বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিতর্ক সষ্টির মাধ্যমে কেউ কেউ গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে। এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া করি তাহলে জুলাই আন্দোলনের শহীদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে। প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচার যদি করতে হয় তাহলে আগামী দিনে অবশ্যই বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকারের বিকল্প নেই। গতকাল শনিবার দুপুরে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আমরা বিএনপি পরিবার ও মায়ের ডাকের যৌথ উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সাথে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মরহুমা বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি মানুষের সামনে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়। আমি অনুরোধ করব, দলমত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য, যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যহত করার চেষ্টা করছেন, তারা যাতে সফল না হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিতির উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন, আপনারা অনেকেই শত কষ্ট বুকে নিয়ে এখানে বসে আছেন। যাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে, এই মানুষগুলো যাতে ন্যায়বিচার পেতে পারে, তার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে, অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যেই সরকার জনগণের আকাক্সক্ষা পূরণে কাজ করবে, যেই সরকার যারা নির্যাতিত হয়েছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন তাদের প্রতি ন্যায়বিচার করবে। তিনি বলেন, আসুন আমরা আজকে সেই শপথ গ্রহণ করি, সেই প্রত্যাশা করি। আমরা সজাগ থাকি যাতে আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রা যা শুরু হয়েছে তাতে যাতে কেউ ব্যাঘাত করতে না পারে।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র কখনোই আপনাদেরকে ভুলে যেতে পারে না। সকল শহীদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যগত কারণে এই মুহূর্তে আমি হয়ত বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা আজকের এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না। কিন্তু তারপর বলতে কষ্ট হচ্ছে যে, আমরা দেখেছি নির্বাচন কমিশনের রিসেন্ট কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান। একটি রাজনৈতিক দায়িত্বশীল দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের দল মানুষের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হলে এই শহীদ পরিবারদের নামে রাষ্ট্রে বা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কিংবা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পেশা স্থাপনার নামকরণ করব, যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই শহীদদের গৌরবের সাথে স্মরণ রাখতে পারে। তিনি বলেন. রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সাধ্যমতো রাষ্ট্রীয় সহায়তার হাত বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি।

তারেক রহমান বলেন, দেড় শতকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে এবং এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম,খুন, অপরহণ, মিথ্যা মামলায় হয়রান-নির্যাতনের পর বিএনপির একজন নেতাকর্মীও কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছে আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরো তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।

বিএনপি কর্মীরা গুপ্ত বেশ ধারণ করেনি মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্তবেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা। আমি বিশ্বাস করি, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারে সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না ইনশাআল্লাহ।

আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে মায়ের ডাকের সভানেত্রী সানজিদা ইসলাম তুলি, আমার বিএনপি পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি ও মোকসেদুল মোমিন মিথুনের যৌথ সঞ্চালনায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গুম থেকে ফিরে আসা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, প্রধান উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, গুম হওয়া এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর লুনাসহ গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের বেদনা ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন।