রিয়াজুল ইসলাম বাচ্চু, ঝালকাঠি : ঝালকাঠির জেলার দুটি আসনকে সবসময়ই ধানের শীষের ঘাটি হিসেবে মনে করা হয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচনে এই দুটি আসনে বিএনপি ৪বার বিজয়ী হয়েছে। সংখ্যায় যা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের চেয়ে বেশি। তবে এবারের হিসেব ভিন্ন রকম। জুলাই বিপ্লবের পরে সারাদেশের মত ঝালকাঠি জেলায়ও জামায়াতের জনসমর্থন বৃদ্ধি পায়। এছাড়া গত এক মাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকেও জামায়াতে বেশকিছু নেতাকর্মী যোগ দেয়। ১১ দলীয় জোট হবার পরে এনসিপির নেতাকর্মীরাও মাঠে নামে জামায়াতের পক্ষে। সবকিছু মিলিয়ে জেলার দুটি আসনেই বিএনপির সাথে মুল প্রতিদ্বন্ধীতায় চলে আসে জামায়াত।
তাই সাধারণ ভোটারদের ধারনা এবারে জেলার দুটি আসন ধানের শীষের ঘাটি হলেও সে ঘাটিতে ফ্যাক্টর হবে জামায়াত। এছাড়া দুটি আসনের বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত প্রভাবশালী কমপক্ষে ৪জন বিএনপি নেতা এখনও দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে মাঠে নামেননি। এদের অনেকে আবার ঢাকায় দলীয় প্রার্থীর পক্ষে র্নিবাচন করছেন। এলাকায় এসব নেতাদের একান্ত কর্মীদের ভোট ধানের শীষে যাবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররা। এছাড়া জেলায় প্রায় ৬ লাখ ভোটের মধ্যে এক তৃতীয়াংশ তরুন ভোটারের ভোটও একটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ঝালকাঠি-১ আসন
জেলার রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি -০১ আসন। এ আসনে ধানের শীষ প্রতিকে বিএনপি থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা রফিকুল ইসলাম জামালকে। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে অনলাইন এ্যাক্টিভেট ও টকশো ব্যক্তিত্ব দক্ষিন বঙ্গের পীরে কামেল ছোরাবাদ দরবার শরীফের প্রয়াত কায়েদ ছাহেব হুজুরের নাতী ড. ফয়জুল হককে। এছাড়া এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের পাখা প্রতিকের ইব্রাহীম আল হাদীসহ মোট ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন। প্রার্থী ১০ জন হলেও মুল প্রতিদ্বন্ধীতা হচ্ছে ধানের শীষ এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের মধ্যে।
ঝালকাঠি-২ আসন
ঝালকাঠি -০২ আসনে (সদর-নলছিটি) ৮ জন প্রার্থী থাকলেও মুল প্রতিদ্বন্ধীতা হবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতিকের ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ও জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের শেখ নেয়ামুল করিমের মধ্যে। ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো ২০০১ সালে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন। শেখ নেয়ামুল করিম বরিশাল বিএম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক নির্বাচিত জনপ্রিয় এজিএস ছিলেন। তারাও ভোটারদের বাড়ী বাড়ী যাচ্ছেন ভোট চাইতে। এ আসনে ইতোমধ্যেই জামায়াতের সমর্থনে এবি পার্টির শেখ জামাল হোসেন প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে দাড়িপাল্লা প্রতিকের পক্ষে জোরেসোরে প্রচারনায় নেমেছেন। এনসিপিও শেখ নেয়ামুল করিমের নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতিকের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সিরাজীও প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন।