নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে আমরা বড় গলায় বলেছিলাম, আমরা দলের বিজয় চাই না ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি আমার দলের নাম ধরে পর্যন্ত বলেছি। এই দলের বিজয় চাই না। কিন্তু আজ আবারো বলছি, ১৮ কোটি মানুষের বিজয় অর্জিত হয়নি। সবকিছু আজ স্পষ্ট হয়েছে দিবালকের ন্যায়। রাজসাক্ষীও পাওয়া যাচ্ছে। বিচার এখন জনতার আদালতে। এই বিচারের রায় জনতার পক্ষেই আসবে ইনশাআল্লাহ। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে জাগপা আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবার তোরা মানুষ হয় সিনেমা দেখার গল্প টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এটি একটি সামাজিক শিক্ষামূলক সিনেমা ছিল। ছাত্ররা সর্বত্র শিক্ষকদের অসম্মান করছিল। সিনিয়রদের পদমর্যাদা পদদলিত করছিল। সে সময় সেই সিনেমা জনগণের মনে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। আজ মনে হচ্ছে সেই সিনেমার বাস্তবতা আবার চিৎকার দিয়ে বলছে ‘আবার তোরা মানুষ হ’।
তিনি বলেন, আফসোস আমরা যারা একসাথে সকলেই মজলুম ছিলাম, আজকে তাদের কাউকে কাউকে দেখছি সম্পূর্ণ ভিন্ন ভূমিকায়। তিনি আফসোস করে বলেন, শিক্ষা কি আদৌ হবে না! তাহলে কি ইতিহাসের সেই ছবকটাই বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে ? যে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। কিন্তু ইতিহাস কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না। ‘হিষ্ট্রি রিপিডস ইটসেলফ’। ইতিহাস বার বার ফিরে আসে ঘুরে আসে। আমরা একটি স্থায়ী সমাধান চাই। এই স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে ফ্যাসিবাদ,দখলবাজ এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে।
জামায়াতের আমীর বলেন, সংসদের ভেতরে জনগণের অধিকারের কথা বলবো। যদি সেই দাবি মেনে নেওয়া হয়, সাধুবাদ জানাবো। জনগণের অধিকার বাস্তবায়নে সরকার কোন উদ্যোগ নিলে শুধু সমর্থন না সহযোগিতা করবো। আবার জনগণের অধিকার নতুন করে হত্যা করতে গেলে তীব্র প্রতিবাদ করবো। প্রতিবাদে কাজ না হলে প্রতিরোধ করবো। আমাদের লড়াই চলবে। এই লড়াই হবে জনতার বিজয়ের লড়াই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা বড় গলায় বলেছি, আমরা দলের বিজয় চাই না ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আমি আমার দলের নাম ধরে পর্যন্ত বলেছি। এই দলের বিজয় চাই না। কিন্তু ১৮ কোটি মানুষের বিজয় অর্জিত হয়নি। সবকিছু আজ স্পষ্ট হয়েছে দিবালকের ন্যায়। রাজসাক্ষীও পাওয়া যাচ্ছে। বিচার এখন জনতার আদালতে। এই বিচারের রায় জনতার পক্ষেই আসবে ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের আমীর বলেন, এই বাংলাদেশ সবার। সরকারি দলে যারা আছে তারা আমাদের শত্রু না। তারা অন্য জায়গা থেকে আসেননি। তারাও এই মাটির মানুষ। আমরা বিশ্বাস করতে চাই রাজনীতি হবে মানুষের জন্য। কোন দল বা গোষ্ঠির জন্য নয়। রাজনীতি থেকে প্রতিহিংসার বিষ এবং দুর্নীতির ক্যান্সার এই দুইটা যদি বিতাড়িত করা না যায়, তাহলে অতীতের ৫৫ বছরে জাতির ভাগ্যে যা ঘটেছে দফায় দফায় সামনে হয়তো তার চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে। এব্যাপারে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। এখানে কোন টলারেন্স নাই। আপোসও নাই। আমরা সংসদে কত আসন নিয়ে বিরোধী দল হয়েছি বা বিরোধী দল কায়দা করে বানানো হয়েছে, এটি আমাদের কাছে কোন বড় বিবেচ্য বিষয় না। কথা দিচ্ছি প্রিয় বাংলাদেশের মানুষের সাথে আমরা বেইমানি করবো না। সস্তা কোন সুযোগ সুবিধা আমাদের টলাতে পারবে না। জনগণের সুবিধা অধিকার রক্ষা করাই হবে আমাদের অঙ্গিকার।