কবির আহমদ ও কাজী রমিজ উদ্দিন, বড়লেখা (মৌলভীবাজার) : আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। গ্রাম থেকে গ্রাম, হাট-বাজার ও জনবহুল এলাকায় প্রার্থী ও সমর্থকদের গণসংযোগে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো নির্বাচনী এলাকা। শেষ মূহুর্তের প্রচারণায় ১১ দলীয় জোটের দাড়িপাল্লার প্রার্থী মোঃ আমিনুল ইসলাম এর জনসম্পৃক্ততা বেড়েই চলছে মৌলভীবাজারের সীমান্তবর্তী বড়লেখা ও জুড়ি আসনে। চায়ের রেস্তোরা, সবজি বাজারসহ অলিতে গলিতে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিল্পপতি জনমানুষের নেতা আমিনুল ইসলামকে নিয়েই চলছে আলোচনার ঝড়। এবারের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে মহান জাতীয় সংসদে গিয়ে এ অঞ্চলের মানুষের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলার জন্য সংসদ নির্বাচন করতে চায় মৌলভীবাজার-১ অঞ্চলের মানুষ। মাঠ পর্যায়ের প্রচারণায় বর্তমানে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম নিয়মিত গণসংযোগ, পথসভা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে এলাকাজুড়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। জামায়াতের নেতাকর্মীদের সংগঠিত উপস্থিতি ও ধারাবাহিক প্রচারণা ভোটের মাঠে আলাদা করে নজর কাড়ছে। পিছিয়ে নেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুও। তাকে ঘিরেও এলাকার মানুষের অনেক স্বপ্ন। কিন্তু সবকিছুকে হার মানিয়েছে স্বজ্জন নির্বিবাদী ব্যাক্তিত্ব আমিনুল ইসলামের সততা, যোগ্যতা ও কর্মস্পৃহা। বড়লেখা যুব কল্যাণ পরিষদের উপজেলা সভাপতি মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, জামায়াতে ইসলামী সৎ ও আদর্শবান নেতৃত্ব গঠনের রাজনীতি করে। মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম একজন যোগ্য ও জনবান্ধব প্রার্থী। তিনি সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্ট বুঝে কাজ করতে চান। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। আমরা বিশ্বাস করি, জামায়াত বিজয়ী হলে এই অঞ্চলে ন্যায়ভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবী শিক্ষাবিদ কাওছার হামিদ সুন্নাহ বলেন, জামায়াতের প্রার্থী মাঠে নামার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। তিনি মানুষের দ্বারে গিয়ে তাদের সমস্যা শুনছেন। তরুণ ও ধর্মপ্রাণ ভোটারদের বড় অংশ জামায়াতের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ এ আসনে জামায়াত ভালো ফল করবে। বড়লেখায় বসবাস করেন উত্তরাঞ্চলের সাইফুল ইসলামের সহধর্মিনী সানজিদা আক্তার সুমনা। তিনি দৈনিক সংগ্রামকে জানান, ‘আমরা স্বপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে বসবাস করছি। বিগত নির্বাচন গুলোতে নৌকা ও ধানের শীষ কে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছি। কিন্তু এ যেন মুদ্রার এপিট-ওপিট।’ সুমনা আনন্দেচিত্তে বলেন, ‘আমাদের ছেলে-মেয়ে এবার নতুন ভোটার হয়েছে। আর তরুণ-তরুণী ও নতুন ভোটারদের পছন্দের প্রতীক হচ্ছে দাড়িপাল্লা। তাই এই এলাকায়া দাড়িপাল্লা প্রার্থী বিজয়ী হবে বলে মনে করেন এই সুুশিক্ষিত গৃহিনী।’
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠুও প্রচারণা জোরদার করেছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পরিচিতি ও দলীয় সমর্থনের ওপর ভর করে তিনি এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরাও তাকে বিজয়ী করতে মাঠে কাজ করছেন।