'মজলুম ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দীর্ঘদিনের জুলুম-বঞ্চনার অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই নিজের সামাজিক ও রাজনৈতিক পথচলা'—এমন মন্তব্য করেছেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের আমীর ও জামায়াত মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্য জোটের উখিয়া-টেকনাফ (কক্সবাজার-৪) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী নুর আহমেদ আনোয়ারী।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের ফলিয়াপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নুর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, গত সতের মাস ধরে এ এলাকার সাধারণ মানুষ জুলুম, অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার। বহু নিরপরাধ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হয়েছে। এই বাস্তবতা থেকে মুক্তি দিতেই ইনসাফভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথে তিনি এগিয়ে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, “আমি কোনো প্রতিশোধের রাজনীতি করতে আসিনি। আমার লক্ষ্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনের সুশাসন নিশ্চিত করা এবং নিরপরাধ মানুষের অধিকার রক্ষা করা। মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করা কখনোই ইনসাফের পথ হতে পারে না।”

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে বিভিন্ন সময়ে অনেক মানুষ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে পড়েছেন। এর ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হলে এই সংকটের কার্যকর ও ন্যায়সংগত সমাধান সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠান শেষে নুর আহমেদ আনোয়ারী বলেন, ইনসাফ প্রতিষ্ঠা ছাড়া সমাজে প্রকৃত শান্তি ফিরে আসবে না। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে তিনি আজীবন মজলুম মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল ফ্যামেলি কার্ড দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভোট আদায়ের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, বাস্তবে এটি একটি নতুন ধরনের চাঁদাবাজির ফাঁদ। গরিব ও অসহায় মানুষের নাম তালিকাভুক্ত করার কথা বলে তাদের রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অন্যায়। এ ধরনের প্রতারণামূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল হক, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুর রহিম, জামায়াত নেতা ও সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার, এবি পার্টির সভাপতি সৈয়দ হোসেন চৌধুরী, উপজেলা ছাত্রশিবির সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।