বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘আমাদের সামনে ব্যালটের যুদ্ধ আসছে। সৎ লোক এবং আল্লাহর আইনের নেতৃত্বের পক্ষে যারা থাকবে ব্যালটে সীল দিয়ে বাতিলকে পরাজিত করে হককে বিজয়ী করতে হবে।’

শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফিরোজ আহম্মেদ গাজীর সভাপতিত্বে ও হেদায়েত হালদারের সঞ্চালনায় ভোটার সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এতদিন দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে বলে সঠিক রায় হয়নি। যেখানে ভোট দিতে গেছেন যাওয়ার আগেই ভোট দেয়া হয়ে গেছে। আশা করি আমরা এবার ভোট দিতে পারবো। অতীতে আপনারা ভোট দিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এবার দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিয়ে পরীক্ষা করুন দেশটা কেমন চলে।’

তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫৪ বছরের অশিক্ষা, কু-শিক্ষা, চরিত্রহীনতা, অমানবিকতার অবক্ষয়ে দেশ ও সমাজ তছনছ হয়ে গেছে। তারা চুরি, ডাকাতি, খুন, যেনা, ব্যাভিচার, চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী, লুট পাট করেছে। যারা শাসন করেছে তারা এগুলো দমন করতে পারেনি। সৎ লোক আর আল্লাহর নেতৃত্বে পক্ষের লোক না থাকার কারণে দেশের মানুষ জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।’

সমাবেশে বিশেষ অতিথি জেলা সেক্রেটারি মুন্সি মিজানুর রহমান, জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম কুদ্দুস, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবু ইউসুফ মোল্লা, ঢাকা মহানগর উত্তরের শূরা সদস্য মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম আল ফয়সাল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ডক্টর একরাম উদ্দিন সুমন, ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসেন, উপজেলা নায়েবে আমির গাজী সাইফুল্লাহ, উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার আব্দুর রশীদ বিশ্বাস, যুব সভাপতি বি এম আলমগীর হোসেন, শ্রমিক নেতা মাওলানা সাইদুল্লাহ হোসাইন, উপজেলা শিবির সভাপতি মফিজুর রহমান, উপজেলা কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে আমানুল্লাহ হালদার, মাওলানা ফয়েজ উদ্দিন হালদার, মাওলানা হাফিজুর রহমান, উপজেলা হিন্দু শাখা সহ-সভাপতি বাবু কানাইলাল কর্মকার, উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যক্ষ দেব প্রসাদ মন্ডল, ধামালিয়া ইউনিয়ন আমীর মোস্তাক আহমেদ চৌধুরী, জিল্লুর রহমান রিপন, সবুজ গাজী, আনোয়ারুল কবির, নুর ইসলাম জোয়ার্দার, ফেরদৌস হোসেন গাজী, হুমায়ুন ফকির, মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্বাস, খায়রুল ইসলাম ফকির, মোকাদ্দেস মোল্লা, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, ইলিয়াস হোসেন মোড়ল প্রমুখ।

এর আগে সকাল ৮টর দিকে আমভিটা বাজারে পথ সভায় রংপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন সেক্রেটারি রাশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় পথ সভায় বক্তৃতা করেন সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার।

থুকড়া বাজারে পথ সভা রঘুনাথপুর ইউনিয়ন আমির শেখ বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদ আলমের সঞ্চালনায় পথ সভায় সেক্রেটারি জেনারেল বক্তৃতা করেন।

সকাল ৯টার দিকে মিয়া গোলাম পরওয়ার শোলগাতিয়া বাজারে ভোটার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। ইউনিয়ন আমির মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ইউনিয়ন সেক্রেটারি তৈয়েবুর রহমান জোয়ার্দারের সঞ্চালনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে দুপুর ১২টার দিকে প্রচণ্ড বৃষ্টির মধ্যে মিকশিমিল হাসানপুর সার্বজনীন পূজা মন্দির চত্বরে অরুপ রায়ের সভাপিত্বে সমীর রায় পরিচালনায় সনাতনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ইসলামী দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় গেলে ধর্ম বর্ণ সকল মানুষ ভাল থাকা যায় এ জন্য নতুন বাংলাদেশ গড়তে আমাদের দাঁড়ি পাল্লায় ভোট দিতে হবে। এতদিন মন্দিরে হামলা, বাড়িতে হামলা, ঘের দখল, চাঁদাবাজী, অন্যদলের লোকেরা করেছে। আমাদের লোকেরা পূজায় মন্দিরে পাহারা দিয়ে সাহস ও সান্ত্বনা জুগিয়েছে। সৎ ও আদর্শ ব্যক্তিরা এসব করে না। সৎ নেতৃত্বে যদি সৎ মানুষ দায়িত্বে থাকে তাহলে সনাতনী মা ভাই বোনেরা নিরাপদে থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘এতদিন যারা লুট পাট করে খেয়েছে তাদের ছুড়ে ফেলে নতুনদের আসার সুযোগ করে দিন।’

জামায়াতে ইসলামী শান্তির সমাজ গঠনে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, সেই শান্তি সমাজে ছড়িয়ে দিতে হলে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ করতে হবে। হিন্দুদের বন্ধু সেজে যারা হিন্দুদের সম্পদ দখল করেছে, হিন্দুদের ওপর জুলুম করেছে তারা এসব অপবাদ ইসলামী দলগুলোর উপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সাক্ষ্য দিচ্ছে, কোন ইসলামী দল তাদের উপর জুলুম করেনি। বরং জামায়াতে ইসলামী তাদের সম্পদ রক্ষায় ভূমিকা রেখেছে।’

বিকেল ৩টার দিকে মিকশিমিল রুদাঘরা উচ্চ বিদ্যালয়ে মহিলা সমাবেশে ইউনিয়ন আমির মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে ও ইউনিয়ন সেক্রেটারি তৈয়েবুর রহমান জোয়ার্দারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল ৪টার দিকে রুদাঘরা মাঝের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোটার সমাবেশ ইউনিয়ন আমির মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে কারী ফেরদৌস গাজী পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ‘বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল হলো বিল ডাকাতিয়া। ফুলতলা-ডুমুরিয়ার লাখ লাখ মানুষের আয়ের একমাত্র উৎস এই বিল। বিল ডাকাতিয়ার অব্যাহত জলাবদ্ধতায় এই অঞ্চলের মানুষের অবর্ণনীয় দুঃখ-কষ্ট ও দুর্ভোগ আমাকে সবসময় পীড়া দেয়। আমিও এই মাটির সন্তান। এই বিলে আমাদেরও জমিজমা রয়েছে। সুতরাং আপনাদের দুঃখ-কষ্ট আমাদেরই দুঃখ-কষ্ট। আমি গত আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর জেল থেকে বেরিয়েই বিলের জলাবদ্ধতার কথা জানতে পারি। তখন এলাকার মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে আমি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, ডিসি, ফুলতলা-ডুমুরিয়ার ইউএনও অফিসে নিজে গিয়ে টেলিফোন করে চেষ্টা করেছি এই জলাবদ্ধতা নিরসনের। কিন্তু এই জলাবদ্ধতা দুইভাবে হয়ে থাকে। এক. প্রাকৃতিক দুই. মনুষ্য সৃষ্টি। প্রকৃতির ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এটা একমাত্র আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু আমাদের নিজ স্বার্থের কারণে লাখ লাখ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে খালে বিলে পাটা দিয়ে, জমি দখল করে মাছ চাষ করার নামে খাল দখল করে রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবাহিত হতে পারে না সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। আমি গত সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করে আপনাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরি। উনি তাৎক্ষণিকভাবে একটি কমিটি করে দেয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ডিজিকে পাঠান জলাবদ্ধতা দূরীকরণের করণীয় ঠিক করতে।

গত শুক্রবার ডিজি আসছিলেন এবং তিনটা পর্যায় ঠিক করেছেন। এদিকে যদি এই স্লুইসগেটের সবগুলো খুলে দেয়া হয় তাহলে এক পাশ রক্ষা পেলেও অপর পাশের ভাইয়েরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এমন একটা ব্যবস্থা করতে হবে যাতে উভয় পাশের লোকজন ভালো থাকতে পারে। আমি এই কালিঘাটের পোল্ডার আলোচনা সাপেক্ষে সহনীয় পর্যায় খুলে দিলাম। আর এই বিল ডাকাতিয়া, বিল বাদুড়িয়া, বিল মধুগ্রামসহ সকল বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনের এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।