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, টানা ৫৪ বছর যন্ত্রনা সহ্য করার পর যুব সমাজের নেতৃত্বে যে পরিবর্তন এসেছে; সেই যুব সমাজকে চিরতরে বুকে ধারণ করে রাখবো। তাদের আকাক্সক্ষাকে সম্মান করা, আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করে যাওয়া আমাদের কর্তব্য। তাদের আকাক্সক্ষা বেরি সিম্পল। একটাই ছিল ম্লোগান উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা কোথাও বৈষম্য চাই না। স্বজনপ্রীতি গোষ্ঠিপ্রীতি, দলপ্রীতি, আত্মপ্রীতি, এই যুব সমাজ এটা দেখতে চায় না। আমরা যুবসমাজকে কথা দিয়েছি। তোমরা যা চাও, আমাদের চাওয়াও তাই। তোমরা যা অপছন্দ করো আমরাও তা অপছন্দ করি। সুতরাং লড়ে যাবো একসাথে। আর যুব সমাজ যদি সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে সমাজ পরিবর্তনে বাধ্য। এমনকি নবী করিম (সা:) সময়ও আন্দোলন যুব সমাজের ওপর ভর করেই সফল হয়েছে।
মক্কা বিজয়ের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, আজকে সেই মক্কা বিজয়ের দিবস। ১৯ অথবা ২০ তারিখ মক্কা বিজয় হয়েছে। হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় আয়াত নাজিল হয়েছিল; নিশ্চয় আল্লাহ আপনাকে সুষ্পষ্ট বিজয় দিয়েছেন। সন্ধিটায় দৃশ্যমান ছিল একতরফা মক্কাবাসী কুরাইশদের পক্ষে। এই সন্ধির পর সাহাবিদের কেউ কেউ আবেগে যন্ত্রণায় মাটিতে পরে কেঁদে কেঁদে গড়াগড়ি করছিল। এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। তারা বুঝতে পারছিলেন না। বিজয়ের সুসংবাদটা কিভাবে এসেছে। ওই মক্কার সাথে কোন চুক্তিরও দরকার হয়নি। গোটা মক্কা আবাদ হওয়ার মাধ্যমে জাজিরাতুল আরব আবাদ হয়ে গেছে। বাংলাদেশও আবাদ হবে ইনশা আল্লাহ।
তিনি উল্লেখ করেন, আজকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যে অস্থিরতা, লড়াই-যুদ্ধ-বিদ্রোহ চলছে। সেটা কার্যত ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মুসলিম বিশ্ব। আমরা একটু পর ইফতার করবো। যুদ্ধ বিধ্বস্থ এলাকাগুলোতে ইফতার সাহরির চিন্তা না করে জীবন বাঁচানোর চিন্তা করছে। যারাই মানবতার ওপর জুলুম করবে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে। এবং এই কাজের নিন্দা আমরা করেই যাবো। আমরা চাই মানবতার বিজয় হউক। তবে আমাদের সিনিয়র নেতারা আফসোস করে গেলেন যে আমরা মানুষ হবো কবে ? মনুষ্যত্ব বিকশিত হবে কবে? সেই মনুষ্যতে¦র বিজয় হউক আল্লাহ তায়ালার কাছে সেই সাহায্য কামনা করি।
ইফতার মাহফিলে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল ড. অলি আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবদুল হালিম,জাগপার চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান. ভাইস চেয়ারম্যান রাশেদ প্রধান, সেক্রেটারি ইকবাল হোসেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, মাসুদ সাঈদী এমপি, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, বিডিপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চাদ নেজামে ইসলাম পার্টির সেক্রেটারি মুসা বিন ইজহার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান লায়ন ফারুক রহমান প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।