জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের শরিক দল থেকে পঞ্চগড়-১ আসনের মনোনীত প্রার্থী সারজিস আলম বলেছেন, বাংলাদেশ এক সন্ধিক্ষণ পার করছে। এই সময়টাই নির্ধারণ করবে দেশ ইনসাফভিত্তিক সমাজের দিকে এগোবে, নাকি আবার কোনো নব্য স্বৈরাচারের হাতে জিম্মি হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পঞ্চগড় পৌরশহরের ইসলামবাগ এলাকার ফুলকুড়ি শিশু একাডেমি মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস আলম বলেন, এই সময়টা ঠিক করে দেবে—দেশে ন্যায়বিচার, ইনসাফ ও মানবিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে, নাকি আগের মতোই চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস সমাজকে গ্রাস করবে। এজন্য ভোটের মাধ্যমে একটি সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণমূলক সরকার নির্বাচিত করা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের রাজনীতিতে দুটি স্পষ্ট অবস্থান তৈরি হয়েছে। একটি হলো জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ, যারা ইনসাফ, ন্যায়বিচার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ। অপরটি হলো বিএনপি ও তাদের জোট। গত দেড় বছরে পাওয়া স্বাধীনতার সুযোগ কে কীভাবে ব্যবহার করেছে—মানুষের কল্যাণে নাকি নিপীড়নের জন্য—সেটি বিবেচনায় নিয়েই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সারজিস আলম বলেন, যারা দেড় বছরের মধ্যে মানুষের ওপর জুলুম, ভয়ভীতি, মাদক ব্যবসা ও মামলা বাণিজ্যে জড়িয়েছে, তাদের হাতে ক্ষমতা গেলে তারা আরও ভয়ংকর স্বৈরাচারে পরিণত হবে। তিনি বলেন, “যদি মনে করেন আমাদের জোট এসব করেছে, তাহলে আমাদের ভোট দেবেন না। আর যদি মনে করেন বিএনপি ও তাদের নেতাকর্মীরা এসব করেছে, তাহলে তাদের ভোট দেবেন না।”
ভজনপুর ইউনিয়নের একটি ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাপলা কলির প্রচারণায় গেলে কয়েকজন নারীকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে বলা হয়েছে—এটি ধানের শীষের এলাকা, এখানে প্রচারণা করা যাবে না। এ ধরনের আচরণকে তিনি স্বৈরাচারী মানসিকতার নগ্ন বহিঃপ্রকাশ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, যারা নিজেদের সন্তানদের বিদেশে পড়াশোনা করায়, বিদেশে চিকিৎসা নেয়, অথচ দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে অবহেলা করে—তারা জনগণের প্রকৃত নেতা হতে পারে না। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কোনো দল, মার্কা বা ব্যক্তির দাস না হয়ে বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
উঠান বৈঠকে সারজিস আলম বলেন, “আমার কাছে ভোট কেনার মতো কোনো চাঁদাবাজি বা মাদক ব্যবসার টাকা নেই। আমার শক্তি মহান আল্লাহ এবং আপনাদের দোয়া। আপনারা সচেতনভাবে ভোট দিলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবেই।”