেছেন যে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তখন তিনি একটি পলিসি গ্রহণ করেছিলেন যে আমাদের নারীদেরকে শিক্ষিত করতে হবে। যার ফলে বাংলাদেশে এখন মেয়েদের শিক্ষিত হার যে কোন সমাজের চেয়ে অনেক বেশি। কিন্তু শুধু শিক্ষা দিলেই চলবে না শিক্ষার সাথে সাথে তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তুলতে হবে, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে এবং সেইজন্যই আমরা প্রত্যেকটি মায়ের হাতে প্রত্যেকটি গ্রামে শহরে প্রত্যেকটি মায়ের হাতে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এই ফ্যামিলি কার্ড দল মত নির্বিশেষে প্রত্যেকটি মা এই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। আইডি কার্ডের মাধ্যমে তারা সরকারের পক্ষ থেকে মিনিমাম কিছু সুযোগ সুবিধা পাবেন যাতে করে মাসে তাদের সংসারের ধাক্কাটা সামলে উঠতে পারে তারা সংসারের চালানোর যে ধাক্কা সেই ধাক্কাটি মা বোনরা তাদের সামলে উঠতে পারে। এই রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চল মূলত কৃষি নির্ভর। প্রধান পেশা হচ্ছে কৃষির পেশা। কৃষি পেশার সংক্রান্ত যে সকল ইন্ডাস্ট্রি করা সম্ভব সেগুলোর একটি তালিকা কম বেশি আমরা তৈরি করেছি। নির্বাচনের পরে সরকার গঠনে সক্ষম হলে সরকার থেকে সব রকম সহায়তা দেয়া হবে। যে সকল উদ্যোক্তা কৃষি সংক্রান্ত মিল ফ্যাক্টরি রাজশাহীসহ পুরো উত্তরাঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত করবে তাদেরকে বিশেষ সহায়তা দেয়া হবে। যাতে করে তারা মিল ফ্যাক্টরি করতে পারে। কারণ তারা যদি মিল ফ্যাক্টরি করে তাহলে এই এলাকার সন্তানরা সেটি রাজশাহী জেলা হোক, সেটি সমগ্র উত্তরাঞ্চলের মানুষ হোক তাহলে তারা তাদের কর্মসংস্থানের সুবিধা হবে। তারেক রহমান গতকাল দুপুর সোয়া ১২টায় বিমানে রাজশাহীতে পৌঁছান। রাজশাহী পৌঁছে নগরীর দরগাপাড়ায় হজরত শাহ মখদুম (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন তিনি। জনসভায় রাজশাহীর পাশাপাশি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোর জেলার বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।