স্টাফ রিপোর্টার (ঢাকা), মো. জাকির হোসেন, মো. জুলফিকার আলম : শহীদ হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিম রাহিমাহুল্লাহর কবর জিয়ারত করেছেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল রোববার সকাল ১০টায় শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি শহীদ হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিমের পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তার কবর জিয়ারত করেন। এসময় তিনি কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন এবং দেশবাসীর কাছে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অফিস থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এদিন সকাল ৯টায় আমীরে জামায়াত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি প্রাইভেট হেলিকপ্টারযোগ শেরপুরে পৌঁছান এবং সরাসরি শহীদ রেজাউল করিমের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, খোঁজখবর নেন ও সান্ত¦না দেন। এই কঠিন বিপদে তাদের ধৈর্যধারণের তাওফীক কামনা করে আল্লাহর নিকট দোয়া করেন। আমীরে জামায়াত শহীদ রেজাউল করিমের ৩ বছরের কন্যা সন্তানকে কোলে তুলে নেন এবং অবুঝ শিশুর মুখের দিকে তাকিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এরপর আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান নেতাকর্মীদের নিয়ে শহীদ রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন।
তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শহীদ রেজাউল করিম রাহিমাহুল্লাহর রূহের মাগফিরাত কামনা করেন ও তার শাহাদাত কবুলিয়াতের জন্য দোয়া করেন। আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ অঞ্চল পরিচালক ড. ছামিউল হক ফারুকী, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়াসহ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং স্থানীয় গ্রামবাসী। এসময় আমীরে জামায়াত বলেন, এখানে হত্যাকাণ্ডের পর এখানকার ওসি, ইউএনও বদল হয়েছে। তবে একজনকেও গ্রেফতার করা হয়নি। এর বিচার আমি দেশবাসীর কাছে দিয়ে গেলাম।
জামালপুর সংবাদদাতা
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী ১২ তারিখে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে নির্বাচন, ১৪শ’ শহীদের উপর দ্াঁড়িয়ে নির্বাচন, ৩৪ হাজার আমাদের পুঙ্গুত্বের উপর দাঁড়িয়ে নির্বাচন, এই নির্বাচন আয়না ঘরের অন্ধকারের অবসানের নির্বাচন, এই নির্বাচন জামায়াতে ইসলামীসহ তৎকালীন বিরোধীদলের দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার পর শহীদ পরিবারের নির্বাচন। এই নির্বাচন দুটি ভোট একটি হ্যা, অন্যটি না। হ্যাঁ জিতলে বাংলাদেশ জিতবে, না জিতলে বাংলাদেশ পরাজিত হবে। তিনি বলেন, জামালপুরে পাঁচটি আসনে ১১দলীয় পার্থী লড়াই করবে। আমরা আপনাদের পরিষ্কার বলে দিতে চাই, আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাইনা। ১৮ কোটি মানুষের বিজয় জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ে হবে ইনশাআল্লাহ। ২৪শে তরুন তরুণী তাদের দিকনির্দেশনা সংগ্রাম করেছেন, এই সংগ্রামে ওই দাবি বাস্তবায়নে স্বপ্ন আমাদের অঙ্গীকার। তারা চেয়েছিল বৈষম্যহীন সমাজ, তারা চেয়েছিল হাতে কাজ, তারা চেয়েছিল ন্যায়বিচার, তারা চেয়েছিল মুক্ত বাংলাদেশ, তারা চেয়েছিল চাঁদা মুক্ত বাংলাদেশ। আবু সাঈদ বলেছিল বুকের ভিতর তুমুল ঝড় বুক পেতেছি গুলী কর। তিনি বলেন, আমরা তার রক্তের সাথে বেঈমানি করতে পারবো না। এখানে ইসলামপুরের অবহেলিত এলাকার কথা বলা হয়েছে, আমি এখানে ২২ সালের মে মাসে এসেছিলাম। তখন ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল, দেখতে দেখতে দুই চারটা বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল। সেদিন আমি আমার সহপাটি দের নিয়ে ঘোলা পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। সেদিন হাসিনা আমাকে টেলিস্কোপ দিয়ে খুঁজছিল। আমি কারো ভয় করি নাই। সেদিন বলেছিলাম প্রাকৃতিক বিপর্যয় আল্লাহর পরীক্ষা। তবে তাকে অবহেলা করা জঘন্য অপরাধ। অবহেলিত মনুষের পাশে দাঁড়াতে হবে এটা দায়িত্ব ছিল সরকারের। আমরা খোলা পানিতে নেমেছি, হাটু পানিতে নেমেছি, কিন্তু সে দিন হাসিনা হেলিকপ্টারে করে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। পানিতে নামা তো দূরের কথা মাটিতেও পা রাখেনি হাসিনা। আমরা জেল জুলুম মাথায় নিয়ে বাংলাদেশের এক মাথা থেকে অন্য মাথায় ঘুরছি। আমরা মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা সাড়ে ১৫ বছর লড়াই করেছি কিছুই করতে পারিনাই। তিনি গতকাল রোববার দুপুর ২টার দিকে জামালপুর সিংহজানী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে এসব কথা বলেন। জামায়াতের জেলা আমীর মাওঃ মুহাম্মদ আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে জেলা সেক্রেটারি এড. আব্দুল আওয়ালের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ও জামালপুর-২ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি পদপ্রার্থী ড. ছামিউল হোক ফারুকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জি এস এস এম ফরহাদ। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের ময়মনসিংহ টিম সদস্য মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব লুৎফর রহমান, জামায়াত মনোনীত জামালপুর-১ আসনের এমপি পদপ্রার্থী এড. নাজমুল হক সাঈদী, জামালপুর -৩ আসনের এমপি পদপ্রার্থী অধ্যাপক মাওঃ মুজিবুর রহমান আজাদী, জামায়াতে নেতা এডভোকেট শামসুল হক প্রমুখ। প্রধান অতিথি আরো বলেন, আমরা মা বোনদের বলব তোমাদের কাছে আমারা ঋণী। আমরা জীবন দিয়েছি, আয়না ঘরের সঙ্গী হয়েছি, মা বোনেরাও জেলে গিয়েছে, অবুঝ শিশুদেকেও জেলে যেতে হয়েছে। তিনি বলেন, যুবকদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না। তাদের হাতে কর্ম তুলে দিতে চাই। আমরা কারো গায়ে হাত দিব না, ব্যাংক খালি করবো না, চাঁদাবাজি করবো না, দুর্নীতি করব না করতে দিবোন। তিনি বলেন, যুবক-যুবতিদের আমরা তাদের হাত মজবুত করে দিব, দেশ গড়ার কারিগর বাংলাদেশকে তাদের হাতে তুলে দেব।
শেরপুর জেলা সংবাদদাতা: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান শেরপুর জেলার তিনটি নির্বাচনী এলাকায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় অংশগ্রহণ করে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
১ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শেরপুরে পৌঁছে তিনি শ্রীবরদী উপজেলার চাউলিয়া গ্রামে সাবেক এমপির সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ মাওলানা রেজাউল করিমের কবর জিয়ারত করেন। পরে শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সমবেদনা জানান।
দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে শেরপুর শহীদ দারোগালী পার্কে আয়োজিত বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১০ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে ইনশাআল্লাহ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা হবে এবং ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে।”
তিনি শেরপুর জেলার উন্নয়ন প্রসঙ্গে বলেন, “আমরা সরকার গঠন করতে পারলে শেরপুর জেলায় একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং রেললাইন যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হবে ইনশাআল্লাহ।”
পথসভা শেষে তিনি শেরপুর জেলার তিনটি নির্বাচনী এলাকার জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন। মনোনীত প্রার্থীরা হলেন-
শেরপুর-১ (সদর) আসনে হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনে মো. গোলাম কিবরিয়া এবং শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে আলহাজ্ব মো. নুরুজ্জামান বাদল।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা আমীর মাওলানা মো. হাফিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি ডা. ছামিউল হক ফারুকী, জেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ডা. শাহাদাৎ হোসেনসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং ১০ দলীয় জোটের নেতারা।
মিরপুরে আমীরে জামায়াত
জনগণের সম্পদে কখনো হাত না দেয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতি আমাদের চরিত্র ও খাসলতের সঙ্গে যায় না। বরং জনগণের যে আমানত লুণ্ঠিত হয়েছে, তা তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।
গতকাল রোববার বিকেল সাড়ে ৪টায় উত্তর কাফরুল ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বাইশটেকি কবরস্থান মসজিদের সামনে থেকে ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনে আয়োজিত গণসংযোগ ও মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের কথাবার্তায় যদি কোনো মা-বোন কষ্ট পেয়ে থাকেন, তাহলে আল্লাহর ওয়াস্তে আমাদের ক্ষমার চোখে দেখবেন। আমরা যেন নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের জন্য কাজ করতে পারিÑআল্লাহ যেন আমাদের কবুল করে নেন। আমরা কোনো ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে চাই না।’
গণসংযোগ ও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন,কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান,বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মো. তসলিম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, কাফরুল দক্ষিণ থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল করিম, থানা সেক্রেটারি মো. আবু নাহিদসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও দায়িত্বশীলরা।
সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন।