মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার শিলুয়া এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জুড়ী উপজেলায় পৃথক সংবাদ সম্মেলনে উভয় পক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে একে অপরকে দায়ী করেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, হামলার ঘটনায় জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলামের বড় ভাই আতিকুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। এছাড়া জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, শিবির নেতা তারেক ও আব্দুল্লাহ, এনসিপির এক নেতাসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত তিনজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত তারেক রহমান অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুজনকে ছুরিকাঘাত করে এবং দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে আরও কয়েকজন আহত হন।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুর রহমান দাবি করেন, বিএনপি প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠুর নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে। এতে তিনি নিজেও আহত হয়েছেন বলে জানান। ঘটনার প্রতিবাদ ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে রাতে জামায়াত নেতাকর্মীরা জুড়ী থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মারুফ দস্তেগীর ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মামলা দায়েরের পর পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতে সকলকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দীন মিঠু সংবাদ সম্মেলনে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, চা-বাগান এলাকায় অর্থ বিতরণের চেষ্টা করলে স্থানীয়রা বাধা দেয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ‘অপপ্রচার’ বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে জাল ভোটের চেষ্টা করার অভিযোগ তোলেন।
পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, তাদের নেতাকর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
রাজনীতি
জামায়াত নেতাকর্মীর ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর: জুড়ীতে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
স্থান
জুড়ি