শিশু-কিশোরদের অনলাইন আসক্তি ঠেকাতে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চান বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তারা ছাত্রছাত্রীদের জন্য শিক্ষার সঙ্গে খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চাকে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করতে আগ্রহী।
গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ তারেক রহমান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।
‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
এসময় জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে তরুণদের ভাবনা, শিক্ষা, সমাজ ও দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতবিনিময় করেন তারেক রহমান ও জাইমা রহমান।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, শিক্ষাব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে শিশুরা পড়ালেখাকে চাপ হিসেবে না নেয়, বরং আনন্দের সঙ্গে শেখে। তিনি জানান, ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতিতে শুধু বইয়ের পড়া নয়, খেলাধুলাতেও পাস করার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি পাঠ্যক্রমে শিল্প ও সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিশুরা যদি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকা-ে যুক্ত থাকে, তাহলে তাদের সময়ের বড় একটি অংশ গঠনমূলকভাবে কাটবে। এতে করে অতিরিক্ত ইন্টারনেট ব্রাউজিং ও অনলাইন আসক্তি কমানো সম্ভব হবে।
প্রাথমিক শিক্ষার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, স্কুল ভবন নির্মাণের চেয়ে শিক্ষকদের দক্ষতা ও যোগ্যতা বাড়ানো বেশি জরুরি। এজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একাডেমিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ শেখানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সামাজিক অবক্ষয় ও মব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ন্যায়-অন্যায়ের শিক্ষা দেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এসব সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ জাতীয় রিল-মেকিং প্রতিযোগিতায় দেশব্যাপী প্রায় আড়াই হাজার প্রতিযোগী অংশ নেন। জনমত ও জুরি বোর্ডের মূল্যায়নের মাধ্যমে সেখান থেকে ১০ জন বিজয়ী নির্বাচিত হন।
কোকোর কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান
বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর কবর জিয়ারত করলেন তার বড় ভাই ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গতকাল তার ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দুপুরে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে পরিবারের অন্য সদস্যদেরকে নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত শেষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এসময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর সহধর্মিণী শর্মিলা রহমান সিথি, জাহিয়া ও জাফিয়া রহমানসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৫ সালের এই দিনে মালয়েশিয়ায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরাফাত রহমান কোকো। রাজনৈতিক টানাপড়েনের বাইরেও দুই ভাইয়ের মধ্যকার ব্যক্তিগত সম্পর্ক সবসময়ই বেশ নিবিড় ছিল বলে জানা যায়।