দায়িত্ব নেওয়ার পর গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথম অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার প্রধান হিসেবে এটি তার তৃতীয় কর্মদিবস। এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত বুধ ও বৃহস্পতিবার তিনি সচিবালয়ে অফিস করেন।
প্রধানমন্ত্রী শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করতে আসেন। কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়ের মূল ভবনে ঢোকার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের সময় দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পুরোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম ধরে কাছে ডেকে কথা বলেন।
কার্যালয়ে ঢুকে প্রধানমন্ত্রী একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা কার্যালয় চত্বরে রোপণ করেন। তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডাকটিকিট উন্মোচন : তারেক রহমান মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি এ ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। এই সময়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সচিব আব্দুন নাসের খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ১৯ বছরে আগের যখন ম্যাডাম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সেই সময়কার কর্মচারিদের কয়েকজনকে দেখে প্রধানমন্ত্রী নাম ধরে ডাকেন এবং তাদের সাথে কথা বলেন। এসময় তাদের পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। এটা একটা স্মরণীয় ঘটনা। তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করার সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা একপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হয়ে এই কার্যালয়েই অফিস করেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ম্যাডামের সময়ে কাজ করেছেন এমন কিছু কর্মচারি যারা ১৯ বছর আছে নবীন ছিলেন এখন তার চুল পাক ধরেছে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে চিনতে ভুল করেননি। নিজেই নাম ধরে তাদেরকে ডেকে কথা বলেছেন। ওই সব কর্মচারিরা যেমন আবেগ আপ্লুত হয়েছেন তেমনি অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারিরা বিস্মিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মহানভুবতা এবং কথার ব্যবহারে।
এরপর প্রধানমন্ত্রী রেড ব্লকে প্রবেশ করেন যেখান প্রধানমন্ত্রী চেম্বার বা কক্ষ। প্রধানমন্ত্রী সেখানে নিজের চেয়ারে বসেন এবং দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকেট উন্মোচন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠকে বসেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেস সচিব।