কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা : আখাউড়া উপজেলার ৫নং মনিয়ন্দ ইউনিয়নের মিনারকোর্ট গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মনিয়ন্দ ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ডা. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য সমর্থিত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের এমপি প্রার্থী মো. আতাউর রহমান সরকার।
আতাউর রহমান সরকার বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে সকল ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং সবাই নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালনের সুযোগ পাবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী আপসহীন অবস্থানে থাকবে। এ ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রতিটি গ্রামে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গ্রামভিত্তিক উন্নয়ন কমিটি গঠনের কথাও জানান তিনি।
যুব সমাজের প্রসঙ্গে আতাউর রহমান সরকার বলেন, শিক্ষাজীবন শেষ করেই যাতে তরুণরা কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে, সে পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু মহল বেকার ভাতার নামে যুব সমাজকে পরনির্ভরশীল করে তোলার পরিকল্পনা করছে, যা জাতির আত্মমর্যাদার পরিপন্থী।
এছাড়া তিনি ঘোষণা দেন, ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে আখাউড়া ও কসবা উপজেলার সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর আধুনিকায়ন করা হবে এবং নতুন করে পাঁচটি অ্যাম্বুল্যান্স সংযোজন করা হবে। একই সঙ্গে যুবকদের জন্য গণবিবাহের আয়োজন এবং এলাকার রাস্তাঘাটের সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন তিনি।
উঠান বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন আখাউড়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সানাউল্লাহ, আখাউড়া উপজেলা খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি মাওলানা রায়হান সিরাজী, মনিয়ন্দ ইউনিয়ন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, শিশু ও যুব বিভাগের সভাপতি মিজানুর রহমান মনজু, প্রবাসী জামিল ভূইয়া, ফজলুর হক, হেফজু ভূইয়া এবং ৯নং ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন।
সভায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।