শ্রমজীবী মানুষের কাজের মাধ্যমেই দেশে আল্লাহর দ্বীন কায়েম হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি পরিবহন খাত। এ খাত দুর্বল হলে দেশের অর্থনীতিও সচল রাখা সম্ভব নয়। তাই পরিবহন শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
আজ রোববার (২৩ আগষ্ট) বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদ। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম।
আ ন ম শামসুল ইসলাম বলেন, শিল্পকারখানার পণ্য মানুষের কাছে এবং কৃষকের উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছে দিতে পরিবহন শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অথচ একজন চালক বা পরিবহন শ্রমিককে অনেক সময় দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি কাজ করতে হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাঁদের ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হয়। এ পরিস্থিতিতে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে শ্রমিকরা পরিবার নিয়ে নানা সংকটের মধ্যে রয়েছেন। সন্তানদের পড়াশোনার খরচসহ পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেও অনেক শ্রমিককে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে শ্রমিকদের পাশে দাঁড়াতে সংগঠনের নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পরিবহন শ্রমিকদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আ ন ম শামসুল ইসলাম। শ্রমিকদের কল্যাণ ও পরিবহন খাতকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী শ্রমিক সংগঠনে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদ বলেন, বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনকে দেশের এক নম্বর শ্রমিক সংগঠনে পরিণত করতে পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে। শ্রমিকদের ওপর অবৈধ হয়রানি ও নির্যাতন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। কোনো শ্রমিক সমস্যায় পড়লে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর পাশে দাঁড়াবেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবহন খাতকে মাদকমুক্ত করতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবহন খাতে অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। শ্রমিকদের কাছ থেকে আদায় করা চাঁদার অর্থ কোনো মন্ত্রী, সংসদ সদস্য বা রাজনৈতিক নেতার বাসাবাড়িতে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সভায় পরিবহন শ্রমিকদের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের কল্যাণে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও রাজশাহী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা আব্দুস সবুর, সহ-সভাপতি আবু তালেব চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম, এইচ এম আতিকুর রহমান, সাইদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জুবায়ের আল মাহমুদসহ কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।