বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ সতের বছর পর দেশে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো। তিনি দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্বে বন্ধন আরো মজবুত করতে ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করছে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরষ্পরে নানামুখী বক্তব্য নিয়ে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরী হয়েছে। অপরদিকে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও অবনতি হয়েছে। একটি বড় দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তারেক রহমান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য আরো মজবুত করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরী করবেন বলে প্রত্যাশা রয়েছে অনেকের।
গতকাল বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাকে সংবর্ধনা দিতে রাজধানীতে লাখো লাখো নেতাকর্মীদের ঢল নেমেছে। তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের জুলাই আন্দোলনের পর দীর্ঘ ১৭ বছরের জুলুম নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু দলের অভিভাবক তারেক রহমান দেশে না ফেরায় অনেকের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছিল। আগামী নির্বাচন নিয়েও নানা ধরনের জটিলতা দেখা দিয়েছিল। তাদের প্রিয় নেতা দেশে ফেরায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ বেড়েছে। বেড়েছে সাহস ও কর্মস্পীহা।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরায় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব আরো মজবুত ও দৃঢ় করবেন বলে প্রত্যাশা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোর। দলগুলো তার দেশে ফেরাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, এর মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। তিনি দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য আরো দৃঢ় করবেন বলে প্রত্যাশা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘একজন বাংলাদেশী নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এই অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।’
ফেসবুক পেজে একপোস্টে নাহিদ ইসলাম লিখেছেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একজন বাংলাদেশী নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এই অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক প্রতিফলন।’
তারেক রহমানের রাজনৈতিক জীবনধারা নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তারেক রহমান এবং তার পরিবার রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং তাকে দীর্ঘ সময় নির্বাসিত থাকতে হয়েছে। হাজারো শহীদের রক্তদানের মধ্য দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের ফলে এমন প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে যেখানে তিনি ও তার পরিবার দেশে ফিরে আসতে পেরেছেন।’
ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমরা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ রাষ্ট্র চাই যেখানে ভবিষ্যতে ভিন্নমতের কারণে কোনো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যাতে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। বিগত দেড় দশকের অবরুদ্ধ রাজনৈতিক পরিবেশ ভেঙে আমরা আজ যে মুক্ত বাংলাদেশের পথে হাঁটছি, সেখানে প্রতিটি নাগরিকের আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
নতুন বাংলাদেশে তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চাকে আরও সুসংহত করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ। তারেক রহমানকে স্বদেশে স্বাগত জানাই। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে তাঁর এই অংশগ্রহণ ফলপ্রসূ হোক।’
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তারেক রহমানের আগমন দেশের রাজনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব রাখবে বলে আমরা আশা করি। কারণ দেশের রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছিল। বিশেষ করে বিএনপির মতো বৃহৎ একটি দল সরাসরি নেতৃত্ব বঞ্চিত ছিল। তারেক রহমানের আগমনে সেই শুন্যতা পূরণ হবে বলে আশা করা যায়।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, দেশে যখন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও নির্বাচন হবে কি না- এ নিয়ে মানুষের মধ্যে শঙ্কা ছিল, এমন প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান দেশে ফেরায় নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা দূর হলো।
নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সপরিবারে বাংলাদেশে ফিরে আসায় অভিনন্দন জানিয়েছে খেলাফত মজলিস।
খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের প্রদত্ত এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নিপীড়িত একজন বাংলাদেশী নাগরিক ও রাজনৈতিক নেতার নিজ ভূমিতে ফেরার এই অধিকারটি পুনরুদ্ধার হওয়া আমাদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়েরই একটি ইতিবাচক অর্জন। আমরা দেশপ্রেম ও ইসলামী মূল্যবোধে বিশ্বাসী বাংলাদেশ রাষ্ট্র চাই যেখানে ভবিষ্যতে ভিন্ন মতের কারণে কোনো রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের যাতে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।
জনাব তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন দেশের ভিন্নমতের রাজনীতি চর্চা এবং আধিপত্যবাদী শক্তির মোকাবেলায় জাতীয় ঐক্য আরও সুসংহত করবে বলে আমরা আশা করি। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় সহাবস্থান এবং সুস্থ প্রতিযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ।