গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা : চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডক্টর মু. মিজানুর রহমান শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রহনপুরের ইউসুফ আলী সরকারি কলেজ মসজিদে জুমার নামাযে ইমামতি করেন। নামায শেষে তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে উপস্থিত মুসল্লিদের কাছে দোয়া কামনা করেন এবং এলাকার উন্নয়ন নিয়ে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, নাচোল, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর উপজেলাকে ন্যায়, ইনসাফ ও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে একটি সুন্দর, পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তিনি সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে বলেন, “এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে আমি আপনাদের দোয়া ও সক্রিয় সহযোগিতা চাই।”

জুমার নামাযে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নামায শেষে অনেকেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁর সফলতা কামনা করেন।

বিএনপির উপর অর্পিত দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে-ড. আবদুল মঈন খান

নরসিংদী সংবাদদাতা : জনগণ আমাদের যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেই অর্পিত দায়িত্ব বিএনপি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে। আগামী ৫ বছর সঠিকভাবে পালন করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ পলাশ আসনের সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচনে সঠিকভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে। তারা দেশপ্রেমিক ও জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী, বাংলাদেশের কল্যাণে ও উন্নয়নে যারা কাজ করেছে, অতীতে যারা প্রমাণ করেছে যে দলটি দেশের কল্যাণে কাজ করেছে, মানুষ সেই দলটিকে বিজয়ী করে দেশ চালনার দায়িত্ব দিয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাযের পূর্বে নরসিংদী পলাশ উপজেলার তার নিজ গ্রাম চরনগরদী গ্রামে বাবা মায়ের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে আমরা উন্নয়নের দিকে নিয়ে যাবো, বিশ্বের কাছে সম্মানজনক জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করবো। আমরা রাজনীতি করি জনগণের জন্য, ক্ষমতার জন্য নয়। গতকালের নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে বাংলাদেশের মানুষ বিএনপিকে ভালোবাসে। পরে তিনি নেতাকর্মীদের সাথে নির্বাচনের বিজয়ী শুভেচ্ছা ব্যক্ত রাখেন এবং পলাশের উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন। ড. আব্দুল মঈন খান ৯২ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১৬১। তবে এ আসনে জামায়াত জোটের প্রার্থী মোঃ গোলাম সারোয়ার তুষার শাপলাকলি প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ২৩৬ ভোট। এর আগে ১১ দলীয় জোটের চাপে শেষ পর্যন্ত জামায়াত প্রার্থী আমজাদ হোসেন, এনসিপির গোলাম সারোয়ার তুষারকে সমর্থন দিয়ে এবং তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েও আমজাদ উল্লেখিত ভোট পান।

মাগুরা-১ আসনে বিএনপি’র মনোয়ার হোসেন খান ও ২ আসনে নিতাই রায় চৌধুরী নির্বাচিত

শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসনে বিএনপি’র মনোয়ার হোসেন খান ও মাগুরা-২ আসনে বিএনপি’র নিতাই রায় চৌধুরী বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের বিজয়ী ঘোষণা করেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দুই আসনের সকল কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই গণনা সম্পন্ন হয়।

মাগুরা-১ আসনে মোট ১৫৮টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোঃ মনোয়ার হোসেন খান (ধানের শীষ প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ৮৩ হাজার ৬৬৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল মতিন (দাঁড়িপাল্লাপ্রতীক) পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৬ ভোট।

অন্যদিকে মাগুরা-২ আসনে মোট ১৪৫টি কেন্দ্রের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী নিতাই রায় চৌধুরী (ধানের শীষ প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৯৬ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মোঃ মুশতারশেদ বিল্লাহ (এমবি বাকের) (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ১৮ ভোট।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে দুই আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ-৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী এসএম ফয়সল বিজয়ী

চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা: বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে হবিগঞ্জ-৪ (চুনারুঘাট-মাধবপুর) আসনের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন।

ঘোষিত ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এসএম ফয়সল ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ধানের শীষ প্রতীকে এসএম ফয়সল আহমদ পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সুন্নী জোটের আলোচিত প্রার্থী মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরী মোমবাতি প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৮৯৬ ভোট। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের দেওয়ালঘড়ি প্রতীকে পেয়েছেন ২৫ হাজার ৪২৩ ভোট। অন্যান্য প্রার্থীরা তুলনামূলক কম ভোট পেয়েছেন। এ আসনের মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৭১টি। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৩ হাজার ৯৪৮। ফলাফল শিট অনুযায়ী ভোটগ্রহণের হার ছিল ৫৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। হবিগঞ্জ-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১৮ হাজার ৭১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭৪ হাজার ৪৯ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।

বাগমারায় হাজারো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত জামায়াত নেতা আব্দুল বারী

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল বারী সরদার দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারন ভোটারদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন। নির্বাচনের পরের দিন গতকাল শুক্রবার উপজেলা সদররে আগমন উপলক্ষ্যে হাজারো কর্মী-সমর্থক মিলিত হয়। এ সময় তাদের প্রিয় নেতাকে ঘিরে মিছিলে মিছিলে শ্লোগান সরব হয়ে উঠে এক আনন্দ ঘন পরিবেশ। প্রিয় নেতা সকলকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানায়। বিজয়ের উল্লাসে অসংখ্য কর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে খোলা আকাশের নীচে এক যোগে আল্লার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সেজদা করেন। পরে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আব্দুল বারী সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের এই ভালোবাসা আমি কোনোদিন ভুলবো না। কেউ অতি উৎসাহী হবেন না, শান্ত ও সু শৃঙ্খল বজায় রাখবেন। কাউকে তিরস্কার করবেন না, কে কি বলেছে তার প্রতিবাদ করবেন না, দল মত নির্বীশেষে সবাই আমাকে ভোট দিয়েছে, আমি সবার এমপি”। জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল বারী বে-সরকারি ভাবে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আব্দুল বারী সরদার ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৫ শত ৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম জাতীয়তাবাদী (বিএনপি) প্রার্থী ডি. এম জিয়াউর রহমান জিয়া (ধানের শীষ) ১ লক্ষ ৮ হাজার ৬৬৪ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। ছোটখাটো দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণ ভোট শেষ হয়।

ঝিনাইদহে জামায়াতের চার আসনের তিনটিতে বিজয়

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহে জেলার চারটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, চারটির মধ্যে তিনটিতে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা এবং একটি আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে এ ফলাফল জানা যায়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ঝিনাইদহ-১ আসন (শৈলকুপা) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট। এ আসনে জয়ের ব্যবধান ১ লাখ ১৬ হাজার ২১ ভোট এবং মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ২৭৮ জন।

ঝিনাইদহ-২ আসন (ঝিনাইদহ সদর ও হরিণাকুণ্ডু) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মো. আবু বকর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৬৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের মো. আব্দুল মজিদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৭ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ৬ হাজার ৬৩২ জন।

ঝিনাইদহ-৩ আসন (কোটচাঁদপুর মহেশপুর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মো. মতিউর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৭২ হাজার ৪৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮২ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার ১৫ জন।

ঝিনাইদহ-৪ আসন (সদরের আংশিক ও কালীগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মো. আবু তালিব দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪ হাজার ৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম ফিরোজ পেয়েছেন ৭৫ হাজার ৭৫০ ভোট এবং ধানের শীষ প্রতীকের রাশেদ খাঁন পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৭০ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৬১ জন।

উল্লেখ্য, জেলার চারটি আসনেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। কোথাও কোনো সংঘাত বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কোনো পরাজিত প্রার্থী ফলাফলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেননি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ঝিনাইদহে একটি গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর নির্বাচনের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

গাইবান্ধার ৫টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন যারা

গাইবান্ধা সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের বেসরকারি ফলাফলে ৪টিতে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এবং একটিতে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ২টায় নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মাসুদুর রহমান মোল্লা তার কার্যালয়ে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন।

নির্বাচিতরা হচ্ছেন- গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাজেদুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭ ভোট। গাইবান্ধা-২ (সদর) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল করিম সরকার ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী আনিসুজ্জামান খান বাবু পেয়েছেন ৯১ হাজার ৩০৩ ভোট। গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ১ লাখ ৬২ হাজার ৪৫৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী ডা. মাইনুল হাসান সাদিক পেয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৮৬৪ ভোট।

গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বিএনপির প্রার্থী শামীম কায়ছার লিংকন ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াতের প্রার্থী আব্দুর রহিম সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০০ ভোট।

গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল ওয়ারেছ ৮৯ হাজার ২৭৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপির প্রার্থী ফারুক আলম সরকার পেয়েছেন ৭৩ হাজার ৪৮৩ ভোট।

গাইবান্ধা-৩ আসনে বেসরকারিভাবে জামায়াত প্রার্থী জয়ী

সাদুল্লাপুর সংবাদদাতা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের বেসরকারি ফলাফলে জামায়াতে ইসলামের (দাঁড়িপাল্লা) প্রার্থী আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তিনি ভোট পেয়েছেন ১ লক্ষ ৬০ হাজার ৫৫২ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি (ধানের শীষ)-এর প্রার্থী অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ ভোট।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মইনুর রাব্বি চৌধুরী (নাঙ্গল) ১৫৮৬, মোঃ এ টি এম আওলাদ হোসাইন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (হাতপাখা) ২৮১৫টি স্বতন্ত্র প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম খুদি, ঘোড়া-২০০৯ ভোট পেয়েছেন।

সুরুজ মিয়া, গণঅধিকার পরিষদ (ট্রাক) ১৭৬৮টি। আব্দুল্লাহ আদিল, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (কাস্তে) ৫১৩, মোঃ মনজুরুল হক, জনতার দল (কলম) ১৫৪টি, আজিজার রহমান স্বতন্ত্র (ঢেঁকি) ১০৮১টি, মোছাদ্দিকুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ (আপেল) ১৪১টি ভোট।

গণভোট

হ্যাঁ = ১০৭৯৩৮ + ৯৮৬৭৩ = ২০৬,৬১১

না = ৪৪৮৯৪ + ৩৫৫৩৮ = ৮০,৪৩২

শতকরা ভোট পড়েছে = ৬১.১২%

সিলেট-৫ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী বিজয়ী কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি মার্কা নিয়ে সিলেট-৫ আসনে বিজয় অর্জন করেছেন মুফতি আবুল হাসান। উক্ত আসনে কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলায় তিনি পোস্টাল ভোট সহ ৭৮৯৫৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন ৬৮৮৬৯ ভোট।

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতাপূর্ণ এই নির্বাচনে বিজয়ী মুফতি আবুল হাসানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আবদুল জলিল। প্রদত্ত অভিনন্দন বার্তায় নেতৃবৃন্দ মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সিলেট-০৫ আসনের জনগণকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। নেতৃবৃন্দ মুফতি আবুল হাসানের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি তাঁর উপর অর্পিত জনগণের আমানত রক্ষা ও সাংগঠনিক দায়িত্ব যথাযথ পালন করবেন বলে নেতৃবৃন্দ কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতিকে সর্বশেষ ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। দেওয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে খেলাফত মজলিসের এটা দ্বিতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ। এবারের নির্বাচনে প্রার্থীগণ নারায়ণগঞ্জ-৫, হবিগঞ্জ-২, মানিকগঞ্জ-২ ও খুলনা-৪ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে দ্বিতীয় হয়েছেন। তবে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে দেওয়াল ঘড়ির প্রার্থীকে ভোট গণনায় কারচুপির মাধ্যমে হারানোর অভিযোগ উঠেছে বিধায় ভোট পুন:গণনার দাবি জানানো হয়েছে।

বাগমারায় জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল বারী নির্বাচিত

বাগমারা (রাজশাহী) সংবাদদাতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে জামায়াতের প্রার্থী আব্দুল বারী সরদার বে-সরকারিভাবে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। জামায়াতের মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আব্দুল বারী সরদার ১ লক্ষ ১৩ হাজার ৫ শত ৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম জাতীয়তাবাদী (বিএনপি) প্রার্থী ডি. এম জিয়াউর রহমান জিয়া (ধানের শীষ) ১ লক্ষ ৮ হাজার ৬৬৪ ভোট পেয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের ১২২টি ভোট কেন্দ্রে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের উপস্থিতিতে, ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ক্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ভোট গ্রহণ হয়। আসনে মোট ভোটার ৩ লক্ষ ১৯ হাজার ৯০৯ জন। সকাল থেকে নারী ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিত বেশী লক্ষ্য করা গেছে। দ্বিপ্রহরে পর পুরুষ ভোটারদের উপস্থিত বাড়তে থাকে।