পিলখানায় ৫৭ জন দেশপ্রেমিক চৌকস সেনা অফিসার হত্যার দায় ফ্যাসিস্ট সরকার এড়াতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ২০০৯ এর ৫ ফেব্রুয়ারি দিনটি জাতির জন্য এক বেদনাদায়ক করুণ ঘটনাবলীর সাক্ষী। ৫৭ জন দেশপ্রেমিক চৌকস সেনা অফিসারকে সেদিন নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মধ্যে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটে। যার দায় তিনি কোনো ভাবেই এড়াতে পারেন না।
গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ফারস হোটেল এণ্ড রিসোটে এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নেক্সাস ডিফেন্স এণ্ড জাস্টিস পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তা ও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একটি কমিশন কিছুটা তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে, তার আংশিক সত্য মনে হয় বের হয়ে এসেছে। সহকর্মীদের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে সেদিন যারা প্রতিবাদ করেছিল সেই সমস্ত সামরিক কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতিসহ নানাভাবে নাজেহাল করা হয়। যা ছিল অনেকটা মরার উপর খাড়ার ঘা। তিনি আরো বলেন, আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথেই সমস্ত শহীদানদের স্মরণ করছি এবং তাদের আপনজনদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা প্রকাশ করছি। একই সাথে ২৪ এর বিপ্লবের সকল নিহত আহতদের স্মরণ করছি যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই বাংলাদেশ। আমরা সকল নিহতদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি, আল্লাহ তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন, আহতদের পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা দান করুন। র্
এনডিজে'র প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ হাসান নাসির (অব:) এর সভাপতিত্বে ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর ও মেজর মোরসালিনের সঞ্চালনায় আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য রাখেন। ইফতারের আগে সভাপতির বক্তব্যে ব্রি. জে. মোহাম্মদ হাসান নাসির (অব.) নেক্সাস ডিফেন্স এণ্ড জাস্টিস সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, বিপ্লবের কঠিন সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তৃণমূল পর্যায়ে জনগণকে সংগঠিত করে মিছিল, প্রতিবাদ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন, যা আন্দোলনে এক অভূতপূর্ব মাত্রা যোগ করেছিল। ছাত্রজনতার উপর যখন আওয়ামী-পুলিশ দিক্বিদিক গুলী চালাচ্ছিল, তখন মিরপুর ডিওএইচের সামনে মানবঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল ঘউঔ এর সদস্যরা। ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং সশস্ত্রবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ। আলোচনা শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায়, পিলখানা নিহত ও জুলাই আন্দোলনে নিহতদের শহীদী মর্যাদা লাভের জন্য বিশেষ মুনাজাত পরিচালিত হয়।