নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ততই বিশৃঙ্খলার ঘটনা বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবারও ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, পাবনা, বগুড়া, বরগুনা, নেত্রকোনা, নওয়া, শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে জামায়াত ও স্বতন্ত্রপ্রার্থী কর্মীদের উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার অভিযোগের তীর বিএনপির ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অধিকাংশ ঘটনায় হেনস্তার স্বীকার হচ্ছেন জামায়াতের নারী কর্মীরা।

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) সংবাদদাতা : ঢাকা-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর নির্বাচনী গণসংযোগকালে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর স্ট্যান্ড এলাকায় মাগরিবের নামাযের পর গণসংযোগ চলাকালে এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনকে মিটফোর্ড স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর দুইজনকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢাকা-৩ আসনের ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম বলেন, গণসংযোগ চলাকালে পেছন থেকে একদল বিএনপির নেতাকর্মী অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে ১১ দলীয় জোটের শরিক দল এনসিপির দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার যুগ্ম আহ্বায়ক হৃদয় গুরুতর আহত হন। তাকে রক্ষা করতে গেলে আরও দুইজন হামলার শিকার হন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা সামিউল্লার নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়েছে।

হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে আব্দুল্লাহপুর করের গাঁও জামায়াতের নির্বাচনী ক্যাম্পে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হানিফসহ স্থানীয় ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনা শোনার সাথে সাথেই আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই স্থানে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।

বগুড়া অফিস

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে জামায়াতের ৩ নেতাকর্মিকে আহত করেছে বিএনপি। হামলাকারীরা নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে। এবিষয়ে থানায় এজাহার দায়ের করলেও পুলিশ হামলাকারীদের গ্রেফতার করেনি। গত সোমবার দুপুরে হামলার ঘটনা ঘটে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়ন শাখার আমির মোফাজ্জল হোসেন এই অভিযোগ করেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখ, দুপুর আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে, শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের উত্তর বেলাই গ্রামে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মাওলানা শাহাদাতুজ্জামানের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী কার্যালয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। বিএনপি সমর্থিত একদল দাঙ্গাবাজ ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাদের শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী অফিসে হামলা করে। এই বর্বর হামলায় জামায়াতে ইসলামীর কিচক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মোঃ শাহ জালাল, সমর্থক মোঃ রশিদুল ইসলাম ও মোঃ আবু তাহের গুরুতরভাবে আহত হন। তাদের মাথা, হাত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে শাহ জালালকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর পরপরই পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সরকারের বিভিন্নগোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে অবগত হন।” তিনি অভিযোগ করেন, আমি আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিবগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করি। কিš‘ অত্যন্ত দুঃখ ও উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি এজাহার গ্রহণের পরও ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে জনমনে প্রশ্ন উঠছে, স্থানীয় প্রশাসন কি কোনো বিশেষ রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না? বিষয়টি গণতন্ত্র, সুষ্ঠু নির্বাচন এবং আইনের শাসনের জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা এই ঘটনার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের ওপর এভাবে হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বগুড়া শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা আলমগীর হোসাইন অভিযোগ করেন, “শিবগঞ্জে জামায়াত প্রার্থীর ব্যানার এবং ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলা হ”েছ। প্রশাসন এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে পারেনি।” তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি শান্তিপূর্ন রাজনৈতিক দল। আমরা অশান্ত হতে চাই না।” সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন হলে বগুড়া-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতিকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া-২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা শাহাদাতুজ্জামান সহ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাবনা সংবাদদাতা : পাবনা-৫ (সদর) আসনের বুদেরহাট এলাকায় জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে মহিলা জামায়াতের কর্মীদের প্রচারণায় বাধা ও হেনেস্থা করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে এনিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে বাগবিত-া ও উত্তেজনা দেখা দেয়।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের বুদেরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মহিলা জামায়াতের কর্মী অভিযোগ করে বলেন, তারা ওই এলাকায় তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার জন্য যান এবং কয়েকবাড়ি প্রচারণা করেন। এসময় কিছু পুরুষ মানুষ এসে তাদের বাধা দেন এবং বলেন- এটা শিমুল বিশ্বাসের (বিএনপির প্রার্থী) নিজ এলাকা। এখানে জামায়াতের ভোট চাওয়া যাবে না। এসময় তারা অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে। তারপরও তারা ভোট চাওয়ার চেষ্টা করলে আরও লোকজন এসে তাদের ধাক্কাধাক্কি ও লাঞ্ছিত করে। এসময় ইউনিয়ন জামায়াতের দায়িত্বশীল সুলতান আসলে তাকেও মারধর করা হয়। এসময় তাদের আটকে রাখা হয় বলেও জানান তারা।

পাবনা-৫ আসনের জামায়াতের প্রার্থী প্রিন্সিপাল ইকবাল হোসাইন বলেন, ভোট চাওয়ার অধিকার সবারই আছে। আজকের ঘটনায় প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই। অনতিবিলম্বে সন্ত্রাসীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।

এবিষয়ে বিএনপির প্রার্থী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও জেলার বিএনপি যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুস সামাদ খান মন্টুসহ কয়েকজন নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে পাবনা-৫ আসন এলাকায় নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম ফুয়াদ বলেন, ওখানে একপক্ষ আরেকপক্ষকে মারধরের অভিযোগ করেছে। আমরা সেনাবাহিনী ও পুলিশ সহ সেখানে গিয়েছিলাম। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এব্যাপারে পরে লিখিত অভিযোগ পেলে নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।

সোনারগাঁ সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গণসংযোগে মহিলা কর্মীদের ওপর হামলায় ৮ জন কর্মী মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের গোপালদী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের মোল্লার চর এলাকায় ১১ দলীয় জোট সমর্থিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার সমর্থনে মহিলা সমাবেশ চলাকালে বি এন পির স্থানীয় নেতা মোরশেদের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী লাঠিসোটা নিয়ে আক্রমণ করে। সংবাদ পেয়ে সাথে সাথে সংসদ সদস্য প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লা সেখানে গেলে তার ওপরও হামলা করে। তাকে রক্ষা করতে কর্মীরা এগিয়ে এলে তাদের ওপরও সন্ত্রাসীরা আক্রমণ চালায় এতে জামায়াত কর্মী মেহেদী হাসান অর্নব, মিরাজ মাহমুদ, মেহেদী হাসান অন্তর, শাফিল আহমদ, মুফতী মাহবুব আব্বাসী, মেহেদী হাসান, কাজী মারুফ, মাহবুব জোবায়ের আহত হয়। আহতদের আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এবিষয়ে ১১ দল মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ইলিয়াস মোল্লার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মহিলা কর্মীদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আমরা প্রশাসনকে জানিয়েছি প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে বলেছে। আশা করছি সন্ত্রাসীরা বিচারের আওতায় আসবে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঘটানার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলার আমীর আলহাজ্ব মমিনুল হক সরকার ও সেক্রেটারি হাফিজুর রহমান।

এ বিষয়ে জানতে আড়াইহাজার থানার অফিসার্স ইনচার্জ আলাউদ্দিন কে ফোন করে পাওয়া যায়নি।

নেত্রকোনা সংবাদদাতা

নেত্রকোনার পূর্বধলায় উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন আমতলা এলাকায় ‘নওরোজ কোচিং সেন্টারে গত সোমবার দিবাগত রাতে এক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ঘটনার পরদিন মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় উপজেলার রওশনারা রোডে অবস্থিত জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে নওরোজ কোচিং সেন্টার, নওরোজ কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার ও ‘ফ্যামিলি শপ’-এর স্বত্বাধিকারী এবং জামায়াত কর্মী সুরুজ্জামান অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তার প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় সিসি ক্যামেরা ও কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট এবং শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এতে তার আনুমানিক ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নেত্রকোনা জেলা জামায়াতের আমীর সাদেক আহমদ হারিছ অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর আত্মীয়স্বজন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেত্রকোনা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাছুম মোস্তফা বলেন, দলীয় কর্মী-সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশকে বাধা সৃষ্টি করে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির জয়নাল আবেদীন, নেত্রকোনা জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি রাসেল আহমেদ, সদর ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতি তাজুল ইসলাম বাবুল এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের পূর্বধলা উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা শরীফুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

শরীয়তপুর সংবাদদাতা

শরীয়তপুরের ভোজেশ্বর বাজার এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এ বিষয়ে এখনো কোন মামলা দায়ের হয়নি। বিষয়ে এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দায়ী করছে। ঘটনার পর বিকালে শরীয়তপুর-২ আসনের জামায়াত প্রার্থী সংবাদ সম্মেলন করে সংঘর্ষের বিষয় সঠিক তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিএনপির এক নারী কর্মী না ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোকে কেন্দ্র করে জামায়াতের এক কর্মী ফেসবুকের পেইজে স্ট্যাটাস দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভোজেশ্বর বাজার জামায়াত নেতা ইঞ্জিনিয়ার কাহেদ নজরুল এর দোকানে এসময় দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। কর্মীদের উপর হামলা চালায় বিএনপির নেতাকর্মীরা।। এতে সংঘর্ষের খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা জামায়াত অফিসে শরীয়তপুর-২ আসনের জামায়ত প্রার্থী ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হামলার বিষয়ে বিএনপির উপর দায় চাপিয়েছেন। এদিকে শরীয়তপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরন জামায়াতকে দায়ী করেছেন।

ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এরপর হাসপাতালে আমাদের আহত নিতাকর্মীদের দেখতে যাওয়ার সময় এবং হাসপাতালের সামনে আরও ২দফায় আমাদের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াত মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

শরীয়তপুর-২ আসনের বিএনপি প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরন মোবাইল ফোনে বলেন, আজকের সংঘর্ষের বিষয়ে আমাদের আইনী প্রক্রিয়া চলমান।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: বাহার মিয়া বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় এখনো কোন পক্ষই মামলা দায়ের করেনি। মামলা হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার পাথরঘাটায় জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রচারণায় নারী কর্মীদের বাঁধা ও ধর্ষণের হুমকির প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, পাথরঘাটা উপজেলা কার্যালয়ে উপজেলা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ইরানী আক্তার সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

এসময়ে তার সাথে জামায়াতের পাথরঘাটা উপজেলা সেক্রেটারি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, জামায়াতের চরদুয়ানী ইউনিয়নের সেক্রেটারি মোঃ নুরুজ্জামান আলমাস সহ পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতের অর্ধ শতাধিক নারী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে ইরানী আক্তার লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করে বলেন পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্থানের নেতাকর্মীরা আমাদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ঠেকানোর জন্য একটি কমিটি করেছে। ওই কমিটি প্রতিনিয়ত আমাদেরকে বাঁধা দেওয়া সহ বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি প্রদান করে আসছে।

ইরানী আক্তার বলেন, আমরা ভোটারদের বাড়িতে যেতে চাইলেই বিএনপি’র নেতাকর্মীরা আমাদের পথ রোধ করে আমাদের সাথে হাটা শুরু করেন এবং আমাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা সহ বাজে অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে ধর্ষণের হুমকি দেন।

তিনিসহ উপস্থিত জামায়াতের নারী নেতৃবৃন্দ বলেন, ২২ জানুয়ারি থেকে অদ্য পর্যন্ত একটি দিনও সুস্থভাবে আমাদের পক্ষে ভোট চাওয়া এবং নির্বাচনী প্রচারণা করতে পারছি না।

ইরানি আক্তার বলেন বিএনপি চায় একতরফা নির্বাচন করে বিগত সরকারের মতন সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেবে, তিনি বলেন আমরা এ-থেকে পরিত্রাণ চাই।

বরগুনা ২ আসনের জামায়াতের পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মোঃ তাওহীদুল ইসলাম বলেন আমাদের একাধিক নারী নেতৃবৃন্দকে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন সহ ধর্ষণের হুমকি দিয়ে আসছে এরকম পরিস্থিতিতে আমরা চরম উদ্বিগ্ন।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বরগুনা ২ আসনের বিএনপি পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব চৌধুরী মোঃ ফারুক বলেন, সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের নারী নেতৃবৃন্দ যে সকল অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ অসত্য।

পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান বলেন, জামায়াতের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়ে তদন্ত কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে পরবর্তীতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁ-৬ (রাণীনগর-আত্রাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আলমগীর কবিরের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে। গত সোমবার বিকেলে রাণীনগর উপজেলার পাকুরিয়া এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর (মোটরসাইকেল প্রতীকের) লিফলেট বিতরণের সময় তানসেন নামে এক যুবককে মারধর করা হয়।

এছাড়া একইদিন রাতে আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল প্রতীকের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেছেন বিএনপির প্রার্থী শেখ মো. রেজাউল ইসলাম রেজু। তিনি বলেন, সোমবার পাকুরিয়া খেলার মাঠে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দু’পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। আমার কোনো কর্মী-সমর্থক এর সঙ্গে জড়িত নয়।

মারধরের শিকার স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী তানসেন বলেন, আমি সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবিরের মোটরসাইকেল মার্কার লিফলেট বিতরণ করছিলাম। এ সময় পাকুরিয়া খেলার মাঠে আমাকে দেখতে পেয়ে রাণীনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোসারব হোসেনের ভাগ্নে লিটন কোনো কিছু জিজ্ঞেস না করেই আলমগীর কবিরের দালাল আখ্যা দিয়ে আমাকে মারধর করতে শুরু করে। পরে লিটনের সঙ্গে থাকা আরও ৫-৭ জন আমাকে মারধর করে। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে তারা চলে যায়।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের ওই কর্মী এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় রাণীনগর থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। এছাড়া রাতে আত্রাইয়ের বান্দাইখাড়া বাজারে আমাদের একটি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হয়েছে। তাই সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কায় আছি।

মামলা না নেওয়ার বিষয়ে রাণীনগর থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, মামলা নেওয়া হয়নি এই অভিযোগ সত্য নয়। তারা মৌখিকভাবে অভিযোগ করে গেছে। লিখিতভাবে অভিযোগ করলে বিষয়টি তদন্ত করে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